আব্দুর রহমান : সিলেটে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোতে রোগীর চাপ বাড়ায় দেখা দিয়েছে বেড সংকট। জরুরি চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে এসে অনেক রোগীকেই বেড না পেয়ে অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কেউ কেউ বাধ্য হয়ে হাসপাতালের বারান্দা, করিডোর কিংবা মেঝেতে অবস্থান করছেন। আবার গুরুতর অসুস্থ রোগীকে এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে নিয়ে ছুটছেন স্বজনরা।

সিলেট নগরীর বিভিন্ন হাসপাতাল ও ক্লিনিক ঘুরে দেখা গেছে, প্রতিদিনই বহির্বিভাগ ও জরুরি বিভাগে উল্লেখযোগ্যসংখ্যক রোগী চিকিৎসা নিতে আসছেন। ভর্তি প্রয়োজন এমন রোগীর সংখ্যা বাড়লেও অনেক হাসপাতালেই পর্যাপ্ত বেড খালি না থাকায় তৈরি হচ্ছে জটিলতা। বিশেষ করে মেডিসিন, শিশু, গাইনি ওয়ার্ড এবং আইসিইউতে চাপ তুলনামূলক বেশি বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

রোগীর স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে ভর্তি হওয়ার জন্য দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে হচ্ছে। কোথাও বেড খালি হওয়ার অপেক্ষায় জরুরি বিভাগের সামনে রোগী নিয়ে বসে থাকতে হচ্ছে। আবার কোনো কোনো ক্ষেত্রে বেড না থাকায় রোগীকে অন্য হাসপাতালে পাঠিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এতে একদিকে যেমন চিকিৎসা পেতে দেরি হচ্ছে, অন্যদিকে বাড়ছে রোগী ও স্বজনদের ভোগান্তি।

মাছুম আহমদ রোগীর স্বজন বলেন, “আমার মা গত দুদিন আগে হঠাৎ রাত্রে অসুস্থ হলে রোগীকে দ্রুত হাসপাতালে ভর্তি করার প্রয়োজন ছিল। কিন্তু বেড না থাকায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হয়েছে। পরে অন্য হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়। অসুস্থ রোগী নিয়ে এক হাসপাতাল থেকে আরেক হাসপাতালে ছুটতে খুব কষ্ট হচ্ছে।”

সংশ্লিষ্টদের মতে, সিলেট বিভাগে চিকিৎসার জন্য শুধু নগরীর বাসিন্দারাই নয়, জেলার বিভিন্ন উপজেলা এবং পার্শ্ববর্তী জেলা থেকেও প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক রোগী আসেন। ফলে নগরীর হাসপাতালগুলোর ওপর অতিরিক্ত চাপ তৈরি হচ্ছে। বিশেষায়িত চিকিৎসা ও উন্নত সুযোগ-সুবিধার আশায় অনেক রোগী সিলেট নগরীর হাসপাতালমুখী হওয়ায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠছে।

স্বাস্থ্যসংশ্লিষ্টরা বলছেন, রোগীর সংখ্যা অনুযায়ী হাসপাতালের শয্যা, চিকিৎসক, নার্স ও অন্যান্য জনবল বাড়ানো না গেলে এ সংকট আরও প্রকট হতে পারে। পাশাপাশি সরকারি হাসপাতালগুলোতে শয্যা ও চিকিৎসা সুবিধা বাড়ানোর পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সেবার মান এবং বেড ব্যবস্থাপনাও নিয়মিত তদারকির আওতায় আনা প্রয়োজন।

রোগী ও স্বজনদের দাবি, সংকটাপন্ন রোগীদের জন্য হাসপাতালগুলোতে জরুরি বেড ব্যবস্থাপনা আরও কার্যকর করা দরকার। কোন হাসপাতালে কতটি বেড খালি রয়েছে—এমন তথ্য দ্রুত জানার ব্যবস্থা থাকলে রোগীদের এক হাসপাতাল থেকে অন্য হাসপাতালে ছোটাছুটি অনেকটাই কমানো সম্ভব।

এদিকে হাসপাতালগুলোতে বেড সংকটের প্রকৃত চিত্র জানতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে নিয়মিত তথ্য প্রকাশ এবং সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালগুলোর শয্যা সক্ষমতা ও রোগীর চাপের পরিসংখ্যান প্রকাশের দাবি উঠেছে।

চিকিৎসা নিতে এসে যদি রোগীকেই বেডের জন্য অপেক্ষা করতে হয়, তাহলে তা শুধু অবকাঠামোগত সংকট নয়—এটি পুরো স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থার ওপর বাড়তে থাকা চাপেরও একটি বড় ইঙ্গিত।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *