সৌদি আরবে দুই বাংলাদেশীর মৃত্যুদন্ড কার্যকরের ঘটনায় তোলপাড় শুরু হয়েছে যুক্তরাষ্টে। মৃত্যুদন্ডের আগে বাংলাদেশকে অবগত না করায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিতের আহ্বান জানিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল ইউএস এর নির্বাহী পরিচালক ও বাংলাদেশী বংশোদ্ভূত মঈন চৌধুরী।

গত ১৯ অক্টোবর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানান। বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন,
সৌদি আরবে গত ১৪ অক্টোবর দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে বলে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশহয়। সংবাদে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল, ইনক. ইউএসএ।

তিনি বলেন, আমরা নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের সামগ্রিক পরিস্থিতি সম্পর্কে একটি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের আহ্বান জানাচ্ছি।

১৯৬৩ সালের কনস্যুলার সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশন বিদেশে আটক বিদেশি নাগরিকদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কনস্যুলার সুরক্ষা নিশ্চিত করে। বিশেষ করে, কনভেনশনের ৩৬ অনুচ্ছেদে কনস্যুলার যোগাযোগ ও সাক্ষাতের অধিকার এবং ৩৭(ক) অনুচ্ছেদে বিদেশী নাগরিকের মৃত্যুর ক্ষেত্রে প্রাসঙ্গিক তথ্য পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট কনস্যুলার দপ্তরকে অবহিত করার বিষয়টি উল্লেখ করা হয়েছে।

যদিও এই কনভেনশনে প্রতিটি মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে সংশ্লিষ্ট দেশের দূতাবাসকে আগাম অবহিত করার কোনো নিঃশর্ত বাধ্যবাধকতা স্পষ্টভাবে নির্ধারিত নেই, তথাপি কনস্যুলার যোগাযোগের সুযোগ, আইনজীবীর সহায়তা, অধিকার সম্পর্কে অবহিতকরণ এবং সংশ্লিষ্ট ঘটনাগুলোর পরিস্থিতি নিয়ে পূর্ণাঙ্গ ও তথ্যভিত্তিক পর্যালোচনা অত্যন্ত জরুরি বলে সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তিনি উল্লেখ করেন।

এছাড়াও ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল, ইনক. ইউএসএ নিম্নলিখিত পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি বিনীত আহ্বান জানাচ্ছে:

সৌদি আরব সরকার: বাংলাদেশ সরকারের কাছে সংশ্লিষ্ট বিচারিক নথিপত্র সরবরাহ এবং মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের পরিস্থিতি সম্পর্কে পূর্ণাঙ্গ ব্যাখ্যা প্রদান করা।

বাংলাদেশ সরকার: কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখে ঘটনার প্রকৃত তথ্য উদ্ঘাটন করা এবং নিহত নাগরিকদের কনস্যুলার অধিকার যথাযথভাবে রক্ষা করা হয়েছিল কি না, তা নির্ধারণ করা।
সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাসমূহ তাদের এখতিয়ারের আওতাভুক্ত, যথাযথভাবে নথিভুক্ত উদ্বেগগুলো পর্যালোচনা করা।

বাংলাদেশ ও সৌদি আরব সরকার: মৃত্যুদণ্ডযোগ্য অপরাধে অভিযুক্ত বিদেশি নাগরিকদের সুরক্ষার জন্য আরও কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করা। এর মধ্যে কনস্যুলার যোগাযোগ, উপযুক্ত আইনি সহায়তা এবং সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক মিশনের সঙ্গে কার্যকর যোগাযোগ নিশ্চিত করার ব্যবস্থা অন্তর্ভুক্ত থাকা উচিত বলে তিনি মত প্রকাশ করেন।

ইমিগ্র্যান্টস ইন্টারন্যাশনাল, ইনক. ইউএসএ স্বচ্ছতা, যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া এবং অভিবাসী জনগোষ্ঠীর সুরক্ষা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে উপযুক্ত কূটনৈতিক, আইনি ও মানবাধিকারভিত্তিক পদক্ষেপ গ্রহণের সম্ভাবনা পর্যালোচনা করবে বলে তিনি জানান।

জাতীয়তা নির্বিশেষে প্রত্যেক মানুষের মর্যাদা, ন্যায়বিচার এবং বিদেশে অবস্থানরত নাগরিকদের ন্যায্য আচরণ নিশ্চিত করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে তিনি মন্তব্য করেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *