সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যানসহ চার নেতাকে আ’লীগ থেকে অব্যাহতি ইনাতগঞ্জে শালিস বৈঠকে পরিকল্পিত হামলা নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ ৫জন আহত লাখাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ চুনারুঘাট যুব এসোসিয়েশনের ঈদ পূর্ণমিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ তাহিরপুরে প্লাবিত হয়ে প্রায় অর্ধশত গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বাহুবল৭নং ভাদেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সভাপতি নির্বাচিত বশির বাহুবলে পুটিজুরী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগেরত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষনা মধ্যনগর থানার ওসি জাহিদুল হক দোয়ারাবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

হবিগঞ্জের হাওরাঞ্চলে দেশীয় মাছের আকাল

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১
  • ৫১২ বার পড়া হয়েছে

মঈন উদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ ॥ এক সময়ে গর্ব করে বলা ‘ভাতে মাছে বাঙালী’ কথাটি ক্রমান্বয়ে কোনঠাসা হয়ে পড়েছে। কাগজে কলমে প্রকৃতিতে এখন ভরা বর্ষা মৌসুম হলেও বাস্তবে তেমন একটা পরিলক্ষিত হচ্ছে না। তাঁর অন্যতম কারণ হাওরাঞ্চলের নদ-নদীতে পানি নেই। যেখানে পানি নেই, সেখানে মাছের প্রাচুর্যতা আশা করা যায় না। বাংলাদেশ নদী মাতৃক দেশ। এ দেশে ৪ শতাধিক নদী আছে, আছে অসংখ্য খাল-বিল, নালা, ডোবা। এক সময় খাল বিলে প্রচুর পরিমানে দেশীয় মাছ উৎপাদন হতো।

কালের বিবর্তনে দেশীয় মাছ আজ বিলুপ্তির পথে। এমনকি ২৬০ প্রজাতির দেশীয় মাছ থেকে ৭০ প্রজাতির দেশীয় মাছ আজ বিলুপ্ত প্রায়। গ্রামীণ সমাজে এক সময় জাল, ফেলুন, পলো, বরশি দিয়ে মাছ ধরতে যেখা যেতো। বৃষ্টির দিনে শিং, মাগুর, কই মাছ পুকুর থেকে পাড়ে ওঠে আসতো। তখন নারী-পুরুষ এগুলো ধরতে রীতিমতো প্রতিযোগিতায় নামতো। কিন্তু সেই দৃশ্য এখন খুব একটা চোখে পড়ে না।

হবিগঞ্জের বনিয়াচং ও আজমিরীগঞ্জকে হাওর এলাকা হিসেবে অভিহিত করা হয়। এমনকি এসব হাওরেও এখন আগের ন্যায় মাছ উৎপাদন হচ্ছে না। বর্ষা মৌসুমে বানিয়াচঙ্গের হাট বাজার দেশীয় মাছে সয়লাব থাকতো। কিন্তু সেখানেও এখন দেশীয় মাছের আকাল। কোন জেলে বাজারে দেশীয় মাছ বিক্রির জন্য নিয়ে এলে হুমড়ি হয়ে পড়েন ক্রেতারা। তখন সুযোগ বুঝে বিক্রেতা মূল্য বাড়িয়ে দেন। মাছের মূল্য আকাশচুম্বী হওয়ায় সাধারণ মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়।
হাফেজ আবু বকর নামে এক ক্রেতা জানান, বানিয়াচঙ্গে প্রচুর বিদেশি মাছ চাষ হচ্ছে। বিদেশী মাছ চাষ হওয়াতে মিঠা পানির সু-স্বাদু মাছ উৎপাদন হওয়ার ক্ষেত্র কমে গেছে। তা ছাড়া হাওরে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের কারণে দেশীয় মাছের প্রজনন ক্রমশ নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে হাওর এলাকা হিসেবে পরিচিত বানিয়াচং-আজমিরীগঞ্জে দেশীয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে।


ইমদাদুল হোসেন খান নামে একজন গণমাধ্যম কর্মী বলেন, হাওর-বাওর ও ছোট ছোট জলাশয় শুকিয়ে মাছ ধরা, সড়ক ও বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণের কারণে সমতল ভূমিতে যথাসময়ে পানি না ওঠা, বর্ষা মৌসুমে পানি বৃদ্ধির সাথে সাথে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল, কোনাজাল দিয়ে মাছ ধরা, জমিতে মাত্রাতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহার ও জ্যৈষ্ট আষাঢ় মাসে অবাদে রেণু পোনা আহরণ করার ফলে দিন দিন দেশীয় মাছ হ্র্রাস পাচ্ছে।
বানিয়াচং উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, পর্যাপ্ত পানি না হওয়া, নির্বিচারে মাছ ধরা, রেণু নিধন, কারেন্ট জাল ব্যবহারের কারণে মিঠা পানির সু-স্বাদু মাছ ক্রমশ হ্রাস পাচ্ছে। তাছাড়া মাছের প্রজনন সময় হচ্ছে বৈশাখ এবং জ্যৈষ্ঠ মাস। এ দু’মাসে যদি পর্যাপ্ত পানি থাকে এবং মা মাছ ও পোনা মাছ নিধন না করা হয় তাহলে আশা করা যায় আবারও এসব অঞ্চলে দেশীয় মাছের অভয়ারণ্য হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর