সিলেটের স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন এবং প্রবাসীদের চিকিৎসাসেবা আরও সহজলভ্য করতে সিলেটে একটি আধুনিক ‘ডেন্টাল হাব’ এবং বিশেষায়িত হাসপাতাল স্থাপনের পরিকল্পনার কথা জানিয়েছেন বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। গতকাল শুক্রবার সিলেট সেন্ট্রাল ডেন্টাল কলেজের ১২ বছর পূর্তি এবং বর্ণাঢ্য পুনর্মিলনী উৎসবে প্রধান অতিথির বক্তব্য দেন তিনি। সিলেটের উইন্ডসর হোটেলে আয়োজিত দিনব্যাপী এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল-আমিন অ্যাসোসিয়েটস পিএলসি-এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক রেজাউল হাসান কয়েস লোদী।

বক্তব্যে মন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের প্রচারণার সময় তাঁর অন্যতম প্রত্যাশার একটি ছিল সিলেটে ডেন্টাল হাব করা। এই আইডিয়া তিনি তুরস্কের ইজমিরের হেয়ার ট্রান্সপ্লান্টের বাজার থেকে নিয়েছিলেন, যেখানে বিশে^র বিভিন্ন দেশ থেকে মানুষ হেয়ার ট্রান্সপ্লান্ট করতে আসে।

মন্ত্রী তুরস্ক অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, সাশ্রয়ী ও মানসম্মত সেবা নিশ্চিত করা গেলে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন সম্ভব। উত্তর আমেরিকা, ইউরোপ ও অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত দেশগুলোতে ছড়িয়ে থাকা লক্ষ লক্ষ প্রবাসী বাংলাদেশিরা যাতে সিলেটে এসেই তাদের দাঁতের চিকিৎসাসহ অন্যান্য স্বাস্থ্যসেবা গ্রহণ করতে পারেন, সে লক্ষ্যেই সিলেটে একটি আন্তর্জাতিক মানের ‘ডেন্টাল হাব’ গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানান শিল্পমন্ত্রী।

তিনি আরও বলেন, গত ১৮-২০ বছরে সিলেটে কাঙ্খিত মাত্রায় উন্নয়ন হয়নি এবং সিলেটে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকল্পের কাজ চলমান রয়েছে। জানুয়ারি নাগাদ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের কনসালটেন্ট নিয়োগ সম্পন্ন হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। এই মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে ১২০০ শয্যার জেনারেল হাসপাতাল, ২৫০ শয্যার বিশেষায়িত হাসপাতাল এবং ভবিষ্যতে ২০০ শয্যার শিশু হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। এছাড়া সিলেট মেডিকেলের ভেতরের ক্যান্সার হাসপাতাল দ্রুত সম্পন্ন করার উদ্যোগ নেওয়া হবে এবং ডায়াবেটিস ও কিডনি হাসপাতালের মতো সেবাধর্মী প্রতিষ্ঠানগুলোর সরকারি বরাদ্দ বাড়ানোর কাজ চলছে।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)-এর সভাপতি প্রফেসর ডা. হারুন আল রশিদ, সিলেট মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য (ভিসি) প্রফেসর ডা. মো. জিয়াউর রহমান চৌধুরী, ড্যাবের মহাসচিব প্রফেসর ডা. মোহা. জহিরুল ইসলাম শাকিল, সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর ডা. মোস্তফা তৌফিক আহমেদসহ দেশবরেণ্য চিকিৎসক ও বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ।

অনুষ্ঠানে শিল্পমন্ত্রী বলেন, দেশের চিকিৎসা খাতের সার্বিক উন্নয়ন এবং জনগণের দোরগোড়ায় মানসম্মত ডেন্টাল সেবা পৌঁছে দিতে সরকার ও সংশ্লিষ্ট সকলের আন্তরিকভাবে কাজ করতে হবে।
অনুষ্ঠানের শুরুতে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীত পরিবেশনের পর কেক কাটা হয়। দিনব্যাপী আয়োজনের মধ্যে ছিল সায়েন্টিফিক সেমিনার, অ্যালামনাই রিইউনিয়ন, কৃতি শিক্ষার্থী ও চিকিৎসকদের সংবর্ধনা, মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং আকর্ষণীয় র‌্যাফেল ড্র।

বক্তারা ডেন্টাল শিক্ষার মানোন্নয়ন এবং চিকিৎসকদের পেশাগত দক্ষতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্ব আরোপ করেন। বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক পরিবেশনার মধ্য দিয়ে ডেন্টাল কলেজের ১২ বছর পূর্তির এ উৎসবের সমাপ্তি ঘটে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *