গোলাপগঞ্জে পুলিশের এএসআইর বিরুদ্ধে প্রতিপক্ষের ওপর হামলার অভিযোগ ওঠেছে। অভিযুক্ত বাংলাদেশ ইন্ডাস্ট্রিয়াল পুলিশের- ৮ সিলেট ইউনিটে কর্মরত এএসআই আলম আহমদ। জোরপূর্বক ভুমি দখলের চেষ্টায় আত্মীয় স্বজনদের নিয়ে তিনি প্রতিপক্ষের ওপর হামলা করেন। কেবল হামলা করেই ক্ষান্ত হননি, প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করতে একের পর এক মামলা দিয়ে হয়রানী করার অভিযোগ তার বিরুদ্ধে।
বুধবার (২৫ আগস্ট) বেলা ২টায় সিলেট জেলা প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে এ অভিযোগ করেন উপজেলার বাঘা ইউনিয়নের তুরুকভাগ (পশ্চিমপাড়া) গ্রামের লিলু মিয়ার স্ত্রী ভুক্তভোগী শেলি বেগম (৫০)। এসময় পক্ষে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন তার ভাসুড়পুত্র কামিল আহমদ
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, মৌরসী ভূমির দখল নিতে এএসআই আলম পুলিশের প্রভাব খাটিয়ে একের পর এক মামলা দিয়ে ইচ্ছেমতো প্রতিপক্ষকে হয়রানী করে যাচ্ছেন।
তুরুকভাগ পশ্চিমপাড়া গ্রামের মরম আলীর ছেলে পুলিশের এএসআই আলম আহমদের নেতৃত্বে চাচাতো ভাই লোকমান আলীর ছেলে নাছিম আহমদ, নজরুল আহমদ, মৃত মশাহিদ আলীর ছেলে লোকমান আলী, লুতু মিয়া, মরম আলীর ছেলে শাহিন আহমদ, মৃত মশাহিদ আলীর ছেলে মরম আলীগংরা শেলি বেগমের স্বামী লিলু মিয়া, বাঘা ইউনিয়নের প্রবীণ মুরব্বী লাল মিয়াসহ অন্যান্যদের বসতবাড়ি ও জমিজমার জোরপূর্বক দখলে নিতে চেষ্টায় লিপ্ত রয়েছেন। ওই পুলিশ সদস্য শেলি বেগমের ভিটভূমির জরিপও করতে বাধা দেন।
ভুক্তভোগীর অভিযোগের প্রেক্ষিতে গোলাপগঞ্জ উপজেলা নিবাহী কর্মকর্তা গত রোববার (২৩ আগস্ট) বিকাল ৪ টার দিকে সরকারি সার্ভেয়ার পাঠিয়ে শেলি বেগমর ও তার ভাসুড়দের বসতবাড়ির জায়গা ভাগভাটোয়ারা করে দিতে যান। কিন্তু অভিযুক্ত এএসআই আলম গংয়রা
সরকারী সার্ভেয়ারকে জরিপে বাধা প্রদান করে হুমকি দেন। এএসআই আলম আহমদ নিজে উপস্থিত থেকে তার সঙ্গীয় নাছিম আহমদ, নজরুল আহমদ, লোকমান আলী, লুতু মিয়া, শাহিন আহমদ, মরম আলী দেশীয় অস্ত্র নিয়ে শেলি বেগমের স্বামী স্বজনদের উপর হামলা চালায়। হামলায় শেলি বেগম ও তার স্বামী আহত হন। যা ভিডিও ফুটেজ ও ছবিতে দৃশ্যমান।
এ ঘটনায় শেলি বেগম বাদী হয়ে হামলায় নেতৃত্ব দেওয়া এএসআই আলমসহ জড়িতদের বিরুদ্ধে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
পক্ষান্তরে অভিযুক্তরা শেলি বেগম ও তার স্বামীর উপর হামলা এবং সাজানো একাধিক মামলা ও সাধারণ ডায়েরী দায়ের করেন। প্রতিপক্ষের করা এসব ষড়যন্ত্রমূলক মামলা প্রত্যাহারে এবং সঠিক তদন্তক্রমে অভিযুক্ত মামলাবাজ পুলিশ সদস্য এএসআই আলমগংদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি জোরদাবি জানান।



