দিনের প্রথম দুই সেশন দারুণ কাটল বাংলাদেশের। দুই সেশন মিলিয়ে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে চতুর্থ দিনেই জয়ের আশা জাগিয়েছিল বাংলাদেশ। কিন্তু চিত্রপট বদলে যায় সালমান আলী আঘা আর মোহাম্মদ রিজওয়ানের জুটিতে। উল্টো হারের শঙ্কা চেপে বসেছিল। শেষ বিকেলে জোড়া উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি ফিরিয়েছেন তাইজুল।

আজ মঙ্গলবার (১৯ মে) সিলেট ইন্টারন্যাশনাল ক্রিকেট স্টেডিয়ামে চতুর্থ দিন শেষে নিজেদের দ্বিতীয় ইনিংসে ৭ উইকেট হারিয়ে ৩১৬ রান তুলে পাকিস্তান। এখনও তারা পিছিয়ে আছে ১২১ রানে। ১৩৪ বলে ৭৫ রানে অপরাজিত আছেন রিজওয়ান আর সাজিদ খান ৯ বলে ৮ রানে।

দিনের শুরুতেই পাকিস্তানের দুই ওপেনারকে ফেরায় বাংলাদেশ। ১১তম ওভারে নাহিদ রানার দ্বিতীয় বলে গালিতে দুর্দান্ত ক্যাচ নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। ফেরার আগে পাকিস্তান ওপেনার আব্দুল্লাহ ফজলের ব্যাট থেকে এসেছে ২৮ বলে ৬ রান।

ঢাকা টেস্টে অভিষেক হওয়া পাকিস্তানি ওপেনার আজান বাংলাদেশের মাথা ব্যথার কারণ। তাকে ছেঁটে ফেলে সেই মাথাব্যথা দূর করেন মেহেদী হাসান। ১৬তম ওভারে এলবিডব্লিউয়ের ফাঁদে ফেলে আজানকে ফেরান মিরাজ। রিভিও নিয়েও কাজ হয়নি আজানের। ফিরেছেন ৪৯ বলে ২১ রান করে।

দুই ওপেনার ফেরার পর জুটি বাঁধেন দুই অভিজ্ঞ শান মাসুদ আর বাবর আজম। তৃতীয় উইকেটে প্রায় শতক ছোঁয়া জুটি গড়েছিলেন এই দুজন। মধ্যাহ্ন বিরতি থেকে ফেরার পর ৯২ রানের সেই জুটি ভাঙলেন তাইজুল।

৩৫তম ওভারে তাইজুলের লেগসাইডে বেড়িয়ে যাওয়া বল ব্যাট স্পর্শ করে জমা হয় উইকেটরক্ষক লিটন দাসের গ্লাভসে। ফেরার আগে ৫২ বলে ৪৭ রান করেন তিনি।

এরপর দ্রুতই আরও দুই উইকেট তুলে নেয় বাংলাদেশ। সৌদ শাকিলকে বেশি সময় উইকেটে থিতু হতে দেননি নাহিদ রানা। তার গতির বল ব্যাট স্পর্শ করে জমা হয় লিটন দাসের গ্লাভসে। ২১ বলে ৬ রান করে ফেরেন তিনি।

পরের ওভারে উইকেটে থিতু হয়ে থাকা পাকিস্তান অধিনায়ক শান মাসুদকে মাহমুদুল হাসান জয়ের দারুণ ক্যাচ বানিয়ে ফেরত পাঠান তাইজুল। ১১৬ বলে ৭১ রানের ইনিংস থামে মাসুদের।

এরপর ৩৭ ওভারে ১৩৪ রানের জুটি গড়েন সালমান আলী আঘা আর মোহাম্মদ রিজওয়ান। শেষ বিকেলে তাদের এই জুটি ভেঙে বাংলাদেশ শিবিরে স্বস্তি আনেন তাইজুল। নিজের পরপর দুই ওভারে দুই উইকেট তুলে নেন তিনি।

ম্যাচের ৮২তম ওভারে সালমানকে ফিরিয়ে পাকিস্তানের প্রতিরোধ ভাঙেন তাইজুল। বোল্ড হয়ে ফেরার আগে ১০২ বলে ৭১ রান করেন সালমান। নিজের পরের ওভারে এসে আবারও তুলে নেন তাইজুল। নতুন ব্যাটার হাসান আলীকে ফেরান নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ বানিয়ে। রানের খাতাই খুলতে পারেননি হাসান।

এর আগে কোনো উইকেট না হারিয়ে শূন্য রানে চতুর্থ দিন শুরু করেছিল পাকিস্তান। আগের দিন শেষ বিকেলে দুই ওভার ব্যাট করে কোনো রান যোগ করতে পারেননি পাকিস্তানের দুই ওপেনার আজান আওয়াইস ও আব্দুল্লাহ ফজল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *