সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জ সদর উপজেলা চেয়ারম্যানসহ চার নেতাকে আ’লীগ থেকে অব্যাহতি ইনাতগঞ্জে শালিস বৈঠকে পরিকল্পিত হামলা নবীগঞ্জ প্রেসক্লাবের সভাপতিসহ ৫জন আহত লাখাইয়ে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান গোল্ডকাপ ফুটবল টুর্নামেন্টের ফাইনাল ও পুরস্কার বিতরণ চুনারুঘাট যুব এসোসিয়েশনের ঈদ পূর্ণমিলনী ও সংবর্ধনা অনুষ্ঠিত প্রকাশিত সংবাদের প্রতিবাদ তাহিরপুরে প্লাবিত হয়ে প্রায় অর্ধশত গ্রাম যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন বাহুবল৭নং ভাদেশ্বর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের ত্রি-বার্ষিক সম্মেলন বিনা প্রতিদ্বন্দিতায় সভাপতি নির্বাচিত বশির বাহুবলে পুটিজুরী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগেরত্রি-বার্ষিক সম্মেলন ও কাউন্সিল অনুষ্ঠিত মাদক ও জুয়ার বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্সের ঘোষনা মধ্যনগর থানার ওসি জাহিদুল হক দোয়ারাবাজারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে যুবকের মৃত্যু

স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও চুনারুঘাট উপজেলার ৭টি বধ্যভূমি চিহ্নিত হয়নি

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১ এপ্রিল, ২০২২
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

মঈন উদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ : মহান স্বাধীনতার মাস আজ বৃহস্পতিবার শেষ হচ্ছে। স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারত সীমান্তবর্তী হবিগঞ্জের একমাত্র চুনারুঘাটেই এখনও জীবিত আছেন ৫ শতাধিক বীর মুক্তিযোদ্ধা। যুদ্ধে শহীদ হয়েছেন অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা। পাহাড়ী ও চা বাগানের অভ্যান্তরে অযতœœ আর অবহেলায় পড়ে আছে তাদের স্মৃতিচিহ্ন। অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও আওয়ামী সমর্থকদের হত্যার স্মৃতিস্থল বধ্যভূমিগুলো এখনও চিহ্নিত করা যায়নি। প্রভাবশালীদের দখলে রয়েছে যুদ্ধের নানা স্মৃতি বিজড়িত স্থানগুলো। এ নিয়ে জীবিত মুক্তিযোদ্ধাদের আক্ষেপ অনেক দিনের। স্বাধীনতার ৫০ বছর পরও দেশ ও জাতি জানতে পারেনি চুনারুঘাটের এসব বধ্যভূমির কথা।
উপজেলার ৭টি বধ্যভূমি আজো চিহ্নিত করা যাযনি। ঐ বধ্যভূমিতে নিহতদের স্মরণে নির্মিত হয়নি কোন স্মৃতিস্তম্ভ। এগুলো হলো- উপজেলার গাজীপুর ইউনিয়নের দিঘিরপাড়। এখানে পাক হায়েনারা অসংখ্য মুক্তিযোদ্ধা ও স্বাধীনতাকামীদের ধরে এনে হত্যা করেছে। যার পরিসংখ্যান কারো কাছে নেই। উপজেলার আহমদাবাদ ইউনিয়নের আমুরোড গোছাপাড়া এলাকার পাল বাড়ি ও ধোপা বাড়িতে পাকিস্তানী সেনারা হত্যা করে ৮জন মুক্তিযোদ্ধাসহ ২২ জন গ্রামবাসীকে। তাদের মধ্যে আঃ রশিদ, রৌশন আলী, নিপিন পাল, হরেন্দ্র পাল, রাখাল পাল, অক্ষয় শুক্লবৈদ্য, যতিন্দ্র শুক্লবৈদ্য, বজ্রেন্দ্র পাল, টেনু শুক্লবৈদ্য ও সুরেন্দ্র আচার্য্য। উপজেলার পৌর শহরের উত্তর বাজার এলাকায় মরা খোয়াই নদীর পাশে হত্যা করা হয় অসংখ্যা মুক্তিকামী মানুষকে। বড়াইল গ্রামের হিন্দু পরিবারের ৫ জনকে একসাথে হত্যা করা হয় এস্থানে। তারা হলেন বড়াইল গ্রামের যোগেন্দ্র চন্দ্র সরকার, মহেশ চন্দ্র সরকার, রমেশ চন্দ্র সরকার, নৃপেন চন্দ্র সরকার, ডাঃ অশোক মাধব রায়সহ অনেকেই। এ স্থানটি এখন প্রভাবশালীদের দখলে চলে যাচ্ছে। উপজেলার দেউন্দি-শায়েস্তাগঞ্জ সড়কের সাদীপুর নামক স্থানে হত্যা করা হয় ১৯ গ্রামবাসীকে। তাদেরকে উপজেলার ফুলপুর গ্রাম ও লালচান্দ চা বাগান থেকে পাকিস্তানী সেনারা ধরে নিয়ে গুলি করে হত্যা করে। সাদীপুর বধ্যভূমিতে তারা আজো শায়িত। উপজেলার নালুয়া চা বাগানের ধরমনাথ এলাকায় ১৭ জন চা শ্রমিককে হত্যা করে কুয়ার মধ্যে পেলে রাখে পাক সেনারা। এখানে করা হয়েছে চা বাগান। এছাড়া উপজেলার টেকারঘাট গ্রামে হত্যা করা আরো অনেককে। উপজেলার এ ৭টি বধ্যভূমি চিহ্নিত করা কিংবা সংরক্ষন করার উদ্যোগ আজো নেওয়া হয়নি। স্বাধীনতার পক্ষের শক্তি আওয়ামী সরকারও এসব বধ্যভূমি চিহ্নিত করে রক্ষার দায়িত্ব পালন করেনি।
এ ব্যাপারে চুনারুঘাট মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা আঃ গাফ্ফার বলেন, যুদ্ধে যারা প্রাণ হারিয়েছেন, যারা দেশের জন্য জীবন দিয়েছেন তাদের কবর আজো চিহ্নিত হয়নি। এটা আমাদের সকলের ব্যর্থতা। তিনি বধ্যভূমিগুলো রক্ষার জন্য সরকারের কাছে দাবি জানান। তিনি বীর সেনাদের কবরগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে বলেন, আমাদের পরবর্তী প্রজন্মকে স্বাধীনতার ইতিহাস জানাতে এসব কবর ও বধ্যভূমি রক্ষা করা প্রয়োজন। সাবেক কমান্ডার আঃ সামাদ বলেন, আমরা বার বার বধ্যভূমি চিহ্নিত করা এবং এগুলো সংরক্ষণের দাবি জানিয়ে আসছি। কিন্তু পৌরসভার বধ্যভূমি ছাড়া আর কোন বধ্যভূমি চিহ্নিত করা হয়নি। উপরোন্ত এসব বধ্যভূমি দখলের চেষ্টা করছে নানা মহল।
চিহ্নিত করা উপজেলার একমাত্র লালচান্দ চা বাগানে রয়েছে ১১ জন শহীদদের স্মরণে নির্মিত স্মৃতিস্তম্ভ। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলীগ সরকারের আমলে এটা নির্মিত হয়। বাগান কর্তৃপক্ষ একবার এটাকে রং করে দিয়েছিল। একমাত্র স্মৃতিস্তম্ভ হওয়া সত্বেও এর প্রতি কারো কোন নজর নেই।
এ বিষয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সিদ্ধার্থ ভৌমিক বলেন, আমরা এসব বধ্যভূমি চিহ্নিত ও সংরক্ষণের জন্য সংশ্লিষ্ট উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিতভাবে জানিয়েছি।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর