
সুনামগঞ্জের শিল্পনগরী হিসেবে পরিচিত ছাতক উপজেলা বর্তমানে অভিভাবকহীন অবস্থায় রয়েছে। গত ১৩ দিন ধরে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) পদটি শূন্য থাকায় দাপ্তরিক কাজে অচলাবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও পৌর প্রশাসকের দায়িত্বও ইউএনওর হাতে থাকায় এই প্রতিষ্ঠানগুলোতেও সেবা নিতে আসা মানুষ হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন।
প্রশাসনিক সূত্রে জানা যায়, গত ৩০ এপ্রিল সিলেট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের এক প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে ছাতকের বিদায়ী ইউএনও ডিপ্লোমেসি চাকমাকে চট্টগ্রাম বিভাগীয় কার্যালয়ে বদলি করা হয়। তার স্থলে মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার ইউএনও মো. মহিউদ্দিনকে পদায়ন করা হয়। তবে নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, মো. মহিউদ্দিনের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলায় হওয়ায় তিনি কুলাউড়া থেকে ছাতকে এসে যোগদান করতে অনিহা প্রকাশ করছেন। ফলে দীর্ঘ সময় পার হলেও তিনি কর্মস্থলে উপস্থিত হননি।
ইউএনও না থাকায় উপজেলার ১৭টি সরকারি বিভাগের সমন্বয় পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে। ত্রাণ কার্যক্রম, উন্নয়ন প্রকল্প, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি ও কৃষি সহায়তাসহ গুরুত্বপূর্ণ সব খাত বর্তমানে স্থবির। বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তারা গুরুত্বপূর্ণ ফাইলে স্বাক্ষর করাতে পারছেন না, যার ফলে দাপ্তরিক কাজে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়েছে।
ইউএনও না থাকায় দোয়ারাবাজার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অরুপ রতন সিংহকে ছাতকের অতিরিক্ত দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। কিন্তু অভিযোগ উঠেছে, তিনি গত ১৩ দিনে এক দিনের জন্যও ছাতক কার্যালয়ে আসেননি। ফলে ছাতকের কর্মকর্তাদের ফাইল নিয়ে দোয়ারাবাজারে গিয়ে স্বাক্ষর করিয়ে আনতে হচ্ছে। এতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে উপজেলা চত্বর যেন এক ‘মৃত বাড়িতে’ পরিণত হয়েছে।
ছাতক উপজেলা ঠিকাদার অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আব্দুস শহিদ বাপন বলেন, “ছাতক জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপজেলা। এখানে কাজের চাপ অনেক বেশি। দ্রুত একজন নিয়মিত ইউএনও যোগদান না করলে সরকারি উন্নয়ন কাজগুলো মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবে।”
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মতিউর রহমান খান জানান, বিষয়টি তারা অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে দেখছেন। দ্রুততম সময়ের মধ্যে ছাতক উপজেলায় একজন নির্বাহী কর্মকর্তা পদায়ন করে প্রশাসনিক কার্যক্রম গতিশীল করার ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
অচলাবস্থা নিরসনে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করছেন স্থানীয় সচেতন মহল ও সেবাগ্রহীতারা।