হারিয়ে যাওয়া ঐতিহ্য : পর্দাঘেরা রিকশা

পঞ্চাশ ষাটের দশকে তো বটে সত্তরের দশকেও রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন শহরে কোনো পর্দানশিন পরিবারের মহিলা বের হলে রিকশা আসতো পর্দা দিয়ে ঘেরা।

চারদিকে মোটা কাপড়, কখনো নীল, কখনো সবুজ রঙের পর্দা। ভেতরে বসে আছেন শিশু নিয়ে মহিলারা, বাইরে থেকে কিছুই দেখা যায় না। শুধু রিকশাওয়ালা আস্তে আস্তে টানতেন। কেউ জোরে হর্নও দিত না, সবাই সম্মান করে সরে যেত।

আর সিলেট ও চট্টগ্রামকে বলা হতো সবচেয়ে দ্বীনদার এলাকা। বিদেশি গবেষকরাও লিখে গেছেন – একসময় রিকশায় রঙিন ছবি, সিনেমার নায়িকার ছবি থাকতো, কিন্তু সিলেট ও চট্টগ্রামের রিকশা ছিল একদম সাদামাটা, কোনো ছবি নাই। কারণ সিলেট ও চট্টগ্রামের মানুষ পর্দাকে ইজ্জত মনে করতো। মহিলারা বোরকা পরে, আবার রিকশায় উঠেও পর্দা টেনে দিতেন, যাতে পরপুরুষের নজর না পড়েন।

তখন রাস্তায় এত ভিড় ছিল না, কিন্তু সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়েদের জন্য খোলা রিকশায় যাওয়া বেমানান মনে করা হতো। পর্দা ঘেরা রিকশা ছিল একটা সম্মানের প্রতীক – যেন চলন্ত ঘর। ভেতরে মা তার ছোট বাচ্চাকে নিয়ে নিরাপদে বসে থাকতেন।
সিলেটে বৃষ্টি বেশি। পর্দা থাকলে বৃষ্টি, রোদ, ধুলা – সব থেকে বাঁচা যেতো।
এখন সেই পর্দা আর নাই। এখন ব্যাটারি রিকশা, হুডওয়ালা রিকশা, সব খোলা। মহিলারা খোলা রিকশায়, সিএনজিতে যাতায়াত করেন।
গত বছর ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন ঢাকার ৪১৬ বছর পূর্তিতে পুরান ঢাকায় এই পর্দা ঘেরা “মহিলা রিকশা” প্রদর্শনী করেছিল। মানুষ ভিড় করে দেখেছে -বলেছে, “আরে, এই রিকশায় তো আমাদের দাদিরা চড়তেন”!
সেই রিকশা শুধু একটা বাহন ছিল না, সেটা ছিল সিলেট ও চট্টগ্রামের মতো কিছু ধর্মপ্রাণ এলাকার একটা তমদ্দুন, একটা লজ্জা-শরম, ইজ্জতের প্রতীক।
অনেকেরই স্মরণ আছে, সিলেটের মহিলারা যখন বের হতেন, তখন রিকশা বাড়ির সামনে আসতো খালি। উঠার আগে ফুফু বা দাদি ঘর থেকে একটা বড় শাড়ি, বা একটা মোটা চাদর, বা বিশেষভাবে বানানো পর্দার কাপড় এনে দিতেন।
রিকশাওয়ালা সেই কাপড় দিয়ে রিকশার চারপাশ – সামনে, দুই পাশে – ভালো করে মুড়ে দিতেন। যেন একটা তাঁবু। কোথাও একটুও ফাঁক থাকতো না। তারপর মা ভেতরে ঢুকতেন। ভেতরে ঢুকে নিজে আবার কাপড়টা টেনে ঠিক করে নিতেন।

কোনো কোনো বাড়িতে তো এই পর্দার জন্য আলাদা কাপড়ই রাখা থাকতো – মোটা মার্কিন কাপড়, ফুল তোলা। সেটা শুধু রিকশায় উঠার জন্য।
আবার নামার সময়? রিকশা একেবারে বাড়ির ভেতর, উঠানে, বা দরজার একদম সামনে নিয়ে যাওয়া হতো, যাতে বাইরের কেউ দেখতে না পায়। পর্দা খোলার পরই দ্রুত নেমে বাড়ির ভেতরে ঢুকে যেতেন।

নামাজের সময়সূচি
  • ফজর
  • যোহর
  • আছর
  • মাগরিব
  • এশা
  • সূর্যোদয়
  • ৪:৩১
  • ১১:৪৫
  • ৪:০০
  • ৫:৪৩
  • ৬:৫৬
  • ৫:৪৩