
তিন দফা বাধা পেরিয়ে অবশেষে নির্বিঘ্নে শুরু হয়েছে সিলেট বইমেলা। নগরের কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে আজ রোববার বিকেলে মেলার আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন সিলেট সিটি করপোরেশনের (সিসিক) প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী।
বিকেল চারটায় কেন্দ্রীয় শহিদ মিনারের মুক্তমঞ্চে উদ্বোধনী অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘বইবিমুখ প্রজন্মকে বইমুখী করতে বইমেলার বিকল্প নেই।’ তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এ ক্ষেত্রে আন্তরিক। সিলেট অঞ্চলের শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতি গৌরবময় ঐতিহ্য বহন করে আসছে। এ ধরনের বইমেলায় প্রতি বছর সিটি করপোরেশনের পৃষ্ঠপোষকতা ও সহায়তার প্রতিশ্রুতিও দেন তিনি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সিলেট মহানগর শাখার আমির মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম, সম্মিলিত নাট্যপরিষদ সিলেটের প্রধান পরিচালক শামসুল বাসিত শেরো এবং প্রবাসী শিল্পানুরাগী সৈয়দ জবেদ আহমেদ।
প্রকাশক পরিষদ সিলেটের সভাপতি ও ঘাস প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী নাজমুল হক নাজুর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক ও নাগরী প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী সুফি সুফিয়ান। এর আগে প্রধান অতিথি ও বিশেষ অতিথিদের ফুল দিয়ে বরণ করেন প্রকাশক পরিষদের সদস্য ও চৈতন্য প্রকাশনের স্বত্বাধিকারী রাজীব চৌধুরী।
বইমেলাকে ঘিরে গত দুই বছরের নানা বাধার প্রসঙ্গও উঠে আসে বক্তাদের বক্তব্যে। মুহাম্মদ ফখরুল ইসলাম বলেন, শিল্প-সাহিত্য তার নিজস্ব গতিতে চলবে, এটিকে যেন রাজনীতিকরণ করা না হয়। শামসুল বাসিত শেরো বলেন, বইমেলার মতো আয়োজনকে বারবার অপশক্তি রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল, কিন্তু তারা সফল হয়নি। তিনি বইমেলায় সবাইকে ঐক্য ধরে রাখার আহ্বান জানান।
সভাপতির বক্তব্যে নাজমুল হক নাজু বলেন, ‘বইমেলাকে ঘিরে গত দুই বছর যা হয়েছে, তা আমরা ভুলে গেছি এই উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে। আমরা এখন বর্তমান ও ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবছি।’ তিনি বলেন, বইমেলার মতো সৃজনশীল আয়োজন টিকিয়ে রাখতে সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।
তিনি আরও বলেন, বিরোধিতার কারণে দেশে-বিদেশে সিলেট বইমেলার প্রচার হয়েছে। প্রকাশকেরা আর্থিক ক্ষতির মুখেও মেলার আয়োজন করেছেন, যাতে এ আয়োজনের ধারাবাহিকতা বজায় থাকে।
প্রকাশক পরিষদ সূত্রে জানা গেছে, সদস্যভুক্ত ১৭টি প্রকাশনা সংস্থা বইমেলায় স্টল নিয়েছে। উদ্বোধনের দিন কেবল স্টল প্রদর্শন করা হয়েছে। আগামীকাল সোমবার থেকে শুরু হবে সাংস্কৃতিক আয়োজন। প্রতিদিন বেলা দুইটা থেকে রাত আটটা পর্যন্ত মেলা চলাকালে নতুন বইয়ের প্রকাশনা উৎসব, নাটক মঞ্চায়নসহ বিভিন্ন সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হবে।
প্রসঙ্গত, প্রকাশকদের উদ্যোগে গত ২৪ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত কেন্দ্রীয় শহিদ মিনার প্রাঙ্গণে বইমেলা আয়োজনের পরিকল্পনা ছিল। তবে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির আশঙ্কা দেখিয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশ (এসএমপি) সে সময় অনুমতি বাতিল করে। আয়োজকদের জানানো হয়েছিল, একটি মহল মেলায় ‘মব’ সৃষ্টির তৎপরতা চালাচ্ছে।
এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গত বছর ফেব্রুয়ারিতেও একই ধরনের কারণ দেখিয়ে বইমেলার আয়োজন স্থগিত করা হয়েছিল। পরে সার্বিক পরিস্থিতি পর্যালোচনা করে এবার মেলার অনুমতি দেয় পুলিশ প্রশাসন। এরপর সিলেট সিটি করপোরেশন, জেলা পরিষদ ও এসএমপিকে সহযোগী হিসেবে নিয়ে মেলার আয়োজন করে প্রকাশক পরিষদ।