সিলেট- ছাতক রেলপথ সংস্কার প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলেও কাজ হয়েছে মাত্র ২০ ভাগ। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কারণে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি সম্পন্ন করা সম্ভব হয়নি বলে জানিয়েছে বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র। ২৩০ কোটি টাকার এই প্রকল্পটির মেয়াদ আরও ১০ মাস বাড়াতে সরকারের কাছে দাবি জানিয়েছে তারা। এই প্রকল্পের মেযাদ শেষ হচ্ছে ২৩ আগস্ট।

২০২৫ সালের ২ জানুয়ারি অন্তবর্তীকালীন সরকার এই প্রকল্পটি অনুমোদন করেছিল। প্রকল্পটির মেয়াদ ছিল দেড় বছর বা ১৮ মাস যা শেষ হচ্ছে ২৩ আগস্ট।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেড সূত্র জানায়, সিলেট থেকে ছাতকের দূরত্ব ৩৩ কিলোমিটার। এই রেলপথে থাকা ১০টি কালভার্টের মধ্যে ৪টির কাজ শেষ হয়েছে। অন্যান্য কালভার্টগুলোর কাজ আংশিক শেষ হয়েছে। আর ৩টি স্টেশন আধুনিকায়নের কাজ শুরু হলেও তা শেষ হয়েছে মাত্র ২০ ভাগের মতো। স্টেশনগুলো হচ্ছে, খাজাঞ্চিগঁও, ছাতক ও আফালাবাদ।

সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্র জানায়, ৩৩ কিলোমিটার রেললাইনের মধ্যে ১৩ কিলোমিটারের মাটির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। চলছে সাড়ে ১০ কিলোমিটার মাটির কাজ। আর সাড়ে ৯ কিলোমিটার মাটি ভরাটের কাজে এখনো হাতই দেয়নি ঠিকাদাারি প্রতিষ্ঠান। নতুন স্লিপার স্থাপন, ক্ষতিগ্রস্ত রেলট্র্যাক ও ব্যালাস্ট পুণঃনির্মান এবং স্টেশনগুলোর আধুনিকায়নের কাজ মিলে সর্বসাকুল্যে কাজ হয়েছে মাত্র ২০ ভাগ। ১১০ কোটি টাকা ব্যয়ে শিগগিরই রেললাইন ও অন্যান্য সংযোগকারী যন্ত্রাংশ চায়না থেকে কেনার কথা। তবে এখনো কোনো যন্ত্রাংশ সিলেট পৌঁছায়নি বলেও জানিয়েছে সূত্রগুলো।

ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আখতার হোসেন লিমিটেডের প্রকল্প ব্যবস্থাপক আবুল কালাম আজাদ আমারসিলেট কে জানান, প্রকল্পের মেয়াদ আরো দশ মাস বাড়ানোর জন্য তারা আবেদন করেছেন। বর্ষা মৌসুম শেষ হওয়ার সাথে সাথে অতিরিক্ত দশ মাসের মধ্যে প্রকল্পটি শেষ করার লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে কাজ শুরু হবে।

তিনি আরও জানান, ৫ কোটি টাকার মালামাল চট্রগ্রাম বন্দর থেকে খালাস হয়েছে এবং কয়েকদিনের মধ্যে সিলেটে এসে পৌছাবে। তবে মাল খালাসের স্বপক্ষে কোনো ডকুমেন্ট দেখাতে রাজি হননি তিনি।

এ প্রসঙ্গে, সিলেট-ছাতক রেলপথ সংস্কার ও পুনর্বাসন প্রকল্প পরামর্শক টিম লিডার (মো. আনার মাহমুদ আমারসিলেট কে জানান, ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের আর্থিক সংকটের কারণে প্রকল্প বাস্তবায়নে ধীরগতিতে কাজ হয়। বারবার তাগাদা দিলেও তারা কাজটি দ্রুততার সাথে করতে পারেন নি।

অপর এক প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে প্রকল্পটি বাতিল হতে পারে বলেও শঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।

জানা যায়, ১৯৫৪ সালে মিটার গেজ লাইন দিয়ে সিলেট-ছাতক রেলপথ চালু হওয়ার পর সিলেট এবং সুনামগঞ্জের কৃষি এবং শিল্পক্ষেত্রে দারুন ইতিবাচক প্রভাব পড়েছিল। ছাতকের বাংলাবাজার, খাজাঞ্চিগাঁওসহ এ অঞ্চলের উৎপাদিত শাকসবজি ও কৃষিপণ্য নিয়ে সকালে ট্রেনে চড়ে কৃষকরা সিলেট শহরে বিক্রি করে বিকেলে বাড়ি ফিরতেন। এছাড়াও ছাতকের বিভিন্ন মিল-কারখানার পণ্য পরিবহনেও এই রেলপথের প্রভাব ছিল অত্যন্ত ইতিবাচক।

পরে বিভিন্ন কারণে এই পথে ট্রেন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়। ২০২২ সালের ভয়াবহ বন্যায় ১২ কিলোমিটার রেলরোড এমব্যাংকমেন্ট ও রেলপথ ব্যাপক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর জরাজীর্ণ রেলপথটি ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে।

ছাতকের ৪নং কালারুকা ইউনিয়নের অধিবাসী ইয়ার আলী আমারসিলেট কে জানান, এই রোডে ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকায় আমরা মারাত্মক দুর্ভোগ পোহাচ্ছি। আগে মাত্র ১২ টাকার টিকেট কেটে ছাতক থেকে সিলেট ট্রেনে যাতায়াত করতে পেরেছি, সেখানে এখন ৮০ থেকে ১২০ টাকা পর্যন্ত গাড়ি ভাড়া গুনতে হচ্ছে। মুমূর্ষু রোগী, শিশু ও বয়োজ্যেষ্ঠদেও নিয়ে সবসময় একটা আতঙ্কের মধ্যে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এলাকাবাসীর দাবি দ্রুত কাজ সেরে রেললাইনটি চালু করা হোক।

বর্তমান সরকারের সড়ক পরিবহন ও রেলপথ প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ (হাবিব) এমপি গত ৯ মে রেল যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়ন ও বিভিন্ন প্রকল্প পরিদর্শনের জন্য ট্রেনযোগে সিলেট সফর করেন। সেদিন সিলেট রেলস্টেশন সংলগ্ন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মীর আখতার হোসেন লিমিটেডের সিলেট অফিসে প্রকল্প সংশ্লিদের সাথে এক বৈঠক করেন। তিনি সিলেট অঞ্চলের জনসাধারণের জনদুর্ভোগ লাগবে অন্তর্র্বতী সরকারের নেয়া প্রকল্পটি বাতিল না করে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার পক্ষে তাগাদাও দিয়েছিলেন।

 

 

আমারসিলেট/হা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *