
সিলেট-৬ আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করা সেলিম উদ্দিন এবার ঢাকায় মেয়র প্রার্থী হচ্ছেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) তাঁকে মনোনয়ন দিচ্ছে জামায়াতে ইসলামী। ঢাকায় বসবাস করা এই নেতারা বাড়ি সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলায়।
দলীয় সূত্রে আভাস, আসন্ন সিটি করপোরেশন নির্বাচনে চমক নিয়ে মাঠে নামতে চাইছে জামায়াতে ইসলামী। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নিলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিজেদের শক্তি পরীক্ষার পরিকল্পনা নিয়েছে দলটি। এরই অংশ হিসেবে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে (ডিএনসিসি) মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন এবং ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে (ডিএসসিসি) বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের অন্যতম নেতা সাদিক কায়েমকে মেয়র পদে প্রার্থী হিসেবে বিবেচনায় রাখা হয়েছে।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সারা দেশের ১২টি সিটি করপোরেশনের জন্য ইতিমধ্যে ১২ জন সম্ভাব্য প্রার্থীর তালিকা চূড়ান্ত করেছে জামায়াত। এবারের নির্বাচনে অভিজ্ঞতার পাশাপাশি তরুণ এবং গণ-অভ্যুত্থানে নেতৃত্ব দেওয়া নেতাদের বিশেষ প্রাধান্য দেওয়া হচ্ছে।
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন গত সংসদ নির্বাচনে সিলেট-৬ আসনে বিএনপির প্রার্থীর কাছে হেরে গিয়েছিলেন। এবার তাকে ঢাকা উত্তরের নগরপিতার লড়াইয়ে নামানোর জোর প্রস্তুতি চলছে।
অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন ডাকসুর বর্তমান ভিপি এবং ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা সাদিক কায়েম। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার প্রার্থিতা নিয়ে বিতর্ক থাকলেও জামায়াত নেতাদের মতে, নির্বাচনের সময় তার ছাত্রত্ব ও ছাত্রসংগঠনের দায়বদ্ধতা শেষ হয়ে যাবে, ফলে আইনি বা সাংগঠনিক কোনো বাধা থাকবে না।
ঢাকা দক্ষিণে জাতীয় নাগরিক কমিটির (এনসিপি) পক্ষ থেকে আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়াকে জোটের প্রার্থী করার প্রস্তাব থাকলেও জামায়াতের শীর্ষ নেতারা তাতে আপত্তি জানিয়েছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, উপদেষ্টা থাকাকালীন আসিফ মাহমুদের কিছু বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের দায়ভার জামায়াত নিতে চায় না। ফলে দক্ষিণে সমঝোতার সম্ভাবনা ক্ষীণ এবং জামায়াত এককভাবেই লড়তে পারে।
ইতিমধ্যে চারটি সিটি করপোরেশনে জামায়াতের প্রার্থীরা অনানুষ্ঠানিকভাবে কাজ শুরু করেছেন। নারায়ণগঞ্জে মহানগর আমির ও শিবিরের সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি আবদুল জব্বার, গাজীপুরে সাবেক সহকারী অধ্যাপক হাফিজুর রহমান, চট্টগ্রামে নগর সাংগঠনিক সম্পাদক শামসুজ্জামান হেলালী ও রংপুরে মহানগর আমির এ টি এম আজম খান দলীয় সিগনাল পেয়েছেন।
জামায়াত তাদের দীর্ঘদিনের ‘শুধু রুকনদের মনোনয়ন’ দেওয়ার নীতি থেকে সরে এসেছে। এখন থেকে সাধারণ কর্মী-সমর্থক এবং এমনকি যোগ্য ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদেরও মনোনয়ন দেওয়া হতে পারে।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও ১১-দলীয় ঐক্যের সমন্বয়ক হামিদুর রহমান আযাদ জানান, পৌরসভা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে ১১-দলীয় জোটের শরিকদের সঙ্গে সমঝোতা হতে পারে, তবে সিটি করপোরেশনগুলোতে একক শক্তিতে লড়াইয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হচ্ছে। গ্রহণযোগ্যতা ও জনপ্রিয়তাই হবে প্রার্থী বাছাইয়ের মূল মাপকাঠি।