সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে মাদকবিরোধী অভিযান চালিয়ে আটক করা প্রায় দুই লাখ বিশ হাজার টাকা মূল্যের ভারতীয় নাসির বিড়ির হদিস মিলছে না। এসব বিড়ি পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে আত্মসাৎ করার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা মাদক নির্মুল ঐক্য পরিষদ তাহিরপুর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হুদার বিরুদ্ধে। আল আমিন হুদা উপজেলার বাদাঘাট ইউনিয়ন যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক ও কামড়াবন্দ গ্রামের বাসিন্দা। এ ঘটনায় এলাকায় সমালোচনা ঝড় বইছে। ঘটনাটি শাক দিয়ে মাছ ডাকতে গিয়ে রাতে আল আমিন হুদা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে দাবি করেছেন, ভারতীয় নাসির বিড়ি বিক্রির লাইসেন্স রয়েছে, সে এ বিষয়ে জেলা কমিটির সভাপতির কাছে নিশ্চিত হয়েছে। আটককৃত বিড়িগুলো যাচাই-বাছাই করে মাদকদ্রব্য না হওয়ায় প্রকৃত মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছে। এ বিষয়টি বিএনপি সংশ্লিষ্ট অনেকেই অবগত করেছেন তিনি। তবে পোস্টে আটককৃত নাসির বিড়ির প্রকৃত মালিকের নাম প্রকাশ করেননি তিনি।

জানা যায়, রোববার সকালে উপজেলার বাদাঘাট এলাকার কুকুরকান্দি থেকে ভারতীয় চার কাটুন নাসির বিড়ি আটক করে উপজেলা মাদক নির্মুল ঐক্য পরিষদ তাহিরপুর কমিটির সাধারণ সম্পাদক আল আমিন হুদার নেতৃত্বে একটি টিম। অভিযোগ রয়েছে, আটকের পর বিড়িগুলো পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করেন তিনি। স্থানীয়দের দাবি, আটক করা বিড়িগুলোর বাজারমূল্য প্রায় দুই লাখ বিশ হাজার টাকা। এসব বিড়ির মালিক ফকিরনগর গ্রামের মাদক সম্রাট কদ্দুস মিয়ার। এদিকে ঘটনাটি জানাজানি হওয়ার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানা প্রশ্ন তুলেছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধি সহ স্থানীয়রা।

সুমন তালুকদার নামে একজন এক মন্তব্যে লেখেন, অবৈধ নাসির বিড়ি পুলিশের কাছে হস্তান্তর না করে পুনরায় মালিকের কাছে সমঝে দেওয়া হলে তার প্রমাণ কী।

ছাত্রদল নেতা আবুল হাসনাত আবদুল্লাহ তাঁর মন্তব্যে দাবি করেন, চার কাঁচা নাসির বিড়ি আটক করার পর সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি কেন। তিনি কমিটির কার্যক্রম নিয়েও প্রশ্ন তোলেন।

তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে আল আমিন হুদা তাঁর ফেসবুক পোস্টে বলেন, আটক করা বিড়িগুলো যাচাই-বাছাই শেষে সরাসরি মাদকদ্রব্য নয় জানতে পেরে মালিকের কাছে হস্তান্তর করেছেন তিনি।

স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা বলেন, আটক করা বিড়িগুলোর প্রকৃত উৎস, বৈধতা এবং কীভাবে সেগুলো পুনরায় মালিকের কাছে গেল—এসব বিষয় নিরপেক্ষভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে আটক করা বিড়িগুলো বর্তমানে কোথায় রয়েছে এবং প্রকৃত মালিক কে, তাও খতিয়ে দেখার দাবি জানান তারা।

এ বিষয়ে ফকিরনগর গ্রামের চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ি কুদ্দুস মিয়া বলেন, তিনি একটি মাদক মামলার আসামি, বাজার হাটে তেমন যান না। তাকে আল আমিন হুদা বলছিলো বাদাঘাট বাজারে গিয়ে দেখা করতে, কিন্তু দেখা করতে পারেন নি। যার করার কারণে আমার চার খাঁচা ভারতীয় নাসির বিড়ি সহ একটি কাঠের নৌকা আল আমিন হুদা সহ তার টিম ধরে নিয়ে গেছে। যার মূল প্রায় দুই লাখ বিশ হাজার টাকা।

তাহিরপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মোহাম্মদ ফারুক আহমেদ বলেন, ভারতীয় ‘নাসির বিড়ি’ সম্পূর্ণ অবৈধ ও নিষিদ্ধ। মাদক নির্মূল কমিটির সাধারণ সম্পাদকের নেতৃত্বে যদি এসব বিড়ি আটক করা হয়ে থাকে, তাহলে তা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা উচিত ছিল। তিনি আরও বলেন, আটক করা কোনো পণ্য যাচাই-বাছাইয়ের প্রয়োজন হলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দেওয়া যেতে পারে। কিন্তু আটক করা পণ্য অন্যত্র হস্তান্তর করার সুযোগ নেই।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *