উপকূল, জলবায়ু ও জনজীবন বিষয়ক গবেষণা, অভিজ্ঞতা ও জ্ঞান বিনিময়ের লক্ষ্যে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক সিম্পোজিয়াম। আগামী ১৭ ও ১৮ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের ওশেনোগ্রাফি বিভাগের উদ্যোগে আয়োজিত ‘ইন্টারন্যাশনাল সিম্পোজিয়াম অন কোস্ট, ক্লাইমেট অ্যান্ড কমিউনিটি’ শীর্ষক এ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশসহ সাতটি দেশের ৩৮টি প্রতিষ্ঠানের ৩২৫ জন গবেষক অংশ নেবেন।

সোমবার (৯ জুন) দুপুরে শাহজালাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রেসক্লাব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য তুলে ধরেন ওশেনোগ্রাফি বিভাগের শিক্ষকরা।

সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দুই দিনব্যাপী এ সিম্পোজিয়ামে মোট ১১৫টি গবেষণাপত্র উপস্থাপিত হবে। এর মধ্যে ৮০টি মৌখিক উপস্থাপনা এবং ৩৫টি পোস্টার আকারে প্রদর্শিত হবে। সিম্পোজিয়ামে বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, গবেষক, উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধি ও সংশ্লিষ্ট খাতের বিশেষজ্ঞরা অংশগ্রহণ করবেন।

সিম্পোজিয়ামের অন্যতম আকর্ষণ প্লেনারি সেশনে মূল বক্তা হিসেবে উপস্থিত থাকবেন আয়ারল্যান্ডের ট্রিনিটি কলেজ ডাবলিনের অধ্যাপক ড. ক্যারেন উইল্টশায়ার। তিনি জার্মানির বিশ্বখ্যাত আলফ্রেড ওয়েগেনার ইনস্টিটিউটের সাবেক ভাইস ডিরেক্টর। এছাড়া থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়া, ইন্দোনেশিয়া, ভারত ও পাকিস্তানের গবেষকরা আলোচক হিসেবে অংশগ্রহণ করবেন।

আয়োজনে একটি প্লেনারি সেশন, পাঁচটি টেকনিক্যাল সেশন, একটি পোস্টার সেশন এবং একটি ওয়ার্কশপ অনুষ্ঠিত হবে। টেকনিক্যাল সেশনগুলোতে সুনীল অর্থনীতি, জলবায়ু পরিবর্তন, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবনযাত্রা ও বিকল্প জীবিকা, সামুদ্রিক বাস্তুসংস্থান, মেরিকালচার, সামুদ্রিক ও উপকূলীয় জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং সামুদ্রিক দূষণ বিষয়ে গবেষণাপত্র উপস্থাপন করা হবে।

এছাড়া ওয়ার্কশপে শাবিপ্রবির ওশেনোগ্রাফি বিভাগ উদ্ভাবিত স্বল্পমূল্যের সমুদ্র পর্যবেক্ষণ (লো-কস্ট ওশান মনিটরিং) ডিভাইস প্রদর্শন ও বিতরণ করা হবে। এতে বাংলাদেশ সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করবেন।

সংবাদ সম্মেলনে আরও জানানো হয়, সিম্পোজিয়ামের অংশীদার হিসেবে রয়েছে নিপ্পন ফাউন্ডেশন, পার্টনারশিপ ফর অবজারভেশন অব গ্লোবাল ওশান (পোগো) এবং তাদের অর্থায়নে পরিচালিত স্যাজিটা প্রকল্প। এছাড়া সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে রয়েছে জিআইজেড, অক্সফাম ইন্টারন্যাশনাল, সেন্টার ফর পার্টিসিপেটরি রিসার্চ অ্যান্ড ডায়ালগ (সিপিআরডি) এবং ক্রিশ্চিয়ান কমিশন ফর ডেভেলপমেন্ট ইন বাংলাদেশ (সিসিডিবি)।

আয়োজকদের প্রত্যাশা, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর টেকসই উন্নয়ন এবং সামুদ্রিক সম্পদ ব্যবস্থাপনা বিষয়ে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে গবেষণা ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে সিম্পোজিয়ামটি ভূমিকা রাখবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *