নিজাম উদ্দীন সালেহ
ব্রাজিলে এবার ১৬ কোটি ভোটারের নির্বাচন ছিল বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ। প্রথম রাউন্ড ৪ অক্টোবর, কেউ ৫০ শতাংশ পায়নি। ফ্লাভিও বোলসোনারো (জেলে থাকা সাবেক প্রেসিডেন্ট জাইর বোলসোনারোর ছেলে) পেয়েছিল ৪৭ শতাংশ, বর্তমান প্রেসিডেন্ট লুলা দা সিলভা ৪৫ শতাংশ। ২৫ অক্টোবর রান-অফে লুলা ৫১.৭৯ শতাংশ ভোটে জিতে চতুর্থবারের মতো প্রেসিডেন্ট হলেন।
ব্রাজিল বিশ্বের বৃহত্তম হালাল মাংস রপ্তানিকারক, বাংলাদেশসহ মুসলিম দেশগুলোর বড় বাণিজ্য অংশীদার। লুলা সরকার সবসময় ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের পক্ষে, ইসরায়েলের গাজা অভিযানের কড়া সমালোচক। তিনি গাজা যুদ্ধকে ‘গণহত্যা’ বলেছেন। আর বোলসোনারো পরিবার ট্রাম্প-নেতানিয়াহু ঘনিষ্ঠ, জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসেবে সমর্থন করে। লুলা জেতায় ব্রাজিল ব্রিকস ও গ্লোবাল সাউথের পক্ষে থাকল, যা মুসলিম দেশগুলোর জন্য কূটনৈতিকভাবে স্বস্তির।
ইসরায়েলের ভোটটা মুসলিম উম্মাহর হৃদয়ে রক্তক্ষরণের মতো। ৭ অক্টোবর ২০২৩-এর পর প্রথম নির্বাচন, গাজায় ২ বছরের যুদ্ধের পর। রেকর্ড ৬৬ শতাংশ ভোট পড়েছে।
নেতানিয়াহুর আজও একই কৌশল, “আরবরা দলে দলে ভোট দিচ্ছে, বামপন্থী ইহুদি নারীরা নিকাব পরা আরব নারীদের ভোটকেন্দ্রে আনছে”, এই বলে ভয় ছড়িয়েছেন। মুসলিম বিশ্বের জন্য এটা অপমানজনক, কারণ ইসরায়েলের ২১ শতাংশ নাগরিকই ফিলিস্তিনি বংশোদ্ভূত মুসলিম।
এই নির্বাচনের ফল গাজার যুদ্ধবিরতি, পশ্চিম তীরে বসতি, আল-আকসার মর্যাদা এসব নির্ধারণ করবে। নেতানিয়াহু জিতলে যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ার আশঙ্কা, হারলে অন্তত আলোচনার দরজা খুলতে পারে। তাই আজ এই ভোটের দিকে তাকিয়ে আছে বিশ্বের কোটি কোটি মুসলমান।
আর আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন। সিনেটের ৩৩টি আসন, হাউসের ৪৩৫টি আসন, ৩৬টি গভর্নর পদে ভোট। এটা
মুসলিমদের জন্য এবার ঐতিহাসিক। ট্রাম্প প্রশাসনের মুসলিম দেশগুলোতে ভিসা কড়াকড়ি, গাজায় ইসরায়েলকে নিঃশর্ত সমর্থন দিয়েছে। এর বিপরীতে মিশিগান, মিনেসোটা, ইলিনয়ে মুসলিম-আমেরিকান ভোটাররা সংগঠিত। রাশিদা তালিব, ইলহান ওমরের মতো ফিলিস্তিনপন্থী নেতারা এবার আরও শক্তিশালী হতে পারেন।
এই নির্বাচন নির্ধারণ করবে, আমেরিকা কি ইসরায়েলের ছায়া হয়েই থাকবে, নাকি মুসলিম আমেরিকানদের চাপে একটু হলেও ভারসাম্যে ফিরবে? ডিভি লটারি আদালতের আদেশে ১ নভেম্বর থেকে আবার চালু হচ্ছে, সেটাও এই নির্বাচনের হাওয়ার ওপর নির্ভর করছে।
ব্রাজিল বলছে, উগ্র ডানপন্থাকে ভোটে হারানো যায়। ইসরায়েল বলছে, ভয় ও ঘৃণা দিয়ে ভোট জেতা যায়, কিন্তু শান্তি আনা যায় না। আর আমেরিকা বলছে, প্রবাসী মুসলমানরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকে, তবে হোয়াইট হাউসের ভেতরেও তাদের কণ্ঠ পৌঁছায়।
