সিলেটের বিয়ানীবাজারে চাঞ্চল্যকর হাসান আহমেদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তারের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই আসামি জামিনে মুক্ত হয়েছেন। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের মধ্যে তীব্র ক্ষোভ ও হতাশা দেখা দিয়েছে। এখনো মামলার বাকি ১০ আসামি গ্রেপ্তারের বাইরে রয়েছে।
গত ৫ সেপ্টেম্বর রাত সাড়ে ১১টা থেকে ১২টার মধ্যে উপজেলার কুড়ারবাজার ইউনিয়নের উত্তর আকাখাজানা গ্রামে এ হত্যাকাণ্ড ঘটে। এ ঘটনায় নিহতের বাবা আব্দুল বাছিত বাদী হয়ে গত ৭ সেপ্টেম্বর, রোববার বিয়ানীবাজার থানায় মামলা দায়ের করেন।
মামলা নং- ০৭, জিআর নং- ২০৮/২০২৬, তারিখ- ০৭/০৯/২০২৬। মামলায় দণ্ডবিধির ১৪৩/১৪৭/১৪৮/১৪৯/৪৪৯/৪৫৮/৪৬০/৩০২/৩৪ ধারায় অভিযোগ আনা হয়েছে।
বিয়ানীবাজার থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আবু জাফর মাহফুজুল কবির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি বলেন, “দুইজন আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হলে বিজ্ঞ আদালত তাদের জামিন মঞ্জুর করেন। বাকি আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।” কে বা কারা জামিনের ব্যবস্থা করেছেন সে বিষয়ে পুলিশ বিস্তারিত জানায়নি।
জামিনের খবর পেয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছে নিহতের পরিবার। নিহত হাসানের বাবা আব্দুল বাছিত বলেন, “বিচার শুরুর আগেই আমাদের হতাশ হতে হলো। আসামিদের কোর্টে চালান করার সঙ্গে সঙ্গেই শুনানি শেষে আদালত জামিন দিয়ে দিয়েছে। আসামিরা এখন প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে।”
মামলার এজহার সূত্রে জানা যায়, এজাহারে বাদী আব্দুল বাছিত উল্লেখ করেন, তাঁর বড় ছেলে হানিফ আহমেদ একসময় বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে নিবীড় ভাবে যুক্ত ছিলেন এবং এলাকায় দলটির সক্রীয় কর্মী হিসেবে পরিচিত ছিলেন। তাঁর রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডের কারণে আসামিদের সঙ্গে বিরোধ ছিল বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। এজাহার অনুযায়ী, ঘটনার রাতে আটজন নামীয় আসামিসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জন দেশীয় ধারালো অস্ত্র নিয়ে হানিফ আহমেদকে খুঁজতে বাদীর বাড়িতে যায়। তখন বাদীর ছোট ছেলে হাসান আহমেদ বাড়ির একটি কক্ষে ঘুমিয়ে ছিলেন। বাদী ও তাঁর স্ত্রী তখন বাড়ির বাইরে ছিলেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে।
এজাহারে আরও বলা হয়, আসামিরা বাড়ির পাশের একটি স্টিলের জানালা কেটে ঘরে প্রবেশ করে। এরপর ঘুমন্ত হাসানকে জাগিয়ে তাঁর বড় ভাই হানিফ আহমেদের অবস্থান জানতে চায় , এমনকি হাসানকে দিয়ে তাঁর বাবার মোবাইল ফোনে কল করানো হয় এবং হানিফ কোথায় আছেন জানতে চাওয়া হয়। কিন্তু কোনো সদুত্তর না পেয়ে শেষে ক্ষিপ্ত হয়ে বাড়ি থেকে বের হওয়ার আগে হাসানের ওপর ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাতাড়ি হামলা চালায়। এতে হাসান গুরুতর রক্তাক্ত জখম হন।পরে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক হাসানকে মৃত ঘোষণা করেন।
এ ঘটনায় মামলার এজাহারনামীয় আসামিরা হলেন- ১। আব্দুল হান্নান হানই (৫০), পিতা- মৃত আজির উদ্দিন, সাং- রাতাছড়া, ২। সুহেল আহমদ, পেশা- সিএনজি চালক, পিতা- মৃত বুরহান উদ্দিন, সাং- পর্বতপুর, ৩। জয়নাল আবেদীন, পিতা- মৃত মোবারক আলী, সাং- বড়বন্দ, ৪। শাহাব উদ্দিন, পিতা- মৃত আইয়ুব আলী, সাং- বড়বন্দ, ৫। ফরহাদুল করিম, পিতা- শফিকুল হক, সাং- বড়বন্দ, ৬। নজরুল ইসলাম, পিতা- মৃত ছইদুর রহমান, সাং- রাতাভাউড়া, ৭। সিদ্দিক আহমদ, পিতা- মৃত মাওলানা ফয়জুর রহমান, সাং- দুর্লভপুর, ৮। নজরুল ইসলাম, পিতা- মৃত রফিকুল হক, সাং- বায়মপুর। এজাহারে উল্লেখিত তথ্য অনুযায়ী, আসামিদের বাড়ী কানাইঘাট উপজেলায়। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ৩ থেকে ৪ জনকে মামলায় আসামি করা হয়েছে।
