জনপ্রিয়তা অনেক সময় তিক্ততায় পরণিত হয়। তেমনই এক অভিজ্ঞতা শেয়ার করলেন কথা জানিয়েছেন ‘মির্জাপুর’খ্যাত বাঙালি অভিনেত্রী অনংশা বিশ্বাস।

সিরিজে ‘জারিনা’ চরিত্রে অভিনয়ের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ইমেইল ও ফোনে একের পর এক অশ্লীল প্রস্তাব পেতে শুরু করেন তিনি।

‘মির্জাপুর’-এর প্রথম মৌসুমে শরীরী আবেদন ও ক্ষমতার আকাঙ্ক্ষায় জড়িয়ে থাকা ধূসর চরিত্র জারিনার ভূমিকায় অভিনয় করে নজর কাড়েন কলকাতার অভিনেত্রী অনংশা। চরিত্রটি দর্শকের প্রশংসা পেলেও এর নেতিবাচক প্রভাবও পড়েছিল অভিনেত্রীর ব্যক্তিজীবনে।

সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে সেই অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে অনংশা জানান, ‘মির্জাপুর’-এর প্রথম মৌসুম মুক্তির পর তার জীবন অনেকটাই বদলে যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের ইনবক্স থেকে শুরু করে ই-মেইল ও ফোন—সব জায়গাতেই আসতে থাকে কুরুচিকর বার্তা।

অনংশার ভাষ্য, ‘প্রথম মৌসুমের পর আমি ভীষণভাবে ভেঙে পড়েছিলাম। কারণ তখন সব আমার কাছে নতুন। সোশাল মিডিয়া থেকে ইনবক্স—সর্বত্রই কুরুচিকর ভাষায় মেসেজ আসত। দেখে নিজেই শিউরে উঠতাম।’

এসব বার্তায় মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছিলেন অভিনেত্রী। তার মনে প্রশ্ন জাগত, নিজের কাজ সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে করার পরও কেন তাকে এ ধরনের অশ্লীল মন্তব্য শুনতে হবে।

এরপর নিজের পাওয়া কয়েকটি প্রস্তাবের কথা জানান অনংশা। তার দাবি, কিছু মানুষ পর্দার চরিত্র ও তার বাস্তব জীবনকে এক করে ফেলেছিলেন। ফলে সরাসরি তাকে যৌন সম্পর্কের বিনিময়ে অর্থ দেওয়ার প্রস্তাবও দেওয়া হয়।

অনংশার কথায়, ‘আমাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করা হতো—একরাতের জন্য তোমার রেট কত। দুদিনের জন্য আমাদের সঙ্গে মরিশাস যাবে?’ এ ধরনের কুপ্রস্তাবে তার ইনবক্স ভরে উঠেছিল।

অনংশার মতে, একজন অভিনেতা পর্দায় যে চরিত্রে অভিনয় করেন, বাস্তব জীবনে তিনি সেই চরিত্র নন। দর্শকদের এই বিষয়টি বোঝা জরুরি বলেও মনে করেন তিনি। তার মতে, সমাজে এ ধরনের বিকৃত মানসিকতার পরিবর্তন প্রয়োজন।

‘মির্জাপুর’-এর ‘জারিনা’ চরিত্রটি নিজের অভিনয়জীবনের গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে দেখেন অনংশা। তবে চরিত্রটির জনপ্রিয়তার কারণে বাস্তব জীবনে যে হয়রানির মুখে পড়তে হয়েছে, তা তার কাছে ছিল অত্যন্ত কষ্টের অভিজ্ঞতা।

এদিকে বড় পর্দায় আসছে ‘মির্জাপুর: দ্য মুভি’। সিনেমাটিতেও জারিনা চরিত্রে দেখা যাবে অনংশাকে। এটি মুক্তির আগে নিজের সেই তিক্ত অভিজ্ঞতার কথা প্রকাশ্যে আনলেন অভিনেত্রী।

১৯৯০ সালে কলকাতায় জন্ম অনংশার। সেখানেই তাঁর স্কুল-কলেজের পড়াশোনা। অভিনয়ের প্রতি আগ্রহ থেকেই পরে মুম্বাই পাড়ি জমান তিনি।

 

আমারসিলেট/হাা

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *