1. admin@amarsylhetnews.com : admin2020 :
  2. zoshim98962@gmaiil.com : আমার সিলেট ডেস্ক : আমার সিলেট ডেস্ক
  3. amarsylhetnews@gmail.com : আমার সিলেট নিউজ : আমার সিলেট নিউজ
  4. editor@amarsylhetnews.com : Amar SylhetNews : Amar SylhetNews

    শুক্রবার, ৩০ জুলাই ২০২১, ০৩:২৯ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম ::
হবিগঞ্জ শহরের কালীবাড়ি ক্রস রোডের বাসিন্দা তন্বী রায় এর পরলোকগমন সুনামগঞ্জের জামালগঞ্জ উপজেলার প্রথম আইসিটি জেলা এম্বাসেডর হলেন মনির হোসেন নবীগঞ্জে ঐতিহ্য বাহী ইনাতগঞ্জ বাজার জামে মসজিদের ৩১ বছরের বিরোধ পরিসমাপ্তি চুনারুঘাটে সৈয়দ লিয়াকত হাসান বড় ভাইয়ের ইন্তেকাল বিশিষ্ট লেখক অধরা আলো ”সহ সাধারণ সম্পাদক নতুন কুঁড়ি সাহিত্য সম্ভার”র মনোনীত চুনারুঘাটের চা বাগানে স্বাস্থ্যবিধি মেনে কাজ করছে শ্রমিকরা চুনারুঘাটে বজ্রপাতে মৃত ব্যক্তির পরিবারকে আর্থিক সহায়তা প্রদান যুক্তরাষ্ট্রে ঈদ পূর্ণমিলনীতে হবিগঞ্জবাসীর মিলনমেলা হবিগঞ্জে মেয়াদ উত্তীর্ণ ঔষধ বিক্রির অপরাধে দুই ফার্মেসী কে জরিমানা বদিউল আলম কাজল বুল্লা সিংহগ্রাম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি নির্বাচিত

আমার শৈশব ।।  হাসান মাহমুদ

  • আপডেট সময় শনিবার, ২২ আগস্ট, ২০২০
  • ৪৫২ বার পড়া হয়েছে

 

শৈশব। মিষ্টি এক নাম। আমার শৈশব, বড়ো মধুর ছিল। পাতাঝরা দিনে উঠোন-জুড়ে সারাক্ষণ দৌড়ে বেড়াতাম নগ্নপায়ে।
ধুলো মলিন অবয়ব নিয়ে হাজির হতাম পিতামহীর দর্পণে—খুঁটে খুঁটে দেখতাম নিজের মলিন অবয়ব। পাখির নীড় খোঁজা ছিল স্বভাবসিদ্ধ কাজ। পাখির পালক খুঁজে কল্পনার ঝাঁপি মেলে দিতাম পাখি ছোঁয়ার স্বাদ। ডুমুরগাছে নিত্য দৃষ্টি ফেলতাম টুনটুনি ছানার কিচিরমিচির ডাকে। লাল ঘাসফড়িং—চমচমের বোয়ামে স্বযত্নে রাখতাম মায়াবী আদরে। পিঁপড়ার ভেঙে যাওয়া সারি—সংযুক্ত করে দিতাম কোমল স্পর্শে। মধু খাওয়া ভ্রমরের নিথর দেহ; মাটিচাপা দিতাম মৃদুচাপে। ছেঁড়া ঘুড়ি বেঁধে নিতাম ধুলো মলিন সুতো দিয়ে।
পুকুরপাড়ে শাদা বকের ধ্যান ভেঙে দিতাম টুকরো টুকরো মাটির কণা নিয়ে ঢিল ছুঁড়ে।
পুষে রাখা বন্দি শালিকের সাথে কথায় কথায় মেতে উঠতাম মধুমাখা শব্দের উচ্ছ্বাসে। দুপুরের রোদ্দুর মাথায় নিয়ে
সরোবরে জোড়াহাঁসের সন্তরণ দেখতাম হাত মেলে ডানা ঝাঁপটানোর অভিপ্রায়ে।
লাটিমগাছের নিচে মারবেল খোঁজে পাওয়া ছিল পরম আনন্দ। মকতব ঘরের
পাশ থেকে শিউলি কুড়িয়ে নিতাম পুষ্পমালা বানানোর প্রয়াসে। জোনাকির টিমটিম আলোয়; আমার মুঠোভর্তি ছনেবাঁধা ঘর আলোকিত করে রাখতাম অতিথির আগমনের আনন্দে।
আম কুড়ানোর দিনে পাখির ভেঙে যাওয়া বাসা দেখে বিষণ্ন হতাম অসহায়ত্বের বেদনায়।
কারো প্রস্থানে পাঁজরভাঙার ব্যথা অনুভূত হতো আমার ছোট্ট কোমল হৃদয়ে।
পাটকাঠির আড়ালে আত্মগোপন করতাম
মায়ের কড়াশাসন থেকে নিজেকে বাঁচানোর জন্য। বাবার সাইকেলের ঘণ্টি বাজাতাম না পাওয়াকে পাওয়ার তুমুল আনন্দে।
সাইরেন অনুশীলন ছিল আনন্দের পরম মুহূর্ত। পিতামহের কাস্তে-হাতে সজ্জিত হতাম কৃষকবেশে। ভাটিয়ালি গানের টুকরো কথা জপ করতাম—দুষ্ট শিশুর পাল্লায় পড়ে। হেমন্তের পাকাধান দিয়ে নাড়ু কিনতাম পিতামহীর চতুর দৃষ্টি গ্রাহ্য করে।
কৃষিজমিতে চঞ্চলতা ছিল আমার পড়ন্ত বিকেলের শেষ আনন্দ। পুঁইশাকফুলের রঙে রাঙিয়ে নিতাম আপাদমস্তক। সান্ধ্যকালীন উৎসবে—
পিতামহের সাথে গুণগুণ সুরে সুরা ইয়াসিনের প্রথম মুবিন ছিল আমার—
পরম সুখপাঠ্য। স্মৃতির ঝাঁপিতে হাজারও
স্মৃতি স্মৃতিশৈশব স্মৃতিমন্থন করি
আজ পঁচিশ বসন্ত পেরিয়ে।
শৈশবের চঞ্চলতা স্মৃতি ভর করে শহুরে শিশুদের অসহায়ত্ব দেখে।
শহুরে শিশুদের চঞ্চলতা চারদেয়ালের ভেতর। শৈশবের—বিস্মৃতির দ্বার উন্মোচিত হয় শহুরে শিশুদের বিষণ্নতা দেখে।
আমাদের শৈশব কতই না মধুর ছিল!
প্রকৃতির সাথে অপার্থিব খেল্ হতো
তুমুল আনন্দে। দুঃখের অধ্যায়গুলো
মিশে যেত প্রকৃতির অপরূপ সাজে।

শেয়ার করুন

এ জাতীয় আরো খবর