1. admin@amarsylhetnews.com : admin2020 :
  2. zoshim98962@gmaiil.com : আমার সিলেট ডেস্ক : আমার সিলেট ডেস্ক
  3. amarsylhetnews@gmail.com : আমার সিলেট নিউজ : আমার সিলেট নিউজ
  4. editor@amarsylhetnews.com : Amar SylhetNews : Amar SylhetNews

    মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২১, ০৪:৫৬ অপরাহ্ন

করোনায় চাকুরী হারানো কাকলী খান একজন সফল উদ্যোক্তা

  • আপডেট সময় সোমবার, ১৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১
  • ৩৮ বার পড়া হয়েছে

মঈন উদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ ॥ কাকলী খান। ঢাকার জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে দর্শন বিভাগে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করে চাকুরী নেন অতীশ দিপংকর বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসন বিভাগে। কিন্তু করোনার কারনে যখন সবকিছু স্তবির প্রায় তখন চাকুরী হারাতে হয় কাকলীকে।

নিরুপায় হয়ে দুই শিশু সন্তাননে নিয়ে তিনি চলে আসেন স্বামী মাহমুদ খায়ের এর গ্রামের বাড়ীতে। হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার বাঘমাড়া গ্রাম থেকে স্বামী মাহমুদ খায়ের চাকুরী করেন বাহুবল উপজেলার আলিফ সোবহান বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে।

মাহমুদ খায়ের স্ত্রীকে সান্তনা দেন তার আয়েই চলবে পরিবার। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় পড়–য়া কাকলী খান ঘরে বসে গৃহিনী হয়ে বসে থাকবেন তা চিন্তাই করতে পারেন না। কিছু একটা করার জন্য অবিমার চেষ্টা চালিয়ে যান। ইন্টারনেটে খুজে দেখেন কিছু পাওয়া যায় কিনা।

এভাবে তিনি বিভিন্ন নারী উদ্যোক্তার পেইজ দেখতে পান। বিশেষ করে নারী উদ্যোক্তাদের ফ্লাটফর্ম উই এর সাথে পরিচয় হয় তার। এর পর তিনি নিজেই শুরু করেন অনলাইনে ব্যবসা। এখন তিনি একজন সফল উদ্যোক্তা। চাকুরীর চেয়েও বেশী আয় আসে তার। এতে পরিবারেও এসেছে স্বচ্ছলতা। অন্যরাও তাদে দেখে অনুপ্রাণিত হচ্ছে।

কাকলী খান জানান, ২০১৬ সালে তার বিয়ে হয়। এর পর জন্ম নেয় দুই ছেলে সন্তান। তাদেরকে নিয়েই কষ্ট করে চাকুরী করতেন ঢাকায়। কিন্তু করোনার কারনে চাকুরী হারানোর পর টং শোয়ারী নামে একটি অনলাইন ব্যবসা শুরু করি। শ্রীমঙ্গল থেকে সংগ্রহ করি চা পাতা, গ্রীণ ট্রি, মনিপুরী শাড়ী,শাল ও ওড়না।

সাথে সিলেটের বিখ্যাত শীতলপাটি। ২০২০ সালের জুলাই মাসে যখন ব্যবসা শুরু করি তখন খুব একটা কাটতি না থাকলে মানসম্মত পণ্য সরবরাহের কারনে এখন ব্যস্থতার শেষ নেই তার। ব্যবসা শুরুর পর থেকে প্রায় ১১ লাখ টাকার পণ্য বিক্রি করে আয় হয়েছে ৫ লাখ টাকা।

লন্ডন, আমেরিকা, সৌদি আরব, গ্রীস আর দুবাইয়ে ডিএইচএল এর মাধ্যমে পার্সেল করে পণ্য সরবরাহ করার পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিতই সুন্দরবন কুরিয়ারে বুকিং দিতে হয় এসকল পণ্যের। ঢাকা, চট্টগ্রাম ও উত্তরবঙ্গ থেকে অর্ডার আসে বেশী।

প্রতিদিন তিনি চুনারুঘাট শহরে এসে পণ্য বুকিং দেন। মাঝে মাঝে স্বামী মাহমুদ খায়েরও বুকিং দিতে নিয়ে যান। আর কারও সহযোগিতার প্রয়োজন হয়না।

কাকলী খান জানান, তার এই সফলতায় স্বামী মাহমুদ খায়েরও আনন্দিত। পরিচিত অনেকেই পরামর্শ নিতে আসে কিভাবে এই ব্যবসা করা যায়। আমি সবাইকে সহযোগিতা করি। প্রতিদিন যেভাবে ব্যবসার প্রসার ঘটছে এতে করে আমার চাকুরী নিয়ে আর কোন দুঃখ নেই। বরং এখন আমি আমার সন্তান ও পরিবারকে আরও বেশী সময় দিতে পারছি। আবার আয়ও বেশী হচ্ছে। সমাজে নিজের একটি ভাল অবস্থান তৈরি করাও সম্ভব হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর