‘সুস্থ নারী, সুস্থ পরিবার, সমৃদ্ধ বাংলাদেশ’ এবং ‘মানবাধিকার কোনো দান নয়, এটি আমাদের জন্মগত অধিকার’—এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সিলেটে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সচেতনতামূলক কর্মসূচি এবং ডায়াবেটিস পরীক্ষা, প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণবিষয়ক বিনামূল্যের সেমিনার অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) সকাল সাড়ে ১০টায় সিলেটের জালালাবাদ থানাধীন শিবের বাজারের পাগাইল এলাকায় ওয়ার্ল্ড ভিশন শ্রমজীবী সমবায় সমিতির কার্যালয়ে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক)-এর সিলেট বিভাগীয় কমিটির উদ্যোগে এবং জালালাবাদ থানা কমিটির সহযোগিতায় এ কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।
আসকের সিলেট বিভাগীয় সভাপতি এম এ ওয়াদুদ আল মামুনের সভাপতিত্বে এবং বিভাগীয় সাধারণ সম্পাদক চৌধুরী নাজমুল হাসানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় চেয়ারম্যান রকিব আল মাহমুদ। প্রধান আলোচক হিসেবে বক্তব্য দেন ডায়াবেটিস ও ডায়াবেটিক ফুট চিকিৎসক ডা. এম মঞ্জুর আহমেদ (সজিব)।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন আসকের কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিচালক লাকী আক্তার নুপুর, সিলেট বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক রেজওয়ানুল আজিজ সজিব, আজীবন সদস্য সিদ্দিকুর রহমান জুন্মান, জালালাবাদ থানা কমিটির সভাপতি ময়না মিয়া, সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া আহমদ সজিবসহ থানা কমিটির নেতৃবৃন্দ।
সেমিনারে বক্তারা বলেন, একজন সুস্থ নারী একটি সুস্থ পরিবারের ভিত্তি। সুস্থ পরিবার গড়ে তোলে সুস্থ সমাজ, আর সুস্থ সমাজই পারে উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ বিনির্মাণ করতে। তাই নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা কেবল ব্যক্তিগত বিষয় নয়; এটি পরিবার, সমাজ ও রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব।
তাঁরা বলেন, পরিবারের সদস্যদের যত্ন নিতে গিয়ে অনেক নারী নিজেদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি যথাযথ গুরুত্ব দেন না। এ প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে। একই সঙ্গে বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে পরিবার ও সমাজের সবাইকে সচেতন ভূমিকা পালন করতে হবে।
বক্তারা আরও বলেন, ডায়াবেটিস প্রতিরোধ ও নিয়ন্ত্রণে জনসচেতনতা, নিয়মিত স্বাস্থ্য পরীক্ষা এবং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে চলা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অর্থের অভাবে যেন কোনো নারী চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন, কোনো মা অবহেলার শিকার না হন এবং প্রত্যেক নারী যেন সুস্থ, নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপনের সুযোগ পান—সে লক্ষ্যে সবাইকে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বক্তারা মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, নারীর স্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁরা বলেন, মানবাধিকার কোনো দান নয়; এটি মানুষের জন্মগত অধিকার। এ অধিকার প্রতিষ্ঠা ও সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক মানবাধিকার আইন সহায়তা কেন্দ্র (আসক) কাজ করে যাবে।
