নিজাম উদ্দীন সালেহ
আজ হাউস অব কমন্সে দাঁড়িয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শাবানা মাহমুদ যে বক্তব্য দিলেন, তা ব্রিটেনের অভিবাসন ইতিহাসে একটি নতুন মোড়। তিনি বললেন, গত ২০ বছর ধরে ব্রিটেনে স্থায়ী বসবাস ছিল প্রায় স্বয়ংক্রিয়। পাঁচ বছর থাকলেই আইএলআর তারপর পাসপোর্ট। এই ব্যবস্থা এখন আর চলবে না। এখন থেকে স্থায়ী বসবাস অর্জন করতে হবে। তিনি বলেন, “To settle in this country forever is not a right, but a privilege, and it must be earned. আমরা একটি আর্নড সেটেলমেন্ট ব্যবস্থা চালু করছি, যেখানে কতদিন থাকলেন, তার চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আপনি কী অবদান রাখলেন।”তার ঘোষণার মূল কথা হচ্ছে, ১০ বছর হবে নতুন স্ট্যান্ডার্ড। যারা বছরে ৫০ হাজার পাউন্ডের কম আয় করেন, তাদের সবাইকে ১০ বছর অপেক্ষা করতে হবে। যারা ৫০ হাজারের বেশি আয় করেন, ডাক্তার, নার্স, শিক্ষক, তারা ৫ বছরে পাবেন। যারা ১ লাখ ২৫ হাজারের বেশি আয় করেন বা বিশ্বের সেরা প্রতিভা হিসেবে আসবেন, তারা ৩ বছরে পাবেন। কিন্তু এই সময়ের আগে চারটি বেসলাইন টেস্ট সবাইকে পাস করতে হবে। এক, ক্লিন ক্রিমিনাল রেকর্ড। দুই, উচ্চ পর্যায়ের ইংরেজি। তিন, সরকারের কাছে কোনো ঋণ নেই, অর্থাৎ বেনিফিট ফ্রড বা ট্যাক্স বকেয়া নেই। চার, অন্তত তিন বছর ন্যাশনাল ইন্স্যুরেন্স কন্ট্রিবিউশন। এই চারটি না থাকলে কেউ আইএলআর পাবেন না, যত টাকাই আয় করুন।সবচেয়ে বিতর্কিত অংশ ছিল কেয়ার ওয়ার্কার। মূল প্রস্তাবে তাদের ১৫ বছর করার কথা ছিল। কিন্তু আজ শাবানা মাহমুদ বলেন, “আমরা শুনেছি।” তিনি ঘোষণা করেন, যারা ২০২৫ সালের মে মাসের আগে কেয়ার ভিসায় এসেছেন এবং বছরে অন্তত ২৫ হাজার পাউন্ড আয় করে ভিসার শর্ত মেনেছেন, তারা পুরোনো ৫ বছরের রুটেই থাকবেন। এটি প্রায় ১ লাখ ৪৬ হাজার কেয়ার ওয়ার্কার ও তাদের ১ লাখ ৩৬ হাজার পরিবারের জন্য স্বস্তি।তবে যারা শর্ত মানেননি বা কম আয় করেছেন, তাদের জন্য তিনি দ্বিতীয় সুযোগ দিয়েছেন। তারা আরও পাঁচ বছরের ভিসা বাড়িয়ে নিজেদের যোগ্য করতে পারবেন। নতুন যারা কেয়ার ভিসায় আসবেন, তাদের জন্য ১০ বছরের নিয়ম প্রযোজ্য হবে।শরণার্থীদের জন্য কঠোরতম নিয়ম। যারা বৈধ পথে আসবেন, তারা ৫ বছরে আইএলআর পাবেন। যারা অবৈধ পথে আসবেন কিন্তু পরে বৈধ হয়েছেন, তাদের ২০ বছর। আর যারা ছোট নৌকায় এসেছেন, তাদের ৩০ বছর। তবে কাজ বা পড়াশোনা করলে ১০ বছর কমবে।বিরোধী দল কনজারভেটিভরা বলছে, এই নিয়ম যথেষ্ট কঠোর নয়। লেবার দলের বামপন্থী এমপিরা বলছেন, এটি অমানবিক। কিন্তু শাবানা মাহমুদ বলেন, “আমরা মধ্যপথ নিয়েছি। যারা অবদান রাখবে, তারা দ্রুত বসবাস পাবে। যারা রাখবে না, তাদের অপেক্ষা করতে হবে।”এই নিয়ম কার্যকর হবে ২০২৭ সালের এপ্রিল থেকে। যারা ইতিমধ্যে আইএলআর পেয়েছেন, তাদের কোনো প্রভাব পড়বে না। যারা ভিসায় আছেন, তাদের জন্য ট্রানজিশনাল ব্যবস্থা থাকবে।ৎআজকের ঘোষণা শেষে হাউস অব কমন্সে তুমুল বিতর্ক হয়। কিন্তু একটি কথা পরিষ্কার — ব্রিটেনে পাঁচ বছরে সেটেলমেন্টের যুগ শেষ। এখন থেকে বসবাস অর্জন করতে হবে, ভিক্ষা নয়।

