২০২৭ সালের হজের প্রাথমিক নিবন্ধন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। হজযাত্রীদের হয়রানি ও প্রতারণা এড়াতে শুধুমাত্র সরকার অনুমোদিত ও তালিকাভুক্ত হজ এজেন্সির মাধ্যমেই নিবন্ধন ও হজ-সংক্রান্ত সব কার্যক্রম সম্পন্ন করার আহ্বান জানিয়েছে হজ্জ এজেন্সীজ অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব), সিলেট অঞ্চল।
বুধবার (২৯ জুলাই) নগরীর হাব সিলেট অঞ্চল কার্যালয়ে আয়োজিত ২০২৭ সালের হজ নিবন্ধন ও হজ প্যাকেজসংক্রান্ত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে হাব সিলেট অঞ্চলের চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হক বলেন, আগামী বছরের পবিত্র হজ চাঁদ দেখা সাপেক্ষে ১৫ মে ২০২৭ অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তাই নির্ধারিত সময়ের মধ্যে হজ নিবন্ধন সম্পন্ন করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি জানান, ২৭ জুলাই থেকে শুরু হওয়া প্রাথমিক নিবন্ধন আগামী ২৪ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চলবে। একজন হজযাত্রীকে প্রথমে ৩০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাক-নিবন্ধন এবং পরবর্তীতে ৩ লাখ ৫০ হাজার টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে। আগামী ১০ ডিসেম্বরের মধ্যে হজ প্যাকেজের অবশিষ্ট অর্থ পরিশোধ করে চূড়ান্ত নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, সম্প্রতি কিছু লাইসেন্সবিহীন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান হজ সেবার নামে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমসহ বিভিন্ন মাধ্যমে বিভ্রান্তিকর বিজ্ঞাপন দিয়ে সাধারণ মানুষকে প্রতারণার ফাঁদে ফেলছে। তাই হজে যাওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট এজেন্সির সরকারি অনুমোদন ও হজ লাইসেন্স যাচাই এবং নিবন্ধিত এজেন্সির ব্যাংক হিসাবেই অর্থ লেনদেন করার পরামর্শ দেওয়া হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, সিলেট অঞ্চলের হজযাত্রীদের সুবিধার জন্য সরকারি ও হাব ঘোষিত প্যাকেজের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তিনটি বিশেষ হজ প্যাকেজ নির্ধারণ করা হয়েছে। প্যাকেজগুলোর মূল্য যথাক্রমে ৮ লাখ ৯৫ হাজার, ৭ লাখ ৯৫ হাজার এবং ৬ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। প্রতিটি প্যাকেজেই কোরবানির (আদাহি) খরচ অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এছাড়া সৌদি সরকারের নতুন ব্যব¯’াপনায় মিনা-আরাফাত-মুজদালিফার সেবার মান ‘ডি’ ক্যাটাগরি থেকে ‘সি’ ক্যাটাগরিতে উন্নীত হওয়ায় হজযাত্রীরা আরও উন্নত সেবা পাবেন।
হাব জানায়, সৌদি সরকারের নির্ধারিত ন্যূনতম দুই হাজার হজযাত্রীর কোটা পূরণের লক্ষ্যে সিলেটের ২৩টি হজ এজেন্সি নিয়ে গঠিত ‘সিলেট এলায়েন্স’-এর মাধ্যমেই ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রম পরিচালিত হবে। হজযাত্রীদের এলায়েন্সভুক্ত যে কোনো এজেন্সির মাধ্যমে পছন্দের প্যাকেজে বুকিং করার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এ সময় আরও জানানো হয়, আগের বছরের মতো এবারও সিলেটের হজযাত্রীরা সরাসরি সিলেট থেকে জেদ্দা অথবা মদিনায় যেতে এবং ফিরতি পথে সরাসরি সিলেটে ফিরতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে হজে গমনের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ও সৌদি সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনার বিষয়েও অবহিত করা হয়। গুরুতর হৃদরোগ, ফুসফুস, লিভার, স্নায়বিক বা মানসিক জটিলতায় আক্রান্ত ব্যক্তি, ক্যান্সারের কেমোথেরাপি বা রেডিওথেরাপি গ্রহণকারী, সংক্রামক রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি এবং ১৫ বছরের কম বয়সীরা হজে যেতে পারবেন না। এছাড়া হজযাত্রীর বাংলাদেশি পাসপোর্টের মেয়াদ ৩১ ডিসেম্বর ২০২৭ পর্যন্ত বৈধ থাকতে হবে। বিদেশে অব¯’ানরত বাংলাদেশি নাগরিকরাও দেশের অন্যান্য হজযাত্রীর মতো নিবন্ধন সম্পন্ন করে হজে অংশ নিতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে উপ¯ি’ত ছিলেন হাব সিলেট অঞ্চলের সেক্রেটারী মো. আব্দুল কাদির, সাবেক চেয়ারম্যান আলহাজ আতাউর রহমান, আটাব সিলেট অঞ্চলের সাবেক চেয়ারম্যান জিয়াউর রহমান খান রেজওয়ান, হাব সিলেট অঞ্চলের সাবেক সেক্রেটারী গিয়াস উদ্দিন আহমদ আমজাদ প্রমুখ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *