যুক্তরাষ্ট্রের ২০২৬ সালের মধ্যবর্তী নির্বাচনে এবার সবার নজর কেড়েছেন বেশ কয়েকজন মুসলিম-আমেরিকান প্রার্থী। মার্কিন সিনেট, কংগ্রেস থেকে শুরু করে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যের আইনসভা আর গুরুত্বপূর্ণ কাউন্টি পদে লড়ছেন তারা।
শুধু অংশ নেওয়াই নয়, এবারের ভোটে জিততে পারলে তাদের অনেকেই আমেরিকার রাজনীতিতে নতুন ইতিহাস তৈরি করবেন। এমন ১২ জন আলোচিত মুসলিম প্রার্থীর দিকে এখন তাকিয়ে আছেন বিশ্লেষকরা।
এদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় আছেন মিশিগান থেকে মার্কিন সিনেটে লড়া আব্দুল এল-সায়েদ। তিনি জয় পেলে মার্কিন সিনেটের ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর হবেন। অন্যদিকে নিউজার্সির ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে লড়ছেন অ্যাডাম হামাউই। তিনি জিতলে নিউজার্সি থেকে কংগ্রেসে নির্বাচিত প্রথম মুসলিম হিসেবে ইতিহাস গড়বেন।
রাজ্য আইনসভাগুলোতেও মুসলিম প্রার্থীরা ঐতিহাসিক পরিবর্তনের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন। নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটের ১২তম আসনে লড়ছেন আবের কাওয়াস। জিতলে নিউইয়র্কের আইনসভায় প্রথম ফিলিস্তিনি-আমেরিকান হিসেবে দায়িত্ব পাবেন তিনি।
এছাড়া মিশিগান স্টেট সিনেটের ২য় আসনে লড়ছেন আব্বাস আলাউইয়েহ। তার সামনে সুযোগ আছে মিশিগান স্টেট সিনেটে প্রথম আরব মুসলিম হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার। কানেকটিকাট স্টেট সিনেটের ২য় আসনে লড়ছেন মরিয়ম খান। তিনি এর আগেই কানেকটিকাট প্রতিনিধি পরিষদের প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন, এবার সিনেট আসনের জন্য লড়ছেন।
এই নতুন মুখদের পাশাপাশি মার্কিন কংগ্রেসে পরিচিত ও শক্তিশালী মুসলিম মুখ হিসেবে লড়ছেন মিনেসোটার ৫ম ডিস্ট্রিক্ট থেকে ইলহান ওমর এবং মিশিগানের ১২তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে রাশিদা তালাইব।
এছাড়া নিউইয়র্কের ১৩তম ডিস্ট্রিক্ট থেকে দারিয়ালিজা আডিলা শেভালিয়ার, ক্যালিফোর্নিয়ার ১৪তম ডিস্ট্রিক্টে আয়েশা ওয়াহাব এবং ১২তম ডিস্ট্রিক্টে লতিফা সাইমন লড়ছেন। জর্জিয়া স্টেট সিনেটের ৭ম আসনে রুওয়া রোমান এবং টেক্সাসের হ্যারিস কাউন্টি জজ পদে লড়ছেন লেটিশিয়া প্লামার।
সব মিলিয়ে ২০২৬ সালের এই মধ্যবর্তী নির্বাচনে ফেডারেল, স্টেট এবং স্থানীয় পর্যায়ের বিভিন্ন পদে সারা দেশে কয়েক ডজন মুসলিম-আমেরিকান প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। বিশ্লেষকদের মতে, দেশজুড়ে বিভিন্ন নির্বাচিত পদে মুসলিম-আমেরিকানদের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ মার্কিন রাজনীতিতে তাদের ক্রমবর্ধমান প্রভাব ও শক্তিশালী অবস্থানেরই স্পষ্ট প্রমাণ।
