সিলেটের হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারের দানবাক্স ও মানতের ডেগে জমা হওয়া অর্থ গণনা শুরু হয়েছে। শনিবার (২৪ অক্টোবর) সকাল থেকে মাজারে প্রকাশ্যে এ কার্যক্রম শুরু হয়। চলতি বছরে এটি দানের অর্থ গণনার পঞ্চম দফা।

এর আগে গত ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় দানবাক্স ও মানতের ডেগ থেকে পাওয়া ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা গণনা করা হয়েছিল। সকাল ৯টায় শুরু হওয়া ওই গণনা শেষ হয় সন্ধ্যায়। নগদ অর্থের পাশাপাশি সেবার বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক মুদ্রা, স্বর্ণ ও রুপাও পাওয়া যায়।

চতুর্থ দফার গণনার সময় বিষয়টি নিশ্চিত করেছিলেন সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। এ সময় সিলেটের জেলা প্রশাসক আব্দুল্লাহ আল মামুনসহ প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আগের চার দফায় পাওয়া যায় ২ কোটি ২৯ লাখ টাকার বেশি

চলতি বছরের জুন থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত চার দফায় মাজারের দানবাক্স ও মানতের ডেগের অর্থ গণনা করা হয়। প্রতিবারই উল্লেখযোগ্য পরিমাণ অর্থ পাওয়া যায়।

প্রথম দফায় গত ২২ জুন গণনা করে পাওয়া যায় ১৭ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা। পরে জেলা প্রশাসনের তহবিল থেকে ৫ লাখ টাকার একটি চেক যুক্ত হওয়ায় মোট অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় ২২ লাখ ৬৫ হাজার ৫৪৯ টাকা।

দ্বিতীয় দফায় ১১ জুলাই পাওয়া যায় ৪৭ লাখ ১০ হাজার ১৫৩ টাকা। এরপর ১৫ আগস্ট তৃতীয় দফার গণনায় পাওয়া যায় ৭০ লাখ ৮৮ হাজার ৬৭২ টাকা।

সর্বশেষ ১৯ সেপ্টেম্বর চতুর্থ দফায় পাওয়া যায় ৮৮ লাখ ৯২ হাজার ৯৬৬ টাকা। সব মিলিয়ে ওই সময় পর্যন্ত চার দফায় মোট ২ কোটি ২৯ লাখ ৫৭ হাজার ৩৪০ টাকার হিসাব পাওয়া যায়।

দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় নতুন সিদ্ধান্ত

মাজারের দানের অর্থ ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে গণনা কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে।

এর আগে গত ২৩ সেপ্টেম্বর বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদিরের নেতৃত্বে গঠিত কমিটির সভায় দানের অর্থ ব্যয়ের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মোট দানের ৩৫ শতাংশ মাজারের উন্নয়নকাজে ব্যয়ের জন্য সোনালী ব্যাংকের একটি হিসাবে জমা রাখা হবে। বাকি ৬৫ শতাংশ দিয়ে মাজারের দৈনন্দিন ব্যয় এবং কর্মচারীদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করা হবে।

মাজারের দানবাক্সের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে বিতর্কের পর চলতি বছরের ২৩ জুন আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সার্বিক পরিচালনায় স্বচ্ছতা আনার লক্ষ্যে বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে ১৩ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। এর মধ্য দিয়ে মাজারের অর্থ ব্যবস্থাপনা নিয়ে চলমান অনিশ্চয়তা নিরসনের উদ্যোগ নেওয়া হয়।

পুরোনো দানবাক্স সিলগালা ঘিরে আলোচনা

এর আগে গত ১৮ জুন তৎকালীন জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার আলমের উদ্যোগে মাজারের পুরোনো দানবাক্স সিলগালা করে নতুন দানবাক্স স্থাপন করা হয়। একই সঙ্গে দানের নগদ অর্থ ও অন্যান্য সামগ্রী রাখার ঐতিহাসিক তিনটি ডেগও সিলগালা করা হয়েছিল।

এ ঘটনায় সিলেটে পক্ষে-বিপক্ষে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়। পরে ২১ জুন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহার করে মন্ত্রণালয়ের উপসচিব পদে সংযুক্ত করা হয়। পরদিন তাঁর উপস্থিতিতে দানবাক্সের তালা খুলে জনসমক্ষে অর্থ গণনা করা হয়।

এরপর থেকে মাজারের দানের অর্থ গণনা ও ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার বিষয়ে প্রশাসনিক উদ্যোগ অব্যাহত রয়েছে। শনিবার পঞ্চম দফার গণনা শুরু হওয়ার মধ্য দিয়ে সেই কার্যক্রমের ধারাবাহিকতা বজায় থাকল।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *