দীর্ঘদিন ধরে একটি ধারণা প্রচলিত আছে যে মোবাইল, ল্যাপটপ বা টিভির স্ক্রিন থেকে নির্গত নীল আলো আমাদের ঘুমের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। কিন্তু সাম্প্রতিক গবেষণা বলছে, বাস্তবতা আরও জটিল এবং সম্ভবত এই আলোই ঘুমের প্রধান শত্রু নয়। এই আলো কিছুটা ক্ষতি করলেও মূল সমস্যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনযাপনে।

বাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে জাইমা রহমানবাংলাদেশ-নিউজিল্যান্ড ম্যাচ দেখতে স্টেডিয়ামে জাইমা রহমান
গত এক দশক ধরে নীল আলো নিয়ে ব্যাপক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। ধারণা করা হয়, এই আলো শরীরের স্বাভাবিক জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদমকে ব্যাহত করে, যার ফলে ঘুমের সমস্যা দেখা দেয়। কিছু গবেষণায় এর পক্ষে প্রমাণও পাওয়া গেছে। যেমন ২০১৪ সালের এক গবেষণায় দেখা যায়, যারা ঘুমানোর আগে মোবাইল ফোন ব্যবহার করেন তারা দেরিতে ঘুমান, কম মেলাটোনিন উৎপন্ন হয় এবং পরদিন বেশি ক্লান্ত বোধ করেন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, নীল আলো নিয়ে প্রচলিত ধারণার অনেকটাই অতিরঞ্জিত। স্ট্যানফোর্ডের গবেষক জেমি জেটজার জানান, ল্যাবরেটরির পরীক্ষার পরিবেশ বাস্তব জীবনের মতো নয়। সেখানে কম আলোতে রেখে হঠাৎ উজ্জ্বল আলো দেওয়া হয়, যা স্বাভাবিক পরিস্থিতি প্রতিফলিত করে না। বাস্তবে মোবাইল বা স্ক্রিনের আলো খুবই কম, যা ঘুমে সামান্য গড়ে কয়েক মিনিট প্রভাব ফেলতে পারে।

তাহলে ঘুমের সমস্যা বাড়ছে কেন?

বিশেষজ্ঞদের মতে, মূল কারণ জীবনযাত্রার পরিবর্তন। এখন মানুষ দিনে কম প্রাকৃতিক আলো পায় এবং রাতে কৃত্রিম আলোর মধ্যে বেশি সময় কাটায়। এর ফলে শরীর দিন-রাতের পার্থক্য ঠিকভাবে বুঝতে পারে না। পাশাপাশি, মোবাইলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বা ভিডিও দেখার মতো মানসিকভাবে উদ্দীপক কার্যকলাপ ঘুম বিলম্বিত করার বড় কারণ।

গবেষক থমাস জার্মেইন নিজেও নীল আলো এড়িয়ে পরীক্ষা চালিয়ে দেখেছেন, এতে ঘুমের পরিমাণে বড় পরিবর্তন না এলেও ঘুমের সময় কিছুটা নিয়মিত হয়েছে।

সব মিলিয়ে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ভালো ঘুমের জন্য দিনে বেশি আলো গ্রহণ ও রাতে আলো কমানোই বেশি কার্যকর। অর্থাৎ, ঘুমের সমস্যার জন্য শুধু নীল আলো নয়, বরং আমাদের দৈনন্দিন অভ্যাসও দায়ী। [সূত্র: বিবিসি]

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *