
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) অন্যতম নান্দনিক স্থান শহীদ রুদ্র সেন লেক। অবসর সময়ে শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ দর্শনার্থীদের কাছে এটি একটি আকর্ষণীয় স্থান। তবে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরীর বিরুদ্ধে ডিপিপির দোহাই দিয়ে লেকের একটি অংশ ভরাট করে গ্যারেজ নির্মাণের মাধ্যমে এ জলাধারের সৌন্দর্য ও অস্তিত্ব ক্ষতিগ্রস্ত করার অভিযোগ উঠেছে।
পানি সেঁচে লেকের মধ্যে নির্মাণ করা হচ্ছে দেয়াল
জানা গেছে, কিছুদিন আগে প্রায় সাড়ে সাত কোটি টাকা ব্যয়ে খনন করা হয় শহীদ রুদ্র সেন লেক। এটি একদিকে যেমন ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করেছে, অন্যদিকে শহীদ রুদ্র সেনের আত্মত্যাগের স্মৃতিও বহন করছে। কিন্তু অধিকতর উন্নয়ন প্রকল্প-২ এর আওতায় বর্তমানে লেকের একটি অংশ ভরাট করে সেখানে বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন বিভাগের জন্য একটি দোতলা গ্যারেজ নির্মাণ করা হচ্ছে। গ্যারেজ নির্মাণের জন্য পাশের টিলার কিছু অংশও কাটা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
বিশ্ববিদ্যালয় সংশ্লিষ্টদের দাবি, নির্মাণাধীন গ্যারেজটিতে মাত্র ২২টি গাড়ি রাখা যাবে। অথচ বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন পুলে বর্তমানে ৪২টি যানবাহন রয়েছে এবং ভবিষ্যতে এ সংখ্যা আরও বাড়বে। এছাড়া গ্যারেজটিতে বড় যানবাহন প্রবেশের জন্য পর্যাপ্ত জায়গাও নেই। ফলে বিপুল অর্থ ব্যয়ে নির্মিত এ স্থাপনাটি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রয়োজন পূরণে কতটা কার্যকর হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
এ বিষয়ে বিভিন্ন সময়ে শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও বিশ্ববিদ্যালয়ের অংশীজনরা আপত্তি জানালেও প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরী তা আমলে নিচ্ছেন না বলে অভিযোগ রয়েছে। তিনি বিভিন্ন সময়ে দাবি করেছেন, উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনায় (ডিপিপি) গ্যারেজ নির্মাণের স্থান হিসেবে এ এলাকাই নির্ধারিত ছিল। তবে স্থান পরিবর্তনের প্রস্তাব দেওয়া হলেও সে বিষয়ে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি বলে জানা গেছে।
বিশ্ববিদ্যালয়ের একাধিক সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বলেন, গ্যারেজ নির্মাণের ফলে একদিকে লেকের সৌন্দর্য নষ্ট হবে, অন্যদিকে বিপুল অর্থের অপচয় ঘটবে। প্রায় সাত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত গ্যারেজে মাত্র ২২টি গাড়ি রাখা যাবে, অথচ বাকি গাড়িগুলো বাইরে রাখতে হবে। ফলে প্রকল্পটির যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।
এবিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী বলেন, “যে লেক নির্মাণে কোটি কোটি টাকা ব্যয় করা হয়েছে, সেই লেকই এখন ভরাট করা হচ্ছে। এটি পরিকল্পনার সমন্বয়হীনতার স্পষ্ট উদাহরণ। মাত্র ২২টি গাড়ির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ জলাধার ও ক্যাম্পাসের সৌন্দর্য নষ্ট করা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের প্রতি অবিচার। আমরা চাই প্রশাসন দ্রুত বিষয়টি পর্যালোচনা করুক এবং বিকল্প স্থানে গ্যারেজ নির্মাণের উদ্যোগ নিক।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রশাসনিক কর্মকর্তা বলেন, “গ্যারেজের পাশেই প্রায় শতাধিক গাড়ি রাখার মতো খালি জায়গা রয়েছে। গ্যারেজটি সেখানে স্থানান্তর করা হলে লেক রক্ষা পেত এবং খালি জায়গারও যথাযথ ব্যবহার হতো। কিন্তু বর্তমান স্থানে নির্মাণকাজ চলতে থাকলে পেছনের খালি জায়গায় যাওয়ার পথ স্থায়ীভাবে বাধাগ্রস্ত হবে এবং জায়গাটি ভবিষ্যতে ব্যবহার করা কঠিন হয়ে পড়বে।”
তিনি আরও বলেন, “মাত্র ২২টি গাড়ি রাখার জন্য সাত কোটি টাকা ব্যয় কতটা যৌক্তিক, তা ভেবে দেখা প্রয়োজন। এই অর্থ দিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য নতুন যানবাহন কেনা হলে শিক্ষার্থী ও শিক্ষকরা আরও বেশি উপকৃত হতেন।”
এ বিষয়ে বক্তব্য জানতে প্রধান প্রকৌশলী জয়নাল ইসলাম চৌধুরীকে মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন দিলেও তিনি রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে বিভিন্ন সময়ে হোয়াটসঅ্যাপে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও তার কোনো সাড়া মেলেনি।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. খায়রুল ইসলাম বলেন, “আমি যেহেতু কয়েকদিন হলো জয়েন করেছি, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানি না। আপনি যেহেতু আমাকে বিষয়টি অবহিত করেছেন, এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা গ্রহণ করব।”