নিজাম উদ্দীন সালেহ
১৪ বছর বয়সে বেশিরভাগ কিশোর যখন স্কুলের পরীক্ষা নিয়ে ব্যস্ত, তখন দুবাইয়ের আকাশ ছুঁয়েছে এক ভারতীয় বংশোদ্ভূত কিশোরের নাম। তার নাম জয়নাম জৈন । দুবাইয়ের বিশ্বের সবচেয়ে উঁচু ভবন বুর্জ খলিফার ১৪১ তলায় তার অফিস, আর সেখান থেকেই তিনি চালাচ্ছেন তার এআই স্টার্টআপ। এই কারণেই টেক দুনিয়ায় তাকে ডাকা হচ্ছে ‘নেক্সট ইলন মাস্ক’। তার জন্মস্থান ভারতের পুনে। বয়স ১৪ বছর। ৫ বছর বয়সে পরিবারের সাথে দুবাইয়ে পাড়ি জমান।
মেঙ্গো ইঞ্জিন নামে একটি এআই প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেন, যা ছোট ব্যবসার মার্কেটিং, কনটেন্ট তৈরি, লিড ম্যানেজমেন্ট ও কাস্টমার কমিউনিকেশন অটোমেট করে। দুবাইয়ের সবচেয়ে কম বয়সী এআই ফাউন্ডার জয়নামের গল্প শুরু ৬ বছর বয়সে। বাবার সাথে প্রথম বিজনেস মিটিংয়ে গিয়েই ব্যবসার প্রতি কৌতূহল জন্মায় তার। বাবা-মা বই ভর্তি বাড়িতে বড় করেছেন, যেখানে ব্যর্থতার ভয় ছাড়াই বড় স্বপ্ন দেখতে উৎসাহ দেওয়া হতো ৭ বছর বয়সে ছোট বোনের সাথে ইউটিউবে খেলনার আনবক্সিং দিয়ে শুরু, পরে সায়েন্স এক্সপেরিমেন্ট ভিডিও। মাত্র ৩ মাসে ১ লাখ সাবস্ক্রাইবার পার করে তাদের একটি চ্যানেল।
২০২২ সালে মাত্র ১২ বছর বয়সে বোনের সাথে ৫০ দিনে ১২০টি মোটিভেশনাল সেশন করেছেন মহারাষ্ট্র জুড়ে, ৬,০০০ কিমি ভ্রমণ করে ৫০,০০০ মানুষের কাছে পৌঁছেছেন।প্রচলিত স্কুলে নয়, তিনি বিকল্প শিক্ষা বেছে নেন। মাত্র ১০৫ দিনে কেমব্রিজ আইজিসিএসই দশম শ্রেণির পরীক্ষা শেষ করেন ১৩ বছর বয়সে। এরপর পুরো সময় দেন নিজের স্টার্টআপে। তিনি বলেন, বই ছিল তার বেস্ট ফ্রেন্ড, আর তিনি এআই শিখেছেন ইউটিউব, অনলাইন রিসোর্স আর হাতে-কলমে পরীক্ষা করে। শ্রীলঙ্কায় এক সঞ্চালক তাকে সরাসরি ‘নেক্সট ইলন মাস্ক’ বলে পরিচয় করিয়ে দেন। কারণ, মাস্কের মতোই গতানুগতিক শিক্ষার বাইরে গিয়ে বাস্তব অভিজ্ঞতায় বিশ্বাসী ছোট বয়সে বড় সমস্যার সমাধানে টেক ব্যবহার।
তার স্বপ্ন, একটি গ্লোবাল ইউনিকর্ন কোম্পানি বানানো যা দুনিয়ায় প্রভাব ফেলবে। তার স্টার্টআপ ‘মেঙ্গো ইঞ্জিন’ এখনো বেটা পর্যায়ে আছে, প্রায় ১০০টি ব্যবসা ওয়েটিং লিস্টে আছে বলে রিপোর্টে জানানো হয়েছে, তবে এটি এখনো পেইড কাস্টমার বা রেভিনিউয়ের প্রমাণ নয়। জয়নামের গল্প প্রমাণ করে, বুর্জ খলিফার অফিসটা আসলে প্রতীক। আসল গল্পটা হলো, বয়স কখনো স্বপ্নের আকার ঠিক করে না।
