নিজাম উদ্দীন সালেহ

যুক্তরাজ্যে থাকা প্রায় ১০ লাখ অভিবাসীর চোখ আজ হাউস অব কমন্সের দিকে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ আজ ২ নভেম্বর, ২০২৬ বিকেলে ‘আর্নড সেটেলমেন্ট’ বা অর্জিত আবাসন নীতিমালার চূড়ান্ত রূপরেখা ঘোষণা করবেন। এই ঘোষণাই ঠিক করে দেবে লাখো বাংলাদেশি, ভারতীয় ও নাইজেরিয়ান পরিবার কবে ব্রিটিশ পাসপোর্টের পথে স্থায়ী আবাস (আইএলআর)পাবেন।


স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রস্তাবিত খসড়া অনুযায়ী, বড় পরিবর্তন আসছে তিনটি জায়গায়: এতদিন স্কিলড ওয়ার্কার, কেয়ার ওয়ার্কারসহ বেশিরভাগ রুটে ৫ বছর থাকলেই ILR-এর আবেদন করা যেত। নতুন প্রস্তাবে তা বাড়িয়ে ১০ বছর করা হচ্ছে। কম বেতনের (যেমন £২৬,০০০ এর নিচে) কর্মীদের জন্য তা ১৫ বছর পর্যন্ত হতে পারে।


এটাই আজকের সবচেয়ে বড় খবর। মূল প্রস্তাবে কেয়ার ওয়ার্কারদেরও ১৫ বছরের আওতায় আনার কথা ছিল। কিন্তু আবাসন মন্ত্রী অ্যাঞ্জেলা রেনার ও স্বাস্থ্যমন্ত্রীর কড়া বিরোধিতার মুখে সরকার পিছু হটছে। সূত্র বলছে, ইতিমধ্যে যুক্তরাজ্যে থাকা কেয়ার ওয়ার্কারদের এই বর্ধিত মেয়াদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে। অর্থাৎ, যারা আগে এসেছেন, তারা পুরোনো ৫ বছরের নিয়মেই থাকবেন। তবে নতুন যারা আসবেন, তাদের জন্য ১০ বছরের নিয়ম কার্যকর হবে।
সরকার একটি ‘অবদান ভিত্তিক’ পয়েন্ট সিস্টেম আনছে। যারা বছরে £৫০,২৭০ বা তার বেশি আয় করবেন, ভলান্টিয়ারি কাজ, স্থানীয় কাউন্সিলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বা ইংরেজি ভাষায় উচ্চ দক্ষতা দেখাতে পারবেন, তারা ১০ বছরের মেয়াদ কমিয়ে ৭ বা ৬ বছরেও আইএলআর-এর আবেদন করতে পারবেন।


ব্রিটেনে বর্তমানে প্রায় ৫৫,০০০ বাংলাদেশি কেয়ার ভিসায় আছেন। তাদের বেশিরভাগ ২০২২-২০২৪ সালে £১৫,০০০-£২০,০০০ খরচ করে এসেছেন। যদি নতুন নিয়ম ভূতাপেক্ষভাবে কার্যকর হয়, তবে প্রত্যেককে আরও ২ বার ভিসা বাড়াতে হবে। প্রতি পরিবারে অতিরিক্ত খরচ পড়বে £৮,০০০ থেকে £১২,০০০, যার মধ্যে রয়েছে ভিসা ফি ও এনএইচ এস সারচার্জ (আইএইচ এস)।


ইস্ট লন্ডনের বাসিন্দা সিলেটের জামিল আহমেদ বলেন, “আমি ২০২৩ সালে কেয়ার ভিসায় এসেছি। ২০২৮ সালে আইএলআর পাওয়ার কথা। এখন যদি বলে ২০৩৩ বা ২০৩৮ সালে পাব, তাহলে আমার বাচ্চাদের ভবিষ্যৎ কী হবে?”


আজকের বিবৃতিতে দুটি জিনিস পরিষ্কার হবে: নতুন নিয়ম কবে থেকে কার্যকর? ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে বলে ধারণা করা হচ্ছে। আর ট্রানজিশনাল প্রোটেকশন থাকবে কি না? অর্থাৎ, যারা ইতিমধ্যে আছেন, তাদের জন্য আলাদা সুরক্ষা।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদের জন্য এটি কঠিন পরীক্ষা। একদিকে লেবার পার্টির ভেতরে অভিবাসন কমানোর চাপ, অন্যদিকে নিজ দলের এমপিদের বিরোধিতা। আজকের ঘোষণাই বলে দেবে সরকার মানবিকতা বেছে নিচ্ছে, নাকি কঠোরতা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *