সিলেটের সাহিত্য অঙ্গনে নিবেদিত একজন কেমুসাসের সাধারণ সম্পাদক সাহিত্যের সাথে তার শুরুটা সেই শৈশব থেকেই। কথাসাহিত্যিক লেখক সাংবাদিক সেলিম আউয়াল কেমুসাসের সাধারণ সম্পাদক হয়ে সাহিত্য নিয়ে আরো একদাপ কাজ করছেন। কিভাবে তিনি জীবন সদস্য হলেন সেই স্মৃতি থেকে লিখছেন তিনি -বইয়ের খনি হাতের মুঠোয়, আমার সিলেট পাঠকের জন্য সাহিত্য পাতা যুক্ত করা হলো।

তারপর ফাইভ-সিক্সে থাকতেই পেয়ে যাই কেন্দ্রীয় মুসলিম সাহিত্য সংসদের পাঠাগারের সন্ধান। আর আমাকে পায় কে? আমি একা একাই সাহিত্য সংসদের পাঠাগারের সদস্য হই। শিশুদেরকে মেম্বার করা হতো, তাদেরকে বলা হতো ‘মুকুল সদস্য’, আমাকে ‘মুকুল সদস্য’ করা হতো। ভুলে গেছি, বার্ষিক চাঁদা ছিলো মনে হয় পাঁচ টাকা। একজন একসাথে একটি বই বাসায় নিয়ে পড়তে পারতো। শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ নূরুল ছিলেন সাহিত্য সংসদের সেক্রেটারি। তখন অবশ্য সাহিত্য সংসদ বলতে বুঝতাম বিশাল একটি লাইব্রেরি।

নুরুল হক সাহেব বই ইস্যু করতেন। নিজে পছন্দ করে আনতাম, আবার তাঁর পছন্দের বইও পড়তে হতো। আমি প্রতিদিনই পাঠাগারে বই আনতে যেতাম। এতোসব পড়তাম, একদিনেই একটা শেষ করে ফেলতাম। বেশি পড়তাম জীবনী, আহমদ পাবলিশিং-য়ের জীবনী সিরিজ ছিলো পেপারব্যাকের মতো। জীবনী তাকের সবগুলোই পড়ে ফেলেছিলাম। মাঝেমধ্যে নুরুল হক সাহেব পাঠ করা বইটি কেমন লেগেছে ইত্যাদি প্রশ্ন করতেন। সেটা যে আমার ভাইভা পরীক্ষা ছিলো, তখন বুঝতে পারিনি, এখন বুঝতে পারছি।

নূরুল হক সাহেবের কাছে পাশ করে আমার প্রমোশন হয়ে যায়, তিনি আমাকে প্রায়ই দুটো বই, মাঝেমধ্যে তিনটে বই বাসায় আনতে দিতেন। তাঁর স্নেহের কারণে আমি ইন্টারমিডিয়েটে থাকতেই সাহিত্য সংসদের লাইফ মেম্বার হয়ে যাই। তখন লাইফ মেম্বার ফি ছিলো তিনশত টাকা। নুরুল হক সাহেব বুঝতে পারলেন তিনশত টাকা আমি একসাথে দিতে পারবো না, আমাকে বিশেষ অফার দিলেন-টাকা ভেঙ্গে ভেঙ্গে দিতে পারবো। আমাকে আর পায় কে, আমি সাথে সাথে ফরম ফিলাপ করি।

তারপর দশ টাকা-বিশ টাকা করে অনেক দিনে তিনশ টাকা শোধ করেছিলাম। ভেঙ্গে ভেঙ্গে টাকা পরিশোধের সুসমাচার শুনে মোয়াজ আফসারও আমার পথ ধরলো, সেই ভেঙ্গে ভেঙ্গে টাকা পরিশোধ পদ্ধতি। আমার লাইফ মেম্বার নম্বর ১৩০ এবং মোয়াজ আফসারের লাইফ মেম্বার নম্বর ১৩১। আফসার হচ্ছে আমার প্রাইমারি স্কুল জীবন থেকে বন্ধু, ও ভ্রমণকাহিনি লেখে। সকল প্রশংসা মহান আল্লাহর। এখন শ্রদ্ধেয় মুহম্মদ নুরুল হক সাহেবের দায়িত্ব আমি পালন করার চেষ্টা করছি (তাঁর মতো যোগ্যতা আমার নেই), অর্থাৎ আমি এখন মুসলিম সাহিত্য সংসদের সাধারণ সম্পাদক।

[ছবি: বিশিষ্ট কবি ও সিনিয়র সচিব নিয়ামত ভূইয়াকে নিয়ে আড্ডা ও সাহিত্য সংসদ ভবন]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *