সংবাদ শিরোনাম ::
জুড়ীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা বিনয় ব্যানার্জীকে গণসংবর্ধনা সিলেটে জালালাবাদ লিভার ট্রাস্টের উদ্যোগে লিভার সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল এসোসিয়েশন অব ভলান্টারি এফোর্টস (সেভ) এর উদ্যোগে নতুন বস্ত্র ও হুইল চেয়ার বিতরণ জুড়ীতে মুজিববর্ষে চা শ্রমিকদের ফ্রি বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে পিডিবির অনিয়ম শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্ম দিন : মিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বৃক্ষ রোপন যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে বন্যার্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ মধ্যনগরে গুমাই নদীতে অবৈধ ড্রেজার, হুমকিতে ফসলি জমি বাহুবলে মীনা দিবসের ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ ॥ নামকাওয়াস্তে পালন জুড়ীর মাসুক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি তাহিরপুরে বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

৩শ’ টাকা মজুরীর দাবী হবিগঞ্জের ২৫ চা বাগানে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক ধর্মঘট শুরু ॥ মহাসড়কে এসে বিক্ষোভ ও মানববন্ধন চা শ্রমিকদের

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২
  • ৩৫ বার পড়া হয়েছে

মঈন উদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ : একদিকে বৈরী আবহাওয়ায় উৎপাদন ঘাটতি, লোডশেডিংয়ে হচ্ছে উৎপাদন বিঘ্নিত। এর সাথে চা উৎপাদনের ভরামৌসুমে যোগ হয়েছে শ্রমিকদের আন্দোলন। ফলে হবিগঞ্জ তথা সারা দেশের চা শিল্পের জন্য দেখা দিয়েছে চরম অশনিসংকেত।

এদিকে পূর্ব ঘোষণা অনুযায়ী শনিবার সকাল থেকে জেলার সকল চা বাগানে শুরু হয়েছে অনির্দিষ্টকালের শ্রমিক ধর্মঘট। শ্রমিকরা শুধু কর্মবিরতেই বসে না থেকে মহাসড়ক অবরোধ করে করেছেন বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধন। সেখানে চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক ও বর্তমান ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পালসহ চা শ্রমিক নেতৃবৃন্দ বক্তৃতা করেন।

শনিবার সকালে হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার চানপুর বাগানের শ্রমিকরা চলে আসেন সাবেক ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে। সেখানে এসে তারা সড়ক অবরোধ করে বিক্ষোভ সমাবেশ ও মানববন্ধনে অংশ নেন। অপরদিকে বাহুবল উপজেলার কামাইছড়া চা বাগানের শ্রমিকরা হবিগঞ্জ-মৌলভীবাজার সড়কে এসে বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেন।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, সারাদেশে চা শ্রমিকদের দৈনিক মজুরী ১২০ টাকা থেকে বৃদ্ধি করে ৩শ’ টাকা করার দাবী জানিয়েছে চা-শ্রমিক ইউনিয়ন। এর পর থেকে এ দাবী আদায়ে তারা আন্দোলনে নামেন। তারা গত ৯ থেকে ১১ আগস্ট ৩ দিন দুই ঘন্টা করে প্রতিদিন সকল বাগানে কর্মবিরতি পালন করার পাশাপাশি বিক্ষোভ সমাবেশেরও আয়োজন করেন।

তবে তাদের এ কর্মবিরতিতে মন গলেনি বাগান কর্তৃপক্ষের। যে কারনে ফুঁসে উঠেন বাগানগুলোর চা শ্রমিকরা। তারা ডাক দেন অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতি। এর আগে বৃহস্পতিবার শ্রীমঙ্গলে শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাহিদুল ইসলামের সাথে ১০ চা শ্রমিক নেতা বৈঠক করলেও তা ফলপ্রসু হয়নি।

শ্রম অধিদপ্তর ২৮ আগস্ট পর্যন্ত সময় চাইলেও শ্রমিক নেতারা তা না মেনে অনির্দিষ্টকালের কর্মবিরতির ঘোষণা দেন।
শ্রীমঙ্গলে অবস্থিত শ্রম অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক নাহিদুল ইসলাম জানান, কর্তৃপক্ষ হিসাবে মহাপরিচালক চা শ্রমিকদের চিঠি দিলেও তারা এই চিঠির সম্মান না করেই আন্দোলনে নেমেছেন। এ ব্যাপারে মালিক পক্ষ কি কৌশল গ্রহণ করেন তা আমাদের জানা নেই।

বাংলাদেশ চা শ্রমিক ইউনিয়নের কেন্দ্রীয় ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক নৃপেন পাল বলেন, ‘শ্রম অধিদপ্তর আলোচনার নামে সময়ক্ষেপণ করেছে। তারা আগামী ২৯ আগস্ট ত্রিপক্ষীয় আলোচনার সময় চেয়েছে। কিন্তু আমরা তাতে রাজি হইনি। শুক্রবার চুনারুঘাট উপজেলার সব চা বাগানে ২ ঘণ্টা কর্মবিরতি পালন শেষে এক সমাবেশে তিনি সব চা বাগান একযোগে বন্ধের ঘোষণা করেছি।’

তিনি বলেন, যদি কর্তৃপক্ষ দাবী না মানে তাহলে শায়েস্তাগঞ্জ নতুন ব্রিজ এলাকায় ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক অবরোধ করা হবে।

চুনারুঘাট উপজেলার চানপুর চাবাগানের ব্যবস্থাপক মোঃ শামীম হুদা বলেন, ‘হঠাৎ করে কর্ম বিরতী দিয়ে চা উৎপাদনে ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। এখন চা মৌসুমের মূল সময়। যেখানে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কেজি পাতা তোলা হত এখন কমে প্রায় ২০ হাজার কেজিতে চলে এসেছে। অনির্দিষ্টাকালের কর্মবিরতিতে এখন উৎপাদন শুন্য। যথাসময়ে পাতা উত্তোলন না করলে চায়ের গুণগত মানও হ্রাস পাবে।

চা বাগান সংশ্লিষ্টদের সাথে আলোচনা করে জানা যায়, হবিগঞ্জের চা বাগানগুলোতে অতি বৃষ্টির পর এবার প্রচন্ড গরমের প্রভাবে ভয়াবহ বিপর্যয় দেখা দেয়। পোকা মাকড়ের আক্রমনে অধিকাংশ বাগানের বেহাল দশা। পরে লোডশেডিংয়ের কারনেও উৎপাদন ব্যাহত হয়েছে।

উৎপাদন খরচ আর বিক্রয় মূল্যে অনেক চা বাগান আছে লোকসানে। এখন শ্রমিক ধর্মঘট। সবকিছু মিলে চা বাগান শিল্পের জন্য অশসিংকেত। বাগান সংশ্লিষ্টরা এবার উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা অর্জনের আশাই দেখছেন না।

চা বাগান সূত্রে জানা গেছে, হবিগঞ্জ জেলার নবীগঞ্জ, বাহুবল, চুনারুঘাট, মাধবপুর উপজেলার পাহাড়ি অঞ্চলের প্রায় ১৫,৭০৩.২৪ হেক্টর জমিতে ২৫টি ফ্যাক্টরীযুক্ত চা বাগান রয়েছে। এছাড়াও ফাঁড়িসহ প্রায় ৩৫টি বাগানের প্রায়টিতেই প্রতি হেক্টর জমিতে ২২/২৫’শ কেজি চা-পাতা উৎপাদন হয়। এসব বাগানে বছরে ১ কোটি ৩০ লাখ কেজি চা উৎপাদন হয়ে থাকে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর