
বিশ্বে তীব্র খাদ্যসংকটে থাকা দেশের তালিকায় শীর্ষ ১০টির মধ্যে বাংলাদেশও রয়েছে। গত বছর খাদ্যনিরাপত্তাহীনতায় ভোগা মানুষের দুই-তৃতীয়াংশই এই ১০টি দেশে বসবাস করেছে। চলতি বছরও এসব দেশের পরিস্থিতির উল্লেখযোগ্য উন্নতির সম্ভাবনা কম বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
শুক্রবার (২৪ এপ্রিল) প্রকাশিত ‘গ্লোবাল রিপোর্ট অন ফুড ক্রাইসিস’ শীর্ষক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়। জাতিসংঘ, ইউরোপীয় ইউনিয়ন এবং বিভিন্ন মানবিক সংস্থার তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বর্তমানে তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তা আফগানিস্তান, বাংলাদেশ, কঙ্গো, মিয়ানমার, নাইজেরিয়া, পাকিস্তান, দক্ষিণ সুদান, সুদান, সিরিয়া ও ইয়েমেনে সবচেয়ে বেশি কেন্দ্রীভূত। বাংলাদেশ ও সিরিয়ার মতো কিছু দেশে পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও অন্যান্য দেশে অবনতির কারণে সামগ্রিক চিত্র উদ্বেগজনকই রয়ে গেছে।
২০২৬ সালের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, সংঘাত ও চরম আবহাওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে। প্রতিবেদনে প্রথমবারের মতো একই বছরে গাজা ও সুদানে দুর্ভিক্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। গত বছর ৪৭টি দেশে প্রায় ২৬ কোটি ৬০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্য অনিরাপত্তার শিকার হয়েছে, যা ২০১৬ সালের তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ।
খাদ্যসংকটের প্রধান কারণ হিসেবে সংঘাত, জলবায়ু পরিবর্তন ও অর্থনৈতিক অস্থিরতাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক সহায়তায় ঘাটতি, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, শরণার্থী বৃদ্ধি এবং জ্বালানি ও সারের দাম বৃদ্ধিও সংকটকে তীব্র করছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক কৃষি উন্নয়ন তহবিল (আইএফএডি)-এর প্রধান আলভারো লারিও বলেন, জ্বালানি ও সারের দাম বাড়ায় খাদ্য উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। তিনি ক্ষুদ্র কৃষকদের সহায়তা বাড়ানো এবং জলবায়ুসহিষ্ণু কৃষিতে বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, স্থানীয়ভাবে সার উৎপাদন এবং মাটির স্বাস্থ্য উন্নয়নের মাধ্যমে সারের ওপর নির্ভরশীলতা কমানো গেলে খাদ্যসংকট মোকাবিলা সহজ হতে পারে। একই সঙ্গে টেকসই উন্নয়নে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়ানোরও আহ্বান জানানো হয়েছে।



