এমদাদ চৌধুরী দীপু, নিউইয়র্ক
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার জুলাই বিপ্লবের পর ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের নেত্রী, গণহত্যাকারী শেখ হাসিনার মতো বাংলাদেশ ছেড়ে ভারতে পালিয়ে যান শফিউল আলম চৌধুরী নাদেল। তিনি আমি-ডামির এমপি।এরপর নানান সময়ে কূট কৌশল এবং ভিডিও বার্তায় সরব থেকে নিজ দেশকে অস্থিতিশীল করার ষড়যন্ত্রে তৎপর হন এই ভয়ংকর নেতা। গণহত্যাকারী হাসিনার আয়োজিত একতরফা, রাতের ভোট এবং আমি-ডামির বিতর্কিত নির্বাচনের আমি-ডামি নির্বাচনে এমপি হবার খায়েশ পূরণ হয়ে যায় নাদেলের। ভারত থেকে হঠাৎ করে যুক্তরাষ্ট্রে নাদেলের উপস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ এবং কৌতুহল তৈরি হয়েছে।
তত্বাবধায়ক সরকারের প্রধান ড. মুহাম্মদ ইউনুস কে যুক্তরাষ্ট্রে হেনস্তার পর নাদেলের এই অপতৎপরতা রহস্যজনক ।

সাংগঠনিক সম্পাদকের দায়িত্ব পালন করা নাদেল আওয়ামী লীগের প্রভাবশালী নেতা। তিনি মৌলভীবাজার-২ আসনে আমি-ডামি নির্বাচনে এমপি হন।

বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে নাদেলের সফরকে ঘিরে কৌতূহল এবং বিস্ময় তৈরি হয়েছে। জুলাই বিপ্লবের পর নাদেল সিলেট থেকে পালিয়ে ভারতে পাড়ি জমান। ভারতে অবস্থান করে তিনি বাংলাদেশের ভিতরে অস্থিরতা তৈরির জন্য বিভিন্ন ভিডিও কনটেন্ট তৈরি করেন। গুঞ্জন আছে যে, ভারতে পালিয়ে অবস্থান করা গণহত্যাকারী এবং বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে নাদেলের।

নাদেল শেখ হাসিনার কোনো দূত কিংবা খলিফা হয়ে যুক্তরাষ্ট্রে এসেছেন কিনা, কিংবা শেখ হাসিনার ডিসেম্বরে দেশে ফেরার যে গুঞ্জন, সেজন্য নাদেল যুক্তরাষ্ট্রে কোনো মিশনে এসেছেন কিনা, কোনো নাশকতার ছক তৈরি করছেন কিনা—এ নিয়ে কৌতূহল তৈরি হয়েছে। কৌতূহল আছে এই কারণে যে ভ্রমণ ভিসায় এসে কেউ রাজনৈতিক কর্মসূচিতে অংশ নিতে পারে কিনা, কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হতে পারে কিনা এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিধি-বিধান অনুযায়ী সেটি হচ্ছে কিনা তা নিয়ে। কারণ যুক্তরাষ্ট্রে একই মিশন নিয়ে আরেক আওয়ামী লীগ নেতা শামীম ওসমান সক্রিয় ছিলেন কিন্তু বর্তমানে নিষ্ক্রিয় আছেন।

কৌতুহলের অন্য কারণ হল, নাদেল কোন পাসপোর্ট নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র সফরে আসলেন, তিনি ভিজিট ভিসাইবা কীভাবে পেলেন ভারত থেকে, ভারতে কোন ভিসা নিয়ে অবস্থান করছিলেন তা জানা দরকার ।এটি আসলে বাংলাদেশের পাসপোর্ট অফিস থেকে তথ্য সংগ্রহ করার বিষয়। নাদেলের পাসপোর্টের স্ট্যাটাস কী রকম, তিনি কীভাবে বর্ডার ক্রস করলেন, বর্তমানে তার কোনো পাসপোর্ট আছে কিনা, থাকলে সেই পাসপোর্ট কী ধরনের পাসপোর্ট তা জানা প্রয়োজন বলে অনেকে মনে করেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের সময় নাদেলের নিশ্চয় এমপির পাসপোর্ট ছিল। ওই সময় তার একাধিক পাসপোর্ট ছিল কিনা—সিলেটের পাসপোর্ট অফিস থেকে এই তথ্য সংগ্রহ করা যাবে বলে মত দিয়েছেন অনেক জুলাই বিপ্লবী নেতারা ।
তারা মনে করেন নাদেল এর ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করা এখানে দূতাবাসে যারা কাজ করছেন তাদের এবং কনস্যুলেটের ।

নাদেল সিলেটের রাজনীতিতে গডফাদারের ভূমিকায় ছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর মরহুম স্পিকার হুমায়ুন রশিদের সহধর্মিনীর সুপারিশে নাদেল আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদকের পদ লাভ করেন। এরপর তিনি বিসিবির বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের সদস্য নির্বাচিত হন, ক্রীড়া সংগঠক হিসেবে সেখানে আবির্ভূত হন।

নাদেল ছিলেন সিলেটের একজন অঘোষিত গডফাদার, ফ‍্যাসিবাদের বিভীষিকাময় সময়ে তার ইশারায় প্রশাসন চলত। আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আসার পর সিলেটের সাংবাদিকদের মধ্যে বিভাজন তৈরিতে কাজ করেন নাদেল। তিনি সিলেট প্রেস ক্লাব দখল করার চেষ্টা করেন, সেখানে ব্যর্থ হয়ে জেলা প্রেস ক্লাব তৈরি করেন এবং সাংবাদিকদেরকে আওয়ামীপন্থী সাংবাদিক এবং আওয়ামী বিরোধী সাংবাদিক—এই দুই শিবিরে বিভক্ত করতে ভূমিকা রাখেন।

নাদেল সিলেট চেম্বারকে বিভক্ত করেন। ব্যবসায়ীদের মধ্যে বিভাজন তৈরি করে মেট্রোপলিটন চেম্বার প্রতিষ্ঠা করনে এবং সেটির পৃষ্ঠপোষকতা করেন।

নাদেল সিলেটের রাজনীতিতে বিএনপি-জামায়াতকে রাস্তায় দাঁড়াতে না দেওয়া, পুলিশের মাধ্যমে মামলা দিয়ে হয়রানি সহ নৈরাজ্য তৈরি করা এবং রাজনীতির যে সহিষ্ণু পরিবেশ—সেটি ধ্বংস করতে ভূমিকা পালন করেন।

হাসিনার শাসনামলে বিপুল সম্পদের মালিক হন নাদেল। পরিবহন ব্যবসা, রিয়েল এস্টেট ব্যবসা, কুলাউড়ায় ব্রিক ফিল্ডের ব্যবসা করে কাড়ি কাড়ি টাকা কামাই করেন।বর্তমানে ভারতে বসে দেশে ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছেন এবং সেখানে তিনি ব্যবসা করছেন ।

পাশাপাশি নাদেল ‘উত্তর-পূর্ব’ নামে একটি পত্রিকা প্রকাশ করনে, যে পত্রিকাটি এখনো আছে। নাদেলকে বিএনপি নেপথ্যে থেকে সহযোগিতা করার কারণে তার সাদা পাথর, পরিবহন, উত্তর-পূর্ব পত্রিকা, প্রেসের ব্যবসা, ব্রিক ফিল্ডের ব্যবসা—এখনো বহলা তবিয়তে আছে।

নাদেল দেশে-বিদেশে বসে বাংলাদেশে অস্থিরতা তৈরি করার ধারাবাহিক যে চেষ্টা এবং সক্রিয় থাকা তাতে নাশকতার একটি যোগসূত্র জড়িত।ভারতে বসে ষড়যন্ত্র করার পাশাপাশি নাদেল এখন যুক্তরাষ্ট্রে শেখ হাসিনার দূত হিসেবে এসেছেন।
এখানে ববি হাজজাজ কে হেনস্থার উদাহরণ আছে, উদাহরণ আছে এনসিপি নেতা কে ডিম মারা সহ বিএনপির সাবেক মহাসচিব ফখরুল ইসলামের সাথে বে আদবের মত আচরণ করার ।
সেই ধারাবাহিকতায় এবার নাশকতার ষড়যন্ত্র করছেন নাদেল। যুক্তরাষ্ট্রে নাদেলের অবস্থান, তার বিভিন্ন কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকে নিয়ে নতুন করে কৌতূহল, বিস্ময় এবং চাঞ্চল্য তৈরি হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *