সুইজারল্যান্ডে নতুন বা জুনিয়র কর্মীদের জন্য চাকরির বিজ্ঞাপন আগের চেয়ে নাটকীয়ভাবে কমে গেছে। প্রতিষ্ঠানগুলো ক্রমেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই প্রযুক্তির দিকে ঝুঁকে পড়ায় এই পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।

বুধবার (২৪ জুন) সুইস কর্মসংস্থান পোর্টাল জবস ডট সিএইচ কর্তৃক প্রকাশিত একটি গবেষণায় এই তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণাটিতে ২০১৯ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত সময়কালকে এআই-পূর্ববর্তী পর্যায় হিসেবে সংজ্ঞায়িত করা হয়েছে। সমীক্ষায় দেখা গেছে, সেই সময়ের গড় বিজ্ঞাপনের তুলনায় ২০২৫ সালে সুইজারল্যান্ডে এন্ট্রি পর্যায়ের চাকরির বিজ্ঞাপন ৩২ শতাংশ কমে গেছে। প্রায় ৭৩ লাখেরও বেশি চাকরির বিজ্ঞাপন বিশ্লেষণ করে এই গবেষণা প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই-এর আগ্রাসনে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে অফিস-কেন্দ্রিক করপোরেট খাতগুলো। এর মধ্যে মার্কেটিং (বিপণন), প্রশাসন (অ্যাডমিনিস্ট্রেশন), ফাইন্যান্স (অর্থায়ন) ও আইটি (তথ্যপ্রযুক্তি) খাতগুলো রয়েছে।

একদিকে আইটি খাতের বাইরেও অন্যান্য সাধারণ পদে এআই পরিচালনায় দক্ষ কর্মীদের খোঁজ করা হচ্ছে, অন্যদিকে অভিজ্ঞ বা সিনিয়র পদের চাহিদা ব্যাপক বৃদ্ধি পেয়েছে।

এআই-এর প্রভাব রয়েছে এমন পদগুলোতে সিনিয়র কর্মীদের জন্য চাকরির অফার আগের চার বছরের তুলনায় ২৬ শতাংশ বেড়েছে। বিপরীতে, ঠিক একই ধরণের এআই-প্রভাবিত খাতে জুনিয়র বা নতুনদের জন্য চাকরির সুযোগ ১৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।

ব্যতিক্রম যেখানে: শারীরিক ও সেবা খাত

অফিস এবং গবেষণা খাতের বাইরে জুনিয়র পদের চাহিদা এখনো বেশ শক্তিশালী রয়েছে। বিশেষ করে তীব্র কর্মী সংকট থাকা খাত যেমন—স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ শিল্প এবং বিভিন্ন কারিগরি ট্রেডে তরুণ ও নতুন কর্মীদের চাহিদা কমেনি।

তরুণদের মাঝে বাড়ছে ‘ফোবো’ আতঙ্ক

কর্মক্ষেত্রে এআই-এর এই দ্রুত প্রবেশ তরুণ প্রজন্মের মধ্যে এক ধরণের মানসিক অস্থিরতা তৈরি করছে। সমীক্ষায় অংশ নেওয়া ৩,৬০০-এরও বেশি কর্মীর মধ্যে অনূর্ধ্ব-২৫ বছর বয়সি তরুণদের ৪১ শতাংশ জানিয়েছেন যে, তারা কর্মক্ষেত্রে নিজেদের যোগ্যতা ও কার্যকারিতা হারানোর ঝুঁকিতে আছেন। একে বলা হচ্ছে এআই ‘ফোবো’ বা প্রযুক্তিগত কারণে অপ্রাসঙ্গিক হয়ে পড়ার ভয়।

সূত্র: সামা টিভি

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *