টানা বৃষ্টিতে সিলেটে আবারও আকস্মিক বন্যার শঙ্কা দেখা দিয়েছে। গত রাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যে গত ৩০ ঘণ্টায় সিলেটে ১২৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করেছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। একই সঙ্গে লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী পাঁচ দিন ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। এতে সুরমা-কুশিয়ারাসহ বিভিন্ন নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছে বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র।

আজ বুধবার দুপুর পর্যন্ত সিলেটে বৃষ্টি অব্যাহত ছিল। সিলেট আবহাওয়া অফিসের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৩০ ঘণ্টায় মোট ১২৮ দশমিক ৬ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৫২ দশমিক ৬ মিলিমিটার, বুধবার সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত ৩২ মিলিমিটার এবং সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত আরও ৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, আগামী ২৪ থেকে ৭২ ঘণ্টায় উত্তর-পূর্বাঞ্চলে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার ও হবিগঞ্জসহ দেশের কয়েকটি জেলায় নদ-নদীর পানি দ্রুত বাড়তে পারে। এতে সিলেট বিভাগের নিচু এলাকাসহ কয়েকটি স্থানে নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে।

প্রতিষ্ঠানটির নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, সম্ভাব্য আকস্মিক বন্যার পরিস্থিতি তিন দিন পর্যন্ত স্থায়ী হতে পারে। এরপর শনিবার থেকে পরিস্থিতির ধীরে ধীরে উন্নতি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

বন্যা পূর্বাভাস কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে দেশের প্রধান নদীগুলোর পানি বিপৎসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হলেও গত ২৪ ঘণ্টায় সিলেট বিভাগে ভারী থেকে অতি ভারী বৃষ্টিপাত হয়েছে। একই সময়ে ভারতের মেঘালয়, ত্রিপুরাসহ উজান এলাকাতেও ভারী বৃষ্টি হয়েছে। আগামী চার দিন এসব এলাকায়ও ভারী বর্ষণের পূর্বাভাস রয়েছে, যা সুরমা-কুশিয়ারাসহ উত্তর-পূর্বাঞ্চলের নদীগুলোর পানির প্রবাহ আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১২০ ঘণ্টার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, ভারতের মধ্যপ্রদেশ ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থানরত সুস্পষ্ট লঘুচাপ এবং সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে আগামী রোববার পর্যন্ত সিলেট বিভাগের অধিকাংশ এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি অথবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন স্থানে কয়েক দফায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। এ সময় দমকা হাওয়া ও বজ্রপাতেরও আশঙ্কা রয়েছে।

সিলেট আবহাওয়া অফিসের আবহাওয়াবিদ শাহ মো. সজিব হোসাইন বলেন, বর্ষাকালে বৃষ্টিপাত স্বাভাবিক হলেও বজ্রসহ বৃষ্টির সময় সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।

আবহাওয়াবিদ ড. মুহাম্মদ আবুল কালাম মল্লিক বলেন, লঘুচাপ ও সক্রিয় মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে উত্তর-পূর্বাঞ্চলে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা আরও কয়েক দিন অব্যাহত থাকবে। টানা ভারী বর্ষণের কারণে সিলেটের নিচু এলাকা ও পাহাড়ঘেঁষা অঞ্চলে জলাবদ্ধতা, পাহাড়ি ঢল এবং স্থানীয়ভাবে স্বল্পমেয়াদি বন্যা দেখা দিতে পারে। তিনি প্রয়োজন ছাড়া ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় চলাচল না করার পরামর্শ দেন।

 

 

সিলেট/হা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *