নিজস্ব প্রতিবেদক, সিলেট:
সিলেটের গোয়াইনঘাট উপজেলায় পণ্যবাহী গাড়ি আটকে চাঁদা আদায়ের অভিযোগে ছাত্রদলের আট নেতাকর্মীকে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে জেলা ছাত্রদল। নোটিশ পাওয়ার ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে তাঁদের লিখিত জবাব দিতে বলা হয়েছে। একই সঙ্গে অভিযোগের সত্যতা যাচাইয়ে দুই নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন সিলেট জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমদ জুবের। এর আগে সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে জেলা ছাত্রদলের সহ-দপ্তর সম্পাদক জয়নাল আবেদীন রাহেলের সই করা বিজ্ঞপ্তিতে অভিযুক্তদের শোকজ করা হয়।
শোকজপ্রাপ্ত নেতাকর্মীরা হলেন গোয়াইনঘাট উপজেলার ফতেহপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সভাপতি নাজিম উদ্দীন, সিনিয়র সহসভাপতি জামাল উদ্দিন, সহসভাপতি বেলাল আহমেদ, সাধারণ সম্পাদক তোফায়েল আহমেদ হেলু, সহসাংগঠনিক সম্পাদক গোলাম রব্বানী এবং ইউনিয়ন শাখার নেতা নাজমুল ইসলাম মান্না, শাহরিয়াদ আহমদ ও নাজমুল হাসান নাঈম।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, সিলেট-তামাবিল সড়ক দিয়ে প্রতিদিন ভারতীয় চোরাচালানের পণ্য বহনে ব্যবহৃত বিপুলসংখ্যক ডিআই পিকআপ চলাচল করে। এসব গাড়ির দ্রুতগতির কারণে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়। এ পরিস্থিতিতে সন্ধ্যার পর ফতেহপুর ইউনিয়নের কয়েকজন ছাত্রদল নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে পণ্যবাহী গাড়ি থামিয়ে অর্থ আদায়ের অভিযোগ ওঠে।
সম্প্রতি গাড়ি থামিয়ে টাকা আদায়ের অভিযোগসংক্রান্ত কিছু হোয়াটসঅ্যাপ কথোপকথন ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি জেলা ছাত্রদলের নজরে এলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়।
জেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি জুবের আহমদ জুবের বলেন, অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগ পাওয়া গেছে। এর মধ্যে দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ড ও অবৈধ কার্যকলাপের অভিযোগও রয়েছে। বিষয়গুলো তদন্ত করে দেখার জন্য জেলা পর্যায়ের দুই নেতাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি অভিযুক্তদের কারণ দর্শানোর নোটিশ পাঠানো হয়েছে।
অভিযোগের সত্যতা যাচাই শেষে তদন্তের ভিত্তিতে পরবর্তী সাংগঠনিক সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
