সিলেট বিভাগের শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক লতিফা নিলুফার

সিলেট বিভাগে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হয়েছেন লতিফা নিলুফার। শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক হিসেবে তিনি কুলাউড়া ও মৌলভীবাজারের মুখ উজ্জ্বল করেছেন। ৫ অক্টোবর ‘বিশ্ব শিক্ষক দিবস ২০২৬’ উদযাপন উপলক্ষে সিলেট বিভাগে প্রাথমিক (সাধারণ) বিদ্যালয় পর্যায়ে তিনিসহ শীর্ষ ৩ জন গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছেন। উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের কড়া বাছাই শেষে চূড়ান্ত তালিকায় সর্বোচ্চ ৯২ নম্বর পেয়ে বিভাগীয় পর্যায়ে ১ম স্থান অর্জন করে কুলাউড়া ও মৌলভীবাজারের নাম উজ্জ্বল করেছেন মৌলভীবাজার সদর উপজেলার গিয়াসনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক লতিফা নিলুফার (পাপড়ি)।

প্রাথমিক শিক্ষা, সিলেট বিভাগের বিভাগীয় উপপরিচালক (ভারপ্রাপ্ত) এ.কে.এম. সাইফুল হাসান স্বাক্ষরিত এক সরকারি প্রজ্ঞাপনে এই চূড়ান্ত নির্বাচনের বিষয় জানা যায়। বিজ্ঞপ্তিতে সিলেট বিভাগের অপর দুই নির্বাচিত গুণী শিক্ষক হলেন হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ উপজেলার গজনাইপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ডলি রানী দেব (প্রাপ্ত নম্বর: ৯১) এবং সুনামগঞ্জের মধ্যনগর উপজেলার নয়াবন্দ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোঃ নুরুল আলম (প্রাপ্ত নম্বর: ৮৮)।

লতিফা নিলুফারের পৈতৃক নিবাস মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলার রাউৎগাঁও ইউনিয়নের ভবানীপুর গ্রামের দারোগা বাড়িতে। তবে তার বাবার বাসা ও স্বামীর বাসা উভয়ই মৌলভীবাজার শহরে অবস্থিত এবং বর্তমানে তিনি শহরের স্বামীর বাসায় অবস্থান করছেন। কুলাউড়ার সন্তান এবং মৌলভীবাজারের শিক্ষাঙ্গনের মানোন্নয়নের অন্যতম কাণ্ডারি হিসেবে তার এই সাফল্য পুরো জেলাজুড়ে আনন্দের আবহাওয়া তৈরি করেছে।
​প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের নির্দেশনার আলোকে এই মূল্যায়ন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (পলিসি অ্যান্ড অপারেশন) বরাবরে পাঠানো হয়েছে। পাশাপাশি সিলেট বিভাগের চার জেলার জেলা ও উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে প্রজ্ঞাপনটির অনুলিপি প্রেরণ করা হয়েছে।

বিভাগীয় পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ গুণী শিক্ষক নির্বাচিত হওয়ার পর এক প্রতিক্রিয়ায় লতিফা নিলুফার জানান, উপজেলা ও জেলা প্রাথমিক শিক্ষা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘গুণী শিক্ষক’ হিসেবে নির্বাচিত হওয়ার স্বীকৃতি নিঃসন্দেহে তার জন্য আনন্দের ও সম্মানের। তবে এই স্বীকৃতিকে তিনি কখনোই একার অর্জন বলে মনে করেন না। সহকারী শিক্ষকদের ভালোবাসায় সিক্ত হয়ে তিনি বলেন, প্রশাসন হয়তো তাকে গুণী শিক্ষক হিসেবে নির্বাচন করেছে, কিন্তু প্রতিদিনের কর্মযাত্রায় একজন ভালো শিক্ষক হয়ে ওঠার সাহস ও অনুপ্রেরণা সহকর্মীরাই দিয়েছেন। তার নেতৃত্বে যদি কোনো ইতিবাচকতা থেকে থাকে, তার পেছনে সকলের সহযোগিতা, আস্থা, আন্তরিকতা ও সম্মিলিত শ্রম রয়েছে; কারণ একটি বিদ্যালয়ের সাফল্য কখনো একজনের কৃতিত্ব হতে পারে না। এই সম্মান তাকে বড় করে না, বরং দায়িত্ব আরও বাড়িয়ে দেয়—আরও বিনয়ী হতে, আরও মনোযোগী হতে এবং সহকর্মী ও শিক্ষার্থীদের জন্য আরও ভালো কিছু করার চেষ্টা করতে। সহকর্মীদের ভালোবাসাই তার সবচেয়ে বড় স্বীকৃতি।
​শ্রেণিকক্ষের সফল পাঠদানের পাশাপাশি লতিফা নিলুফার একাধারে একজন প্রাবন্ধিক, কবি ও সাহিত্যিক। এর আগেও ২০২২ সালে জাতীয় প্রাথমিক শিক্ষা পদকে তিনি জেলা পর্যায়ে শ্রেষ্ঠ শিক্ষক নির্বাচিত হয়েছিলেন। দেশের শীর্ষস্থানীয় নানা জাতীয় দৈনিকে শিক্ষা, নৈতিকতা, দেশপ্রেম ও মানবিক মূল্যবোধ নিয়ে প্রকাশিত তার বিভিন্ন কলাম ও নিবন্ধ সুধীমহলে দারুণভাবে সমাদৃত।

​আগামী ৫ অক্টোবর বিশ্ব শিক্ষক দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে বিভাগীয় পর্যায়ের এই গুণী শিক্ষকদের আনুষ্ঠানিকভাবে সংবর্ধিত ও সম্মাননা প্রদান করার কথা রয়েছে। লতিফা নিলুফারের এই অনন্য অর্জনের খবর জাতীয় ও স্থানীয় প্রিন্ট মিডিয়া এবং অনলাইন পোর্টালে প্রকাশিত হওয়ার পাশাপাশি সামাজিক মাধ্যমে বিভিন্ন শিক্ষক সমিতি, পিটিআই ২০০০-২০০১ সেশনের সহপাঠী ও শুভাকাঙ্ক্ষীরা তাকে নিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন। তার এই বিশেষ অর্জনে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, পরিবার, কুলাউড়া ও মৌলভীবাজারের সচেতন সুধীসমাজে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। উল্লেখ্য : লতিফা নিলুফার পাপড়ির স্বামী মৌলভীবাজার প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি বিশিষ্ট ছড়াকার ও কলামিস্ট আবদুল হামিদ মাহবুব।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:২৮
  • ১১:৪৮
  • ৪:০৬
  • ৫:৫১
  • ৭:০৪
  • ৫:৪১