সংবাদ শিরোনাম ::
ওসমানীনগরে নিজেদের দখলবাজী-সন্ত্রাসী কর্মকান্ড আড়াল করতে প্রবাসী কামাল বিরুদ্ধে অপপ্রচার বাহুবলে আলোচিত কলেজ ছাত্রী ধর্ষণ মামলার আসামী হাবিবুর সিলেট থেকে গ্রেফতার হবিগঞ্জে নদীর চোরাবালিতে আটকা পড়ে ২ ছাত্রের করুন মৃত্যু বাহুবল উপজেলা চেয়ারম্যান খলিলুর রহমানের বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব লাখাইয়ে জেলা পুলিশের পক্ষ থেকে বন্যার্তদের মাঝে ত্রাণ বিতরণ চেয়ারম্যান ও ইউএনওর সাথে বাহুবল প্রেসক্লাব নেতৃবৃন্দের সৌজন্য সাক্ষাৎ দোয়ারাবাজারে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইদ্রিছ আলীর ইন্তেকাল, রাষ্ট্রীয় মর্যাদায় দাফন সম্পন্ন হবিগঞ্জে পিকআপ ভ্যানের ধাক্কায় মোটর সাইকেল আরোহী নিহত বাহুবল প্রেসক্লাবের কমিটি গঠন নবীগঞ্জে দুটি ইউনিয়নে ১৩ টি স্কুলে আশ্রয় নেওয়া পরিবারের মধ্যে রান্না করা খাবার প্রদান

হবিগঞ্জের গুঙ্গিয়াজুরী হাওরের কৃষকরা ধান চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে রবিশস্য আবাদ করে সফলতা পেয়েছেন

  • আপডেট সময় শুক্রবার, ১০ জুন, ২০২২
  • ১০২ বার পড়া হয়েছে

মঈন উদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ : হবিগঞ্জ সদর উপজেলার তেঘরিয়া ইউনিয়নের সৈয়দাবাদ গ্রাম। এটি হবিগঞ্জের গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে অবস্থিত। এ গ্রামের একপাশে হাওর অন্যপাশে গুঙ্গিয়াজুরী নদী। গ্রামের মানুষের প্রধান পেশা কৃষি। আর তাদের কৃষি জমিগুলো হাওরে অবস্থিত।

জমিগুলো অপেক্ষাকৃত নিচু জায়গায় হওয়ায় গ্রামের কৃষকরা শুধুমাত্র এক মৌসুমে ধান চাষের উপর নির্ভরশীল। হাওরে পানি বেশি হলে তারা যেমন ক্ষতিগ্রস্ত হন, তেমনি বন্যা হলেও তারা ক্ষতির সম্মুখিন হন। পরিবার পরিজন নিয়ে তাদের দুর্ভোগের অন্ত থাকেনা।

আর হাওর পাড়ের কৃষকদের এ দুর্ভোগ থেকে বের করে নিয়ে আসতে উদ্যোগী হয় বেসরকারি এনজিও সংস্থা এসেড। তারা জাপান সরকারের সহায়তায় ‘ক্লাইমেট চেঞ্জ এডাপটিভ এগ্রিকালচার এক্সপান্স প্রজেক্ট ইন হাওর এরিয়া’ প্রকল্পের সহায়তায় কৃষকদের ধান চাষের পাশাপাশি সাথী ফসল হিসেবে রবি শস্য আবাদে উদ্বুদ্ধ করেন।

এ ব্যাপারে সৈয়দাবাদ গ্রামের কৃষক মোঃ নুরুল ইসলাম জানান, তিনি দীর্ঘদিন বিদেশ ছিলেন। বিদেশ থেকে দেশে আসার পর তিনি মূলত কৃষির উপর নির্ভরশীল ছিলেন। গুঙ্গিয়াজুরী হাওরে তার বেশ কিছু ধানী জমি রয়েছে। ওই জমি চাষ করে তা থেকে যে ধান পান তা দিয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে তার সংসার চলে।

তবে কোন কারণে ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলে বা পানিতে তলিয়ে গেলে দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। তার মতো গ্রামের আরো অনেক কৃষক শুধুমাত্র ধান চাষের উপর নির্ভর করে এভাবেই বছরের পর বছর দুর্বিসহ জীবন যাপন করে আসছেন। প্রায় দুই বছর পূর্বে এনজিও সংস্থা এসেড তাকে শুধুমাত্র ধান চাষের উপর নির্ভরশীল না থেকে এর পাশাপাশি অন্য ফসল (রবিশস্য) চাষে উদ্বুদ্ধ করে।

তারা তাকে বুঝাতে সক্ষম হয় অকাল বন্যা বা প্রাকৃতিক কারণে ধান ক্ষতিগ্রস্ত হলে বিকল্প ফসল উৎপাদনের মাধ্যমে তার জীবন চালানো সম্ভব। তাদের পরামর্শে তিনি তার বাড়ির পাশে ৬০ হাজার টাকায় ৭০ শতকের একটি পতিত জমি এক বছরের জন্য বন্ধক নেন। জমিতে তিনি কলমী শাক, মূলা, ধনিয়া পাতা, ফুল কপি, বাঁধা কপি, লাল শাক, ডাটা, লাউসহ অন্যান্য সবজি চাষ করেন।

৩০ দিন পর হতে তিনি সবজি বিক্রি শুরু করেন। প্রথম বছর তেমন ভাল ফসল না হলেও তিনি খরচ বাদে প্রায় ২০ হাজার টাকা আয় করেন। পরে ওই জমিতে আবারও ডাটা, ঢেড়স, পাট শাক, মরিচ, বরবটি, চালকুমড়া, মিষ্টি লাউসহ আরো বেশ কয়েক প্রকার সবজি চাষ করেন। পাশাপাশি জমির চার পাশে সবরি কলা চাষ করেছেন।

প্রথম রোপনকৃত প্রতিটি গাছে কলার মোচা আসতে শুরু করেছে। তাছাড়া চালকুমড়া গাছেও ফল ধরতে শুরু করেছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন কোন প্রকার প্রাকৃতিক দুর্যোগের সম্মুখিন না হলে এবার তার খরচ বাদে অনেক লাভ হবে। আগামীতে তিনি আরও বৈচিত্রময় সবজি চাষাবাদ করবেন বলে জানান। পাশাপাশি এসেড তাকে সার, বীজ, প্রশিক্ষণসহ আনুষাঙ্গিক অনেক সাহায্য করেছে এ ধারা অব্যাহত রাখার আহবান জানান।

এসেডের প্রধান নির্বাহী জাফর ইকবাল চৌধুরী জানান, হাওর এলাকার কৃষকদের মাঝে ধান চাষের প্রবণতা বেশি লক্ষ করা যায়। অনেক সময় বন্যার পানিতে জমি তলিয়ে গিয়ে ফসল নষ্ট হয়। ওই এলাকার কৃষকরা শুধু বর্ষাকালে এক ফসলী ধান চাষের উপর নির্ভরশীল। বছরে একবার ধান চাষ করে বাকি সময় তারা জমি পতিত ফেলে রাখে।

ফলে কোন কারণে ফসলহানি হলে তাদের দুর্ভোগের অন্ত থাকে না। তাই আমরা অধিক ফলনশীল স্বল্প জীবনকালের ধান চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করি। পাশাপাশি আমন ও রবি ফসল চাষাবাদের প্রচলন করে কৃষকদের অধিক লাভবানের সুযোগ সৃষ্টি করে দেয়ার চেষ্টা করি। এরই অংশ হিসেবে বিগত দুই বছর ধরে তিনি সৈয়দাবাদ ও আব্দুল্লাহপুর হাওর এলাকার কৃষকদের নিয়ে কাজ করে যাচ্ছেন।

বিশেষ করে ওই এলাকার কৃষকদের রবি শস্য চাষাবাদে উদ্বুদ্ধ করছেন। যাতে তারা একই জমিতে একাধিক ফসল চাষের মাধ্যমে লাভবান হতে পারে। এরই অংশ হিসেবে তিনি সৈয়দাবাদ ও আব্দুল্লাহপুর গ্রামের অনেক কৃষককে দেশের অন্যত্র নিয়ে প্রশিক্ষণ দেয়ার ব্যবস্থা করেন।

যাতে ওই কৃষকরা শুধুমাত্র ধান চাষের উপর নির্ভর না হয়ে রবিশস্য চাষে উদ্বুদ্ধ হয়। ইতোমধ্যে প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে অনেকেই পারিবারিক পর্যায়ে শাক সবজি চাষাবাদ শুরু করেছেন। কয়েকজন আবার বৃহৎ পরিসরে রবিশষ্য চাষ শুরু করেছেন।

যার মধ্যে সৈয়দাবাদ গ্রামের কৃষক নুরুল ইসলাম, আব্দুল্লাহপুর গ্রামের শংকর দাস, ছলিম উল্লা অন্যতম। তিনি বিশ্বাস করেন তাদের সাফল্য দেখে এলাকার আরও অনেক কৃষক রবিশস্য চাষে উদ্বুদ্ধ হবে। তাহলেই এসেড এর প্রচেষ্টা সার্থক হবে বলে তিনি মনে করেন।

তিনি আরও জানান, আগে এখানকার কৃষকরা অনেকেই বাজার থেকে কেনা সবজির উপর নির্ভরশীল ছিলেন। এখন অনেকেই নিজের বাড়িতে সবজি চাষ করছেন। ফলে তারা এখন আর বাজার থেকে কেনা শাক সবজির উপর নির্ভরশীল নন। উপরন্তু অনেকে নিজের পারিবারিক চাহিদা মিটিয়ে অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করছেন।

এ বিষয়টি মাথায় নিয়ে তারা একটি সবজি বিক্রয়কেন্দ্র চালু করার পরিকল্পনার কথা জানান। যাতে কৃষকরা তার উৎপাদিত সবজি বাজারে বিক্রি করার জন্য কোন প্রকার চিন্তার সম্মুখিন না হয়। বরং সে তাদের কাছে সবজি নিয়ে আসলে তারা কৃষককে উপযুক্ত মূল্য পরিশোধ করবেন এবং তার কাছ থেকে রাখা সবজি ন্যায্য মূল্যে বাজারে বিক্রি করা হবে। এতে কৃষক উপকৃত হওয়ার পাশাপাশি আরো অধিক পরিমাণে রবিশস্য চাষাবাদে আগ্রহী হবে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর