সংবাদ শিরোনাম ::
জুড়ীতে কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগ নেতা বিনয় ব্যানার্জীকে গণসংবর্ধনা সিলেটে জালালাবাদ লিভার ট্রাস্টের উদ্যোগে লিভার সচেতনতা বিষয়ক সেমিনার অনুষ্ঠিত শ্রীমঙ্গল এসোসিয়েশন অব ভলান্টারি এফোর্টস (সেভ) এর উদ্যোগে নতুন বস্ত্র ও হুইল চেয়ার বিতরণ জুড়ীতে মুজিববর্ষে চা শ্রমিকদের ফ্রি বিদ্যুৎ সংযোগ নিয়ে পিডিবির অনিয়ম শেখ হাসিনার ৭৬তম জন্ম দিন : মিরপুর ইউনিয়ন ছাত্রলীগের বৃক্ষ রোপন যুক্তরাজ্য আইনজীবী ফোরামের উদ্যোগে বন্যার্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ বিতরণ মধ্যনগরে গুমাই নদীতে অবৈধ ড্রেজার, হুমকিতে ফসলি জমি বাহুবলে মীনা দিবসের ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ ॥ নামকাওয়াস্তে পালন জুড়ীর মাসুক চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে আদালতের গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি তাহিরপুরে বিদ্যালয়ে নিয়োগ বাণিজ্যের অভিযোগ

আজমিরীগঞ্জে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৩১৬ পরিবারের মাঝে মুসলিম এইড ও এসেড’র নগদ অর্থ শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ

  • আপডেট সময় শনিবার, ১৩ আগস্ট, ২০২২
  • ৫২ বার পড়া হয়েছে

মঈন উদ্দিন আহমেদ, হবিগঞ্জ : আজমিরীগঞ্জ উপজেলার শিবপাশা, কাকাইলছেও ও বদলপুর ইউনিয়নে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১ হাজার ৩১৬টি পরিবারের মাঝে নগদ অর্থ সহায়তা, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করেছে মুসলিম এইড ও এসেড হবিগঞ্জ। শুক্রবার স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের নিয়ে ইউকেএইড, রয়্যাল নেদারল্যান্ড সরকার ও স্টার্ট ফাউন্ডেশন বাংলাদেশ (স্টার্ট নেটওয়ার্ক) এর সহায়তায় নগদ অর্থ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ করা হয়। ‘ইমারজেন্সি এ্যাসিস্টেন্স টু দ্যা ফ্ল্যাড এফেক্টেড পিপলস্ ইন হবিগঞ্জ ডিস্ট্রিক্ট’ প্রকল্পের আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে নগদ সাড়ে চার হাজার টাকা, শিক্ষা সামগ্রী (খাতা, কলম, পেন্সিল, রং পেন্সিল) ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী (সাবান, ডিটারজেন্ট, স্যানিটারি প্যাড, ব্লিচিং পাউডার) দেয়া হয়। শুক্রবার উপজেলার কাকাইলছেও ইউনিয়ন পরিষদে নগদ অর্থ, শিক্ষা ও স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী বিতরণ উদ্বোধন করেন আজমিরীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাকাইলছেও ইউপি চেয়ারম্যান মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন এনজিও সংস্থা আবাসের নির্বাহী পরিচালক বাহাউদ্দিন সেলিম, দৈনিক হবিগঞ্জের মুখ পত্রিকার সহযোগী সম্পাদক মঈন উদ্দিন আহমেদ, ইউপি মেম্বার বিল্লাল মিয়া, নজু মিয়া, রফিক মিয়া, আজিজুর রহমান, এসেড এর চীফ অব প্রোগ্রাম জামিল মোশতাক। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন এসেড এর ফাইন্যান্স এন্ড এডমিন ম্যানেজার আব্দুল মজিদ।
অনুষ্ঠানে ইউপি চেয়ারম্যান মিসবাহ উদ্দিন ভূইয়া বলেন, মুসলিম এইড ও এসেড হবিগঞ্জ অত্যন্ত নিরপেক্ষতার সাথে সুন্দর প্রক্রিয়ায় তাদের কর্মী এবং আমাদের সমন্বয়ে উপকারভোগীর তালিকা তৈরী করেছে। ফলে এই তালিকা নিয়ে কোন প্রশ্ন উঠেনি। তালিকায় প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তরা স্থান পেয়েছেন। তাই যাদের নাম তালিকায় নেই তারা কোন প্রকার প্রশ্ন না করে প্রশংসা করেছেন। ভবিষ্যতেও তার ইউনিয়নে মুসলিম এইড ও এসেড হবিগঞ্জ নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করে স্যনিটেশন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত দরিদ্রদের গৃহ নির্মাণসহ আর্থসামাজিক উন্নয়ন ও সহযোগিতামূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখবে তিনি এ আশাবাদ ব্যক্ত করেন। পাশাপাশি গরীব দুঃখি মানুষের পাশে থাকায় মুসলিম এইড ও এসেড হবিগঞ্জের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
উপকারভোগী নির্বাচন প্রক্রিয়া সম্পর্কে এসেড হবিগঞ্জের প্রধান নির্বাহী জাফর ইকবাল চৌধুরী জানান, যে এলাকায় সহায়তা দেয়া হবে প্রথমে সেই এলাকার স্থানীয় লোকজনকে নিয়ে পরামর্শ সভা করা হয়। সভায় উপস্থিতিদের কাছ থেকে বিস্তারিত জেনে তাদের কাছ থেকে নামের তালিকা চাওয়া হয়। তারা যে তালিকা দেন তা আমাদের নিজস্ব ভলান্টিয়ারের মাধ্যমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে ওই ব্যক্তি প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কিনা এবং সহযোগিতা পাওয়ার উপযুক্ত কি না তা যাচাই করে আমাদের কাছে তথ্য প্রেরণ করেন। তাদের প্রেরিত তথ্য পূণরায় যাচাই বাছাই করে চূড়ান্ত তালিকা করা হয়। এনআইডি, মোবাইল নম্বরসহ আনুষাঙ্গিক তথ্য যাচাই এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধির মাধ্যমে পরিচয় নিশ্চিত হয়ে উপকারভোগীদের মাঝে সহায়তা বিতরণ করা হয়। এ ছাড়াও যে কেন্দ্রে সহায়তা বিতরণ করা হয় সেখানে একটি অভিযোগ বাক্স থাকে। কোন অনিয়ম পরিলক্ষিত হলে যে কেউ সেই অভিযোগ বাক্সে তার অভিযোগ ফেলতে পারবেন। পরে প্রকাশ্যে যাচাই বাছাইক্রমে সে অভিযোগ নিষ্পত্তি করা হয়। তাছাড়া সহায়তা বিতরণ কেন্দ্রে থাকে ব্রেস্ট ফিডিং কর্ণার। উপকারভোগী যারা সহায়তা নিতে আসেন তারা যেন সন্তানদের দুগ্ধ পান করাতে পারেন সে জন্য এ ব্যবস্থা রাখা হয় যাতে উপকারবোগীরা নিজেদের অসহায় না ভাবেন। থাকে পুরুষ ও মহিলাদের পৃথক টয়লেট এবং বিশুদ্ধ পানীয় জলের ব্যবস্থাও।
শুধু তাই নয়, তারা যে এলাকায় কাজ করতে চান সে এলাকার প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট ইউএনও, সরকারি কর্মকর্তা ও জনপ্রতিনিধিদের পত্রের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম সম্পর্কে অবগত করে ইনসেপশন মিটিং করে উপকারভোগী নির্বাচন ও সহায়তা প্রদান করা হয়। তাই এতে দুর্ণীতির সুযোগ থাকে না বললেই চলে।
প্রায় ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধা রজব চাঁন বিবি। তিনি মুসলিম এইড ও এসেড হবিগঞ্জের একজন নির্বাচিত উপকারভোগী। এসেছেন সহায়তা নিতে। তিনিসহ তারা ৩ বোন। তার বিয়ে হয়েছিল। জন্ম নিয়েছিল এক শিশু সন্তানেরও। কিন্তু ওই শিশুটি অকালে মারা যায়। নিজেও হন স্বামী পরিত্যাক্তা। বাবা-মা বেঁচে না থাকায় হয়ে পড়েন উদ্বাস্তু। এদিন এর বাড়িতে ওদিন ওর বাড়িতে এভাবেই চলছিল সংসার। অবশেষে তিনি আশ্রয় পেয়েছেন কাঠের বাজার মুজিবনগর আশ্রয়নে। সেখানে দুই বোনকে নিয়ে বাস করছেন। তার বিয়ে হলেও দুই বোনের আজও বিয়ে হয়নি। তাই তাদের অভিভাবকও তিনি। স্থানীয় বাজারে বিভিন্ন দোকানপাঠে কাজ করে যা পান তা দিয়ে কোন রকম একবেলা দুবেলা খেয়ে না খেয়ে জীবন চালিয়ে নিচ্ছেন তিন বোন। বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তেমন কোন সহায়তা পাননি। তবে বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে পেয়েছেন সামান্য শুকনো খাবার। আর আজ মুসলিম এইড ও এসেড হবিগঞ্জের সহায়তা পেয়ে তিনি ভীষণ খুশি। তিনি আল্লাহর কাছে দোয়া করেন আল্লাহ যেন মুসলিম এইড ও এসেড হবিগঞ্জের ভাল করেন।
একই অনুভূতি প্রকাশ করেছেন সহায়তা নিতে আসা কাকাইলছেও গ্রামের ৭০ বছরের বৃদ্ধ মধু মিয়া। তিনি জানান, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত হলেও তিনি কোন সহায়তা পাননি। তবে ঈদের পূর্বে ইউনিয়ন অফিস থেকে ১০ কেজি চাউল পেয়েছেন। এতেই তিনি মহাখুশি। আর মুসলিম এইড ও এসেড হবিগঞ্জের নগদ টাকাসহ অন্যান্য উপহার পেয়ে তার যেন আনন্দের সীমা নেই। তিনি এভাবে দরিদ্র লোকজনের পাশে থাকার জন্য আহবান জানান।
কাকাইলছেও ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের বৃদ্ধ শহীদ মিয়া। তিনি ইউনিয়ন অফিসে এসেছেন সহায়তা নিতে। কিন্তু উপকারভোগীর তালিকায় তার নাম রয়েছে কি না তা জানেন না। শুধু জানেন তার নাম ঢাকায় প্রেরণ করা হয়েছিল। কিন্তু কেন্দ্রে এসে দেখেন নির্বাচিত তালিকায় তার নাম নেই। এতে তার কোন আপসোস নেই। কারণ তালিকায় যাদের নাম রয়েছে তারা প্রকৃতপক্ষেই ক্ষতিগ্রস্ত। সঠিক ব্যক্তিই নির্বাচিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি। পাশাাশি এই সহায়তার আওতা আরও বৃদ্ধির দাবি জানান।
প্রসঙ্গত, কাকাইলছেও ইউনিয়নে ৬৩৪, বদলপুর ইউনিয়নে ৪৭৫ ও শিবপাশা ইউনিয়নে ২০৭টি পরিবারের মাঝে এ সহায়তা বিতরণ করা হয়েছে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর