পাকিস্তানের কারাবন্দী সাবেক প্রধানমন্ত্রী ইমরান খানের সঙ্গে প্রায় ছয় মাস ধরে কথা বলতে পারেননি তাঁর দুই ছেলে সুলাইমান খান ও কাসিম খান। সর্বশেষ গত মার্চে ঈদুল ফিতরের সময় বাবার সঙ্গে তাঁদের ফোনে কথা হয়েছিল। সেই ফোনালাপ স্থায়ী হয়েছিল প্রায় ২০ মিনিট।
লন্ডনে আল-জাজিরাকে কাসিম বলেন, ফোনে ইমরান তাঁদের খোঁজখবর নেন ও নানা উপদেশ দেন। তবে তাঁর নিজের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে দ্রুত প্রসঙ্গ পাল্টে দেন। ‘তুমি জানো, এটা এ রকমই’—বাবার এই কথাটি স্মরণ করেন কাসিম।
৭৩ বছর বয়সী ইমরান খান রাওয়ালপিন্ডির আদিয়ালা কারাগারে তিন বছর ধরে বন্দী। ২০২২ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার পর তাঁর বিরুদ্ধে শতাধিক মামলা হয়েছে। অভিযোগগুলো অস্বীকার করেছেন তিনি। ইমরানের পরিবার ও তাঁর দল পিটিআইয়ের দাবি, এসব মামলা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
সম্প্রতি ইমরানের দুই বোন উজমা ও নওরিন কয়েক মাস পর তাঁর সঙ্গে দেখা করার সুযোগ পান। সুলাইমান বলেন, বাবাকে অস্থির অবস্থায় দেখে তাঁরা বিচলিত হয়েছেন। কাসিমের ভাষ্য, কারাকক্ষে ইমরানের হৃৎস্পন্দন বেড়ে যায় এবং তিনি তীব্র উদ্বেগে ভুগছেন।
ইমরানের আইনজীবীদের দাবি, গত ফেব্রুয়ারিতে তিনি ডান চোখের ৮৫ শতাংশ দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন। সুলাইমান বলেন, বোনেরা যখন তাঁর সঙ্গে দেখা করেন, তখনো চোখে পট্টি ছিল। তাঁর অভিযোগ, টানা ১০ মাস ইমরানকে কোনো দর্শনার্থীর সঙ্গে দেখা করতে দেওয়া হয়নি।
পরিবারের এসব অভিযোগ অবশ্য প্রত্যাখ্যান করেছে পাকিস্তানের তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের দাবি, কারাবন্দী হওয়ার পর ইমরানের ৩০ বার স্বাস্থ্য পরীক্ষা হয়েছে এবং চিকিৎসকেরা তাঁকে স্বাভাবিক ও স্থিতিশীল অবস্থায় পেয়েছেন।
১৮ আগস্ট পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে দুই দিনের মধ্যে বেসরকারি শিফা ইন্টারন্যাশনাল হাসপাতালে নেওয়া, পরিবারের সঙ্গে সাপ্তাহিক সাক্ষাৎ এবং ছেলেদের সঙ্গে সপ্তাহে দুবার ফোনে কথা বলার সুযোগ দেওয়ার নির্দেশ দেন। তবে তাঁকে পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়ার পর ২০ আগস্ট আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়। এ ঘটনায় পিটিআই আদালত অবমাননার পিটিশন করেছে।
ইমরানের মুক্তির দাবি জানিয়েছে জাতিসংঘ, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালসহ বিভিন্ন মহল। তাঁর সাবেক স্ত্রী জেমিমা গোল্ডস্মিথও বিষয়টিকে ‘মানবাধিকারের জরুরি অবস্থা’ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
সুলাইমান বলেন, ‘এখন সবচেয়ে কঠিন সময় চলছে, পরিস্থিতি সবচেয়ে অন্ধকারাচ্ছন্ন মনে হচ্ছে।’ আর কাসিমের প্রশ্ন, ‘মানবিকতা কোথায়?’



