
বিশ্বের অনেক দেশে ব্যবহৃত স্মার্টফোনে এখনও সরাসরি স্যাটেলাইট সংযোগ বা ডিরেক্ট-টু-ডিভাইস (ডিটুডি) পরিষেবা সচল করা সম্ভব হয়নি। কারণ, এর পেছনে রয়েছে বেশ কিছু কারিগরি প্রতিবন্ধকতা। অনেক দেশের টেলিকম সংস্থা এসব তথ্য দিয়েছে অ্যাপলকে।
কী বলছে অ্যাপল
স্যাটেলাইট পরিষেবা সচল করতে আইফোনের হার্ডওয়্যারে অনেক ধরনের কারিগরি পরিবর্তন বা নতুন করে সার্টিফিকেশন দরকার হতে পারে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এখন সক্রিয় থাকা মোবাইল নেটওয়ার্কের ওপর যেন কোনো ধরনের বাড়তি বা নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে, সেদিকেও বিশেষ নজর দিতে হবে সংস্থাকে। আরেক টেক জায়ান্ট গুগলও ডিটুডি পরিষেবা নিয়ে এমন উদ্বেগের কথা বলেছে।
সংস্থাটি বলছে, স্মার্টফোনে স্যাটেলাইট পরিষেবার জন্য যে ধরনের ব্যাটারির সক্ষমতা প্রয়োজন, তা এখনও বাস্তব করা সম্ভব হয়নি।তা ছাড়া খুদে অ্যান্টেনা, দুর্বল সিগন্যাল আর চলমান ফোরজি-ফাইভজি নেটওয়ার্কের মধ্যে কারিগরি মিশেল এখন সবচেয়ে কঠিন কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
অ্যাপল আর গুগল– এ দুই সংস্থাই বলছে, স্যাটেলাইট প্রযুক্তিকে সাধারণভাবে ব্যবহারযোগ্য করার যথার্থ সময় এখনও হয়নি।
এর জন্য আরও সময় অপেক্ষা করতে হবে।
অনেক ধরনের শিল্প সংস্থাই পরামর্শ দিয়েছে, স্যাটেলাইট প্রযুক্তি ঠিকমতো রূপান্তর না হওয়া পর্যন্ত, অর্থাৎ কারিগরি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ না হলে কয়েক বছর অপেক্ষা করা উচিত।
চীনে ২০২৭ সালে অনুষ্ঠিতব্য ওয়ার্ল্ড রেডিও কমিউনিকেশন সম্মেলনে (ডব্লিউআরসি-২৭) স্যাটেলাইটনির্ভর ডিটুডি পরিষেবার জন্য আন্তর্জাতিক স্পেকট্রাম ব্যান্ড চূড়ান্ত করার বিষয়ে আলোচনার কথা রয়েছে।
লাগবে না টাওয়ার
ইতোমধ্যে ডিটুডি প্রযুক্তি নিয়ে পরামর্শপত্র প্রকাশ করা হয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই পরিষেবা চালু হলে মোবাইল টাওয়ার না থাকলেও স্মার্টফোন সরাসরি স্যাটেলাইটের মাধ্যমে সংযোগ স্থাপন করতে পারবে। বর্তমানে কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও অস্ট্রেলিয়ার মতো কয়েকটি দেশে আপাতত এই প্রযুক্তি ক্রমে সক্রিয় করার কাজ এগিয়ে চলেছে। ডিটুডি পরিষেবা চালু হলে স্মার্টফোনের সক্ষমতা অন্য মাত্রায় পৌঁছে যাবে।