গাজীপুরের টঙ্গীতে ছয় বছরের এক শিশুশিক্ষার্থীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে মাদ্রাসার এক শিক্ষক গ্রেপ্তার হওয়ার পর এবার শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ। শিক্ষককে মারধর ও মাদ্রাসায় ভাঙচুরের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির অধ্যক্ষের করা মামলায় তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

এদিকে, শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের পাল্টাপাল্টি মামলায় নতুন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাতে বিষয়টি নিশ্চিত করেন টঙ্গী পশ্চিম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আরিফ হোসেন।

তিনি জানান, শিশুটিকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে অভিযুক্ত শিক্ষককে ঘটনার দিনই গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। অন্যদিকে, মাদ্রাসায় হামলা, ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান চালাচ্ছে। তাঁকে গ্রেপ্তারের ক্ষেত্রে কোনো ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান ওসি।

যেভাবে ঘটনার সূত্রপাত

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা যায়, টঙ্গীর আউচপাড়ার শফিউদ্দিন রোডে অবস্থিত ক্বরিউল কুরআন ইন্টারন্যাশনাল মাদ্রাসায় ছয় বছরের এক ছাত্রীকে চুমু দেওয়ার অভিযোগকে কেন্দ্র করে ঘটনাটির সূত্রপাত হয়।

এ ঘটনায় করা মামলায় মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল মো. মোসলেম আহমদকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর বাড়ি কুড়িগ্রামের রৌমারী থানার কর্তিবাড়ী মাস্টারপাড়া এলাকায়। তিনি টঙ্গীর আউচপাড়ায় ভাড়া বাসায় থাকতেন।

শিশুটির পরিবারের অভিযোগের পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা তৈরি হয়। পরে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকেও পাল্টা মামলা করা হয়।

মাদ্রাসায় ভাঙচুর ও মারধরের অভিযোগ

মাদ্রাসার অধ্যক্ষ ক্বারী মো. আলমাছ হোসেন গাজীপুরীর অভিযোগ, একদল লোক প্রতিষ্ঠানে প্রবেশ করে ভাঙচুর চালায় এবং শিক্ষক-কর্মচারীদের মারধর করে। এ ঘটনায় তিনি থানায় মামলা করেছেন।

ওই মামলায় শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করা হয়েছে। এই মামলার ভিত্তিতেই রুমিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চালাচ্ছে পুলিশ।

তবে অভিযোগগুলোর বিষয়ে আদালতের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো জানা যায়নি। ফলে উভয় পক্ষের বক্তব্য ও অভিযোগকে তদন্তসাপেক্ষ বিষয় হিসেবে দেখা হচ্ছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন বিতর্ক

ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও আলোচনা-সমালোচনা অব্যাহত রয়েছে। শিশুটির বাবা শাহজালাল রুমিকে উদ্দেশ করে ধর্মীয় বক্তা জুবায়ের আহমাদ তাশরিফের ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যের বিভিন্ন অংশ ছড়িয়ে পড়েছে।

ওই বক্তব্যে রুমিকে হত্যার ইচ্ছা প্রকাশ ও হুমকি দেওয়ার অভিযোগ ওঠায় নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে।

সব মিলিয়ে, শিশুকে চুমু দেওয়ার অভিযোগে শিক্ষক গ্রেপ্তার, মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পাল্টা মামলা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া বক্তব্যকে কেন্দ্র করে ঘটনাটি নতুন মাত্রা পেয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, মামলার আসামি শাহজালাল রুমিকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *