
হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলম ও দলের অন্যান্য কেন্দ্রীয় নেতাদের ওপর হামলার প্রতিবাদে সিলেটে বিক্ষোভ ও মশাল মিছিল করেছে দলটির নেতাকর্মীরা। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাত ১০টার দিকে নগরের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের সামনে থেকে মশাল মিছিলটি শুরু হয়।
মিছিলটি শহীদ মিনার থেকে বের হয়ে নগরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে জিন্দাবাজার মোড় অতিক্রম করে চৌহাট্টা মোড়ে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়। কর্মসূচিতে এনসিপি, যুবশক্তি ও ছাত্রশক্তির সিলেট জেলা ও মহানগরের নেতাকর্মী এবং সমর্থকেরা অংশ নেন। মিছিলজুড়ে হামলার প্রতিবাদ, জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং রাজনৈতিক সহিংসতা বন্ধের দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন অংশগ্রহণকারীরা।
সমাবেশে বক্তারা অভিযোগ করে বলেন, হবিগঞ্জে এনসিপির মুখ্য সংগঠক (উত্তরাঞ্চল) সারজিস আলমের ওপর হামলার পাশাপাশি দলের কেন্দ্রীয় নেতা নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী আহত হয়েছেন। এ ঘটনাকে রাজনৈতিক কর্মসূচিতে সশস্ত্র হামলা হিসেবে উল্লেখ করে বক্তারা এর তীব্র নিন্দা জানান। একই সঙ্গে হামলার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের দ্রুত গ্রেপ্তার, নিরপেক্ষ তদন্ত এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
বক্তারা বলেন, রাজনৈতিক কর্মসূচিতে হামলা ও সহিংসতার সংস্কৃতি কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গণতান্ত্রিক পরিবেশ বজায় রাখতে প্রশাসনকে নিরপেক্ষভাবে আইন প্রয়োগ করতে হবে এবং রাজনৈতিক দলগুলোর শান্তিপূর্ণ কর্মসূচির নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। অন্যথায় সরকারের ব্যর্থতার দায় সরকারকেই নিতে হবে।
সমাবেশে বক্তারা বিএনপির সমালোচনা করে বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ক্ষমতার বাইরে থাকার পর দলটি ক্ষমতায় এসেছে। এখন যদি তারা ‘ফ্যাসিবাদী কার্যকলাপ’ করে, তবে জনগণ তা মেনে নেবে না। তাঁরা আরও বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে অসংখ্য শহীদের আত্মত্যাগের মাধ্যমে যে নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা তৈরি হয়েছে, তার বিরুদ্ধে কোনো অপশক্তি দাঁড়াতে পারবে না।
এ সময় আগামী ৩০ ও ৩১ জুলাই সিলেটে এনসিপির নির্ধারিত পদযাত্রা কর্মসূচির কথা উল্লেখ করে বক্তারা বলেন, হবিগঞ্জের মতো সিলেটেও যদি কোনো ধরনের হামলা বা নাশকতার চেষ্টা করা হয়, তাহলে দলীয় নেতাকর্মীরা তা প্রতিহত করবেন এবং উপযুক্ত জবাব দেবেন।
সমাবেশে বক্তব্য দেন এনসিপির সিলেট মহানগরের আহ্বায়ক আবদুর রহমান আফজাল, সদস্যসচিব কিবরিয়া সারওয়ার, যুবশক্তির সিলেট মহানগরের সভাপতি দিলোয়ার হোসেন এবং মহানগর ছাত্রশক্তির আহ্বায়ক জুবায়ের আহমদসহ অন্যান্য নেতারা।
সমাবেশ শেষে শান্তিপূর্ণভাবে কর্মসূচি সমাপ্ত ঘোষণা করা হয়।



