হবিগঞ্জের মাধবপুরে এক আমেরিকা প্রবাসীর বাড়ি নির্মাণে বাধা, চাঁদা দাবি এবং হুমকি দেওয়ার অভিযোগে স্থানীয় বিএনপির নেতাসহ ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে। বিজ্ঞ আদালত অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গণ্য করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) নির্দেশ দিয়েছেন।
গতকাল বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) হবিগঞ্জের দ্রুত বিচার আদালতে এ আবেদন করেন আমেরিকা প্রবাসী শাহিনুর আলমের ছেলে সানি আলম শ্রাবণ (১৮)।
আদালত সূত্র জানায়, বিচারক মোহাম্মদ শাহেদুল আলম অভিযোগটি গুরুতর ও আমলযোগ্য বিবেচনায় নিয়ে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৫৬(৩) ধারা অনুযায়ী মাধবপুর থানা-পুলিশকে এটি নিয়মিত মামলা (এফআইআর) হিসেবে রেকর্ড করার আদেশ দেন। একই সঙ্গে আদেশ প্রাপ্তির তিন দিনের মধ্যে বিষয়টি আদালতকে অবহিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মামলায় প্রধান আসামি করা হয়েছে মাধবপুর উপজেলা বিএনপির সভাপতি ও ধর্মঘর ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মো. শামসুল ইসলাম কামালকে (৫৮)। মামলার অন্য আসামিরা হলেন— মো. ইমরান আহমেদ (৪০), মো. আশিকুর রহমান ওরফে মামুন মেম্বার (৪৫), কুদ্দুছ মিয়া (৩০) ও মো. শাহ আলম (৫২)। এছাড়া অজ্ঞাতপরিচয় আরও ১০-১২ জনকে আসামি করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র ও স্থানীয় সূত্র জানায়, গত ১৬ আগস্ট সকাল সাড়ে ১১টার দিকে মাধবপুরের পশ্চিমবাজার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা শাহিনুর আলম দেশে একটি বাড়ি নির্মাণের উদ্যোগ নেন। তার অনুপস্থিতিতে কাজ দেখাশোনা করছিলেন ছেলে সানি আলম শ্রাবণ। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়ি নির্মাণ শুরুর আগে অভিযুক্ত শামসুল ইসলাম কামাল প্রবাসীর কাছে ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। প্রবাসী ওই দাবি প্রত্যাখ্যান করে কাজ শুরু করলে আসামিরা নির্মাণস্থলে অবৈধভাবে প্রবেশ করে বাধা দেন এবং অস্ত্রের মুখে শ্রমিকদের ভয়ভীতি দেখান।
নথি সূত্রে আরও জানা যায়, ঘটনার দিন আসামিরা দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে হামলা চালিয়ে নির্মাণসামগ্রী নষ্ট করেন এবং নির্মাণাধীন দেয়ালের কিছু অংশ ভেঙে ফেলেন। এ সময় কয়েকজন উপস্থিত ব্যক্তি মুঠোফোনে ঘটনার ভিডিও ধারণ করতে গেলে তাদের ওপর আক্রমণ চালিয়ে ফোন ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ বিষয়ে মাধবপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সোহেল রানা জানান, আদালত থেকে মামলা রেকর্ডের নির্দেশনাসংবলিত নথিপত্র পাওয়া গেছে। নির্ধারিত তিন দিনের মধ্যে এটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করে প্রয়োজনীয় আইনানুগ পদক্ষেপ নেওয়া হবে। আসামি প্রভাবশালী হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “আদালতের নির্দেশনা উপেক্ষা করার কোনো সুযোগ নেই। বাদী বা তার পরিবারের কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকি থাকলে পুলিশকে জানালে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
স্থানীয় বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী জানান, ব্যক্তিবিশেষের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে দলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সাধারণ মানুষের মধ্যেও ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, তারা আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল হয়ে আদালতের শরণাপন্ন হয়েছেন এবং দ্রুত ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করছেন।
আমারসিলেট/হা



