নিজাম উদ্দীন সালেহ
আল সাইয়েদ ও ট্রাম্পের মধ্যে নির্বাচনী বাগযুদ্ধ এখন তুঙ্গে।ড. আবদুল আল-সায়েদ একজন মার্কিন রাজনীতিবিদ ও চিকিৎসক।তিনি বর্তমানে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এবং সংবাদমাধ্যমে বহুল আলোচিত একজন ব্যক্তি। তিনি ২০২৬ সালের নভেম্বর মাসের মার্কিন নির্বাচনে তিনি মিশিগান অঙ্গরাজ্য থেকে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসেবে মার্কিন সিনেটে লড়ছেন। জয়ী হলে তিনি হবেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের প্রথম মুসলিম মার্কিন সিনেটর। সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমর্থন পাওয়া এই নেতা বিনামূল্যে সবার জন্য চিকিৎসা এবং ধনকুবেরদের ওপর উচ্চ কর আরোপের মতো প্রগতিশীল নীতি সমর্থন করেন।মিশিগানে চলছে এখন আমেরিকার সবচেয়ে আলোচিত নির্বাচনী লড়াই।আব্দুল আল-সাইয়েদ জিতলে তিনি হবেন আমেরিকার ইতিহাসে প্রথম মুসলিম সিনেটর। তাকে সমর্থন দিচ্ছেন বার্নি স্যান্ডার্স, এওসি এলিজাবেথ ওয়ারেন।তার প্রতিদ্বন্দ্বী রিপাবলিকান মাইক রজার্স। এই আসনটা খুব গুরুত্বপূর্ণ, কারণ কে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পাবে, তা এই কয়েকটা আসনের ওপর নির্ভর করছে। নির্বাচন ৩ নভেম্বর।ট্রাম্প গত ২ সপ্তাহ ধরে সরাসরি ব্যক্তিগত আক্রমণ করছেন: ৮ অক্টোবর ট্রাম্প Truth Social এ লিখেন — “Mohammed El-Sayed is a terrible candidate…” অথচ তার নাম আব্দুল। আব্দুল পাল্টা বলেন, “আমার নাম আব্দুল, মোহাম্মদ আমার মিডল নেম। ট্রাম্প মনে হয় একটু স্ট্রাগল করছে।” ট্রাম্প তাকে বলেছেন, “RADICAL Extremist, Terrorist Sympathizer, Jihadist, Muslim Brotherhood member”। কোনো প্রমাণ ছাড়াই। ট্রাম্প সমর্থকরা বলছে তার পরিবারের মুসলিম ব্রাদারহুডের সাথে সম্পর্ক আছে, যেটা আব্দুল বারবার অস্বীকার করেছেন। এই বক্তব্যে ট্রাম্পের নিজের লোকেরাই ক্ষুব্ধ। বিশারা বাহবাহ, যিনি ‘Arab Americans for Trump’ গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা এবং ২০২৪ সালে ট্রাম্পকে ডিয়ারবর্নে জেতাতে সাহায্য করেছিলেন, তিনি বলেছেন, “প্রেসিডেন্টের বক্তব্য লাইন ক্রস করেছে, এটা রেসিস্ট এবং অগ্রহণযোগ্য।”আব্দুল জবাবে এক বিজ্ঞাপনে বলেছেন — “Faith is a thing there’s just too little of in Washington, (ওয়াশিংটনে বিশ্বাসের বড় অভাব।)এটা শুধু মিশিগানের লড়াই নয়, এটা আমেরিকায় মুসলিমরা কি রাজনীতিতে আসতে পারবে, তার পরীক্ষা।
