হিউম্যানয়েড রোবটের ওপর কড়া নজরদারি রাখা এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি এড়াতে প্রতিটি রোবটের জন্য ডিজিটাল পরিচয় নম্বর চালু করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে চীন। রোবট তৈরির শুরু থেকে পুনর্ব্যবহার বা রিসাইক্লিং পর্যন্ত পুরো জীবনচক্র ট্র্যাক করতে এই নম্বর ব্যবহৃত হবে।
চীনা রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, রোবটগুলোর জীবনচক্র জুড়ে নজরদারি রাখার জন্য প্রতিটি হিউম্যানয়েড রোবটকে একটি অনন্য ডিজিটাল আইডি দেওয়া হবে। নতুন নির্দেশিকা অনুযায়ী, এই আইডিতে চারটি অংশ থাকবে। প্রথম অংশের দুই ডিজিট আন্তর্জাতিক চালান ট্র্যাকিংয়ের জন্য, পরের চার ডিজিট দিয়ে রোবটটি কোন চীনা কোম্পানি তৈরি করেছে তা বোঝা যাবে। এরপরের ছয় ডিজিট প্রোডাক্ট কোড রোবটের ধরন নির্দেশ করবে এবং শেষ ১৭ ডিজিটের সিরিয়াল কোড দিয়ে প্রতিটি রোবট আলাদা শনাক্ত করা সম্ভব হবে।
চীনের ১০০টির বেশি প্রস্তুতকারক কোম্পানির ওপর এই নিয়ম প্রযোজ্য হয়েছে। ইতিমধ্যে দুইশোটি মডেলের ২৮ হাজারের বেশি হিউম্যানয়েড রোবটকে ডিজিটাল আইডি দেওয়া হয়েছে। পুরো কার্যক্রম পরিচালনা করছে চীনের শিল্প ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অধীনে ‘হিউম্যানয়েড রোবোটিক্স অ্যান্ড এমবডিড ইন্টেলিজেন্স স্ট্যান্ডার্ডাইজেশন’ সংস্থা।
বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, বর্তমানে এসব রোবট বিশ্ববিদ্যালয়, গবেষণা ল্যাব ও উৎপাদন শিল্পে ব্যবহার করা হচ্ছে। তবে চীন এখন বয়স্কদের সেবা এবং ঘরের কাজের মতো বাণিজ্যিক কাজে হিউম্যানয়েড রোবট ব্যবহারের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি দেশটি রোবটের হার্ডওয়্যার পুরোপুরি দেশীয় প্রযুক্তিতে রূপান্তর করছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে বলা হয়েছে, বর্তমানে চীনে ব্যবহৃত এসব রোবট এখনও পুরোপুরি স্বয়ংক্রিয়ভাবে কাজ করতে সক্ষম নয়। বিভিন্ন সূক্ষ্ম কাজ নিখুঁতভাবে করতে সক্ষমতা সীমিত হওয়ায় রোবটগুলোকে এখন পরীক্ষামূলক কাজের জন্য শিল্পকারখানায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
‘গিগাইআই’, ‘ইউনিট্রি’ এবং ‘অ্যাজিবট’ কোম্পানিগুলো তাদের উদ্ভাবিত হার্ডওয়্যারের মাধ্যমে এই বাজারে নেতৃত্ব দিচ্ছে। সম্প্রতি ঘরের কাজে ব্যবহারের জন্য চীনের প্রথম সাধারণ হিউম্যানয়েড রোবট উন্মোচন করেছে গিগাইআই।



