বাইশটিলা ন্যাচারাল পার্ক ঘিরে মহাপরিকল্পনা

উন্মোচন হচ্ছে সিলেটের পর্যটনে নতুন দিগন্ত

উন্মোচন হচ্ছে সিলেটের পর্যটনে নতুন দিগন্ত

সিলেটের পর্যটন শিল্পে যোগ হতে যাচ্ছে এক নতুন মাত্রা। ওসমানী আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর সংলগ্ন বাইশটিলা ন্যাচারাল পার্ককে কেন্দ্র করে একটি বিশাল মহাপরিকল্পনা হাতে নিয়েছে সিলেট জেলা পরিষদ। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে এটি কেবল সিলেট নয়, বরং দেশের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন কেন্দ্রে পরিণত হবে বলে আশা করা হচ্ছে।

শুক্রবার দুপুরে প্রকল্পের বর্তমান অগ্রগতি ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা সরেজমিনে পরিদর্শন করেন সিলেট-১ আসনের সংসদ সদস্য, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।

বর্তমানে ৪২.৪৭ একর জায়গাজুড়ে বিস্তৃত এই পার্কে প্রাকৃতিক অবকাশ যাপনকেন্দ্র নামক প্রথম ধাপের কাজ চলমান রয়েছে। স্থপতি রাজন দাশের নকশায় তৈরি এই প্রকল্পের মূল আকর্ষণগুলো হলো:

  • প্রাকৃতিক জলাশয় ও যাতায়াত: একটি নির্জন টিলা ও তার চারপাশের লেককে কেন্দ্র করে সাজানো হচ্ছে এই পার্ক। দর্শনার্থীদের রিলেপশন পয়েন্ট থেকে স্পিডবোট বা দেশীয় নৌকায় করে মূল টিলায় পৌঁছাতে হবে।

  • স্থাপত্যশৈলী ও বসার ব্যবস্থা: টিলার গায়ে সিঁড়ি বেয়ে উপরে উঠলে পাওয়া যাবে নান্দনিক ছাউনি। টিলার খাঁজে খাঁজে বিভিন্ন উচ্চতায় তৈরি করা হয়েছে ঐতিহ্যবাহী দু’চালা ও চৌচালা বসার স্থান।

  • প্রকৃতি ও বৃক্ষরোপণ: বিদ্যমান আকাশমণি গাছের পাশাপাশি সিলেটের স্থানীয় ও দেশি বৃক্ষ-গুল্ম রোপণকে এই প্রকল্পে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

  • বিনোদন ও সুবিধা: হালকা খাবারের জন্য কিচেন ও রেস্টরুমের পাশাপাশি থাকছে দড়ির তৈরি ঝুলন্ত সেতু (রোপ ব্রিজ) এবং বড়শি দিয়ে মাছ ধরার বিশেষ ব্যবস্থা।

বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির জানান, সরকার এই প্রকল্পে প্রয়োজনীয় অর্থায়ন করবে। জেলা পরিষদের মাস্টারপ্ল্যানে দ্বিতীয় ধাপের জন্য আধুনিক সব সুযোগ-সুবিধার প্রস্তাব করা হয়েছে: এর মধ্যে রয়েছে বড় টিলার চতুর্দিকে রোমাঞ্চকর ভ্রমণের জন্য ক্যাবল কারের ব্যবস্থা, শিশুদের জন্য বিভিন্ন রাইড ও খেলার জোন, পর্যটকদের থাকার জন্য আধুনিক রিসোর্ট, প্রশস্ত পার্কিং ও উন্নত রেস্টরুম।

পার্কটির ভূমির ইতিহাস বেশ পুরনো। ১৯৬২-৬৩ সালে প্রায় ৬৩.৯২ একর জমি অধিগ্রহণ করা হলেও বর্তমানে বিমানবন্দরের উন্নয়ন ও রাস্তার জন্য জমি ছাড় দেওয়ার পর জেলা পরিষদের অধীনে রয়েছে ৪২.৪৭ একর।

মাঝখানে জমির মালিকানা নিয়ে মামলা এবং ইজারাগ্রহীতার মাধ্যমে পরিবেশ ধ্বংসের (গাছ কাটা ও টিলা কাটা) মতো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটলেও, বর্তমানে সব জটিলতা কাটিয়ে জেলা পরিষদ নিজস্ব তত্ত্বাবধানে এই বিশাল কর্মযজ্ঞ শুরু করেছে।

এই প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত হলে সিলেটের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগের পাশাপাশি আধুনিক বিনোদনের এক চমৎকার মেলবন্ধন খুঁজে পাবেন পর্যটকরা।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৩:৫৩
  • ১১:৫৩
  • ৪:২৫
  • ৬:২৭
  • ৭:৪৮
  • ৫:১৪

পর্যটন নিয়ে আরও পড়ুন