বিএনপি সরকার আমলেও বদলি আলী আকবর, সিসিক ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন

বিএনপি সরকার আমলেও বদলি আলী আকবর, সিসিক ঘিরে উঠছে নানা প্রশ্ন

সরকারে বিএনপি। তারপরও সিলেট সিটি করপোরেশন থেকে বদলী হতে হলো ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো: আলী আকবরকে। নবগঠিত বগুড়া সিটি করপোরেশনের প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব দিয়ে বদল করা হয়েছে তাকে। গত রোববার নতুন কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে সিলেট ত্যাগ করেন তিনি।

এ বদলি ঘটনার নৈপথ্যে সিসিকে ফ্যসিস্ট চক্রের নানামুখী যড়যন্ত্র বলে, মনে করছেন অনেকে। মুলত সিসিককে অকার্যকর ও গণবিমূখ করতে এহেন মিশন তাদের। ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকারের দীর্ঘ ক্ষমতায় আওয়ামীলীগ ঘরনার লোকদের নিয়োগ ছিল বাধ্যতামুলক সিসিকে। তারা কর্তৃত্ব করেছে সিসিকজুড়ে।

জাতীয়তাবাদী ঘরনার হাতে গোনা যে দুই একজন কর্মকর্তা ছিলেন সিসিকে, তারাও ছিলেন কোনঠাসা। একান্ত চাকুরীর স্বার্থে চাকুরী করেন তারা। সেই তালিকার একজন প্রকৌশলী মো: আলী আকবর।

ইতিপূর্বে বদলি করা হয় সিসিকের প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজুর রহমানকে। ২০২৫ সালের আগস্ট মাসে ইউনুস সরকারের আমলে ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে প্রেষণে বদলী করা হয় তাকে। নূর আজিজর রহমানের কর্মদক্ষতা ও বিচক্ষনতা ছিল ঈষর্নীয়। তার কাজের প্রতিযোগীতারাও অনায়াসে স্বীকার করেন বিষয়টি। রাষ্ট্রের সবোর্চ্চ পর্যায়ে নেটওয়ার্ক সহ কর্মপরিকল্পনা গ্রহন ও বাস্তবায়নে তার অভিজ্ঞতা ছিল নখদর্পনে। কিন্ত তিনি চলেও যাওয়ায় কর্ম কৌশলে প্রণয়ন ও বাস্তবায়নে ধাক্কা খায় সিসিক। এরপর ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী হিসেবে দায়িত্ব নেন জাতীয়তাবাদী আর্দশের পরীক্ষিত দেশপ্রেমিক মো. আলী আকবর। তার বদলি ঘটনায় বিরাজ করছে চাঞ্চল্য সিলেটে।

বিএনপির ঘাঁটি হিসেব পরিচিত সিলেট। সেই সিলেট ঘিরে বর্তমান সরকারের উন্নয়ন পরিকল্পনা ব্যাপক। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রতিশ্রুতিও সিলেটবাসীর প্রত্যাশায় ঘেরা। পরিকল্পনা বাস্তবায়নে অভিজ্ঞ ও সরকার বান্ধব কর্মকর্তাদের সংযুক্তি আবশ্যক। এরকম পরিস্থিতিতে পরীক্ষিত লোকদের বিদেয় করার নানা ছকে কাজ করছে নিষিদ্ধ ও স্বার্থান্বের্ষী চিন্থিত কিছু মহল।

সিসিকের অভ্যন্তরে তারা এখন সক্রিয়। সাম্প্রতিক সময়ে সিসিকের প্রাতিষ্ঠানিক ইমেজ বিতর্কিত করতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যেম সরব হয়ে উঠছে এই চক্র। অত্যন্ত কৌশলে নাম পরিচয়ের আড়ালে সিসিক ও সিসিক কর্মকর্তাদের বিব্রত ও বিতর্কিত করতে চালাচ্ছে অপপ্রচারের ঝড়।

অথচ ৫ আগস্ট দেশের রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পূর্বে ফ্যাসিস্ট আওয়ামীলীগ সরকারের সময় সিসিকের কার্যক্রম ও কর্মকর্তাদের ব্যাপারে তারা ছিল প্রশ্নবিদ্ধ চুপ। পদচ্যুত মেয়র আনোয়ারুজ্জামান চৌধুরীর সময় সিসিক ছিল দলীয় কার্যালয় তুল্য। অর্থ লোপাটের ঘটনা ছিল ওপেন সিক্রেট। এছাড়া নিয়োগে দলীয়করন ছিল, অকল্পনীয়।

হাসিনা পতনের পর ইউনুস সরকারকালীন সময়ও চুপ ছিল, সিসিকে কর্মরত ফ্যাসিস্ট চক্র। চিন্থিত অনেকে ছাত্র জনতার ক্ষোভে সিসিক ছেড়ে গা-ঢাকা দেয় কৌশলে। কিন্তু এই চক্র এখন সক্রিয় হয়ে উঠছে সিসিকে কর্মরত তাদের গুপ্ত লোকদের সরবরাহকৃত অপতথ্যের ভিত্তিতে। তথ্যগুলোকে সামনে রেখে আপাতত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিক্ষণ ছড়াচ্ছে অপপ্রচার।

বিশেষ করে তাদের অপতৎপরতায় শিকার হয়ে বিব্রত হচ্ছেন দীর্ঘ সময়ের কোনঠাসা ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তারা। তাদের পরিকল্পনা পরীক্ষিত লোকদের সরিয়ে দিতে পারলে, সিসিকে কাজের পরিবেশ ও মনযোগ নষ্ট হবে, সেই সাথে নিরাপদ হবে ফ্যাসিষ্ট চক্রের অবস্থান, তাদের গতিবিধি ও তৎপরতা নজরদারী থেকে দৃষ্টি সরবে সংশ্লিষ্টদের, এমন মিশন তাদের। এতে তদারকী সংশ্লিষ্টরা ‌‌”চাচা আপন জান বাঁচা’ তে ব্যস্ত হয়ে পড়বেন, বলে মনে করছে ষড়যন্ত্রকারী চক্র। তাদের মিশন আপাতত সফল, এমন কথা বলছেন, কিছু বিজ্ঞজন। কারন ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সরকারও বদলি করতে পারেনি সদ্য বদলির মুখে পড়া ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মো: আলী আকবরকে।

অথচ আলী আকবর সরাসরি ছাত্রদল রাজনীতি থেকে উঠে আসা জাতীয়তাবাদী আদর্শের পরীক্ষিত লোক। যদিও ওই পরিচয়ের কারনে ২০০৭ সালে সিসিকে যোগদানে বাধা পড়েন তিনি।

তৎকালীন সিসিক মেয়র বদর উদ্দিন আহমদ কামরান একান্ত দলীয় পরিচয়ের কারনে যোগদানের পথে বাধা হয়ে দাঁড়ান। দীর্ঘ কালক্ষেপন শেষে এক পর্যায়ে নাটোর পৌরসভার সহকারী প্রকৌশলী থেকে সিসিকে যোগদানে সফল হন তিনি। সিসিকের বদলীকৃত ভারপ্রাপ্ত প্রকৌশলী মো: আলী আকবর বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েটে) এর শেরে বাংলা হল ছাত্র সংসদের ছিলেন নির্বাচিত এজিএস।

পরবর্তীতে ১৯৯২-৯৩ সেশনে ওই হলের ভিপি নির্বাচিত হন জাতীয়তাবাদী ছাত্র দলের প্যানেলে। মেধাবী ও তুখোড় ছাত্র নেতা হিসেবে তার পরিচিতি ছিল ছাত্র রাজনীতির প্রাণকেন্দ্রে। সেকারনে চিন্থিত করে সিসিকে রাখা হয় কোনঠাসা তাকে। পরবর্তীতে ২০১৩ ও ২০১৮ সালে পরপর বিএনপির সমর্থনে আরিফুল হক চৌধুরী মেয়র নির্বাচিত হওয়ায় কাজের পরিবেশে নিয়োজিত করার সুযোগ পান প্রকৌশলী আলী আকবর।

সর্বশেষ ২০২৩ সালের মেয়র নির্বাচনে বিএনপি বয়কট করলে, ভোট ইন্জিনিয়ারিংয়ে মেয়র নির্বাচিত হন যুক্তরাজ্য আ’লীগ নেতা আনোয়ারুজাম্মান চৌধুরী। এরপর পুনরায় চাপে পড়েন আলী আকবর। ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট শেখ হাসিনার পর ঘটলে, আলী আকবরের মতো বিএনপি ঘরনার কোনঠাসা কর্মকর্তারা সিসিকে কাজের কাংখিত পরিবেশে ফিরে আসার সুযোগ ঘটে।

এমতাবস্থায় প্রধান প্রকৌশলী নূর আজিজের বদলী হলে ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব পড়ে আলী আকবরের উপর। নানা সীমাবদ্ধতার মধ্যে বর্তমান বিএনপির সরকারের জনবান্ধব পদক্ষেপ সফলে দক্ষতার সাথে অর্পিত দায়িত্ব নিয়ে সহযোগীতা করে যাচ্ছিলেন প্রশাসক ও সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীকে। জনগুরুত্বপূর্ণ এ দায়িত্ব পালনের সফলতার উপর নির্বাচন করছে আগামী দিনে সিসিক নির্বাচনে বিএনপির জয়-পরাজয় হিসেব। নতুন সরকার ও প্রশাসক হিসেবে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরীর সংযোগও প্রথম। সেকারনে সিসিককে শক্তিশালী ও জনবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিতে দক্ষ ও দেশপ্রেমিক কর্মকর্তাদের সংযুক্ত ও অংশগ্রহন জরুরী। অথচ সেই জায়গা ঘিরে ষড়যন্ত্রের জাল বিস্তার করেছে ফ্যাসিস্ট ও স্বার্থান্বেষী গোষ্টি।

সিসিকের একাধিক সূত্র বলছে, সিসিকে কাজের পরিবেশ নষ্ট ও দেশ প্রেমিক কর্মকর্তাদের বিতর্কিত, বদলী করার অপচেষ্টা চলছে। এর প্রমান আলী আকবরের বদলী। দক্ষ ও অভিজ্ঞ লোকদের সরিয়ে নবাগত লোকদের এনে সিসিকে সিন্ডিকেট গড়ে তোলে নিয়ন্ত্রন নেয়ার মতলব করছে ওরা। এছাড়া হাসিনার অামলে কোনঠাসা কর্মকর্তাদের বুকে ও মুখে রয়েছে ফ্যাসিস্ট দাস কর্মকর্তাদের আমলনামা। তাই এই কর্মকর্তাদের বিদেয় করতে পারলে নিরাপদ হতে পারবে ওই সময়ের অপরাধি চক্র। । একারনে তারা এখন দেশে বিদেশে বসে সিসিক ঘিরে বুনছে যড়যন্ত্রের জাল।

তারা বলেছেন, বিশেষ করে ওই সময় ফ্যাসিস্ট আমলে যারা সিসিকে প্রভাব বিস্তার করেছিলেন, সেই কর্মকর্তাসহ সুবিধাভোগীরা এখন শংকিত তাদের বর্তমান ও ভবিষ্যত নিয়ে। সেই শংকা থেকে সিসিককে অরাজকতা ও অস্থির রাখার মিশনে নেমেছে তারা। একই সাথে বঞ্চিত কর্মকর্তাদের বিদেয় করতে পারলে, খোলস পাল্টে বিএনপি পরিচয়ে পতিত আওয়ামীলীগের স্বার্থ রক্ষা ও নিজেদের চাকুরী ও ফায়দা হাসিলের নতুন ধান্ধ্যা এখন তাদের।

 

 

আমারসিলেট/হা

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২৮
  • ১১:৪৮
  • ৪:০৬
  • ৫:৫১
  • ৭:০৪
  • ৫:৪১