আফজাল হোসেন রুমেল:

মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার দক্ষিণ শাহবাজপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মান্নান প্রায় ১ বছর ধরে বসেন না ইউনিয়ন পরিষদ কার্যালয়ে। এমনকি থাকেন না নিজ এলাকায়ও। চিকিৎসাজনিত কারণ দেখিয়ে তিনি থাকেন সিলেটে। ফলে, জরুরি প্রয়োজনে জন্মনিবন্ধন, নাগরিক সনদ, ট্রেডলাইসেন্স, ওয়ারিস সনদসহ বিভিন্ন প্রত্যয়ন নিতে আসা সেবাপ্রত্যাশীরা পড়েন বিপাকে। বিশেষ করে প্রবাসিদের পোয়াতে হচ্ছে অন্তহীন ভোগান্তি। বাধ্য হয়ে সপ্তাহে একদিন অথবা দুইদিন সিলেটে গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে জরুরি কাগজে স্বাক্ষর আনেন ইউপি সচিব সিদ্ধার্থ শংকর দাস। এতে একদিকে সচিব ও গ্রাম পুলিশের দাপ্তরিক কাজে ঘটছে ব্যাঘাত, অন্যদিকে জনসাধারণের প্রচুর সময় ও বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় হচ্ছে।

 

সরেজমিনে এই ইউনিয়ন পরিষদে গিয়ে সেবাপ্রত্যাশীদের ব্যাপক ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। ইউনিয়নের সরিয়া গ্রাম থেকে আসা রেজাউল করিম জানান, পাসপোর্ট তৈরীর জন্য নাগরিক সনদের প্রয়োজন পড়ায় ইউনিয়ন অফিসে এসে দেখেন চেয়ারম্যান নেই। সচিব বলছেন দুই/তিন দিন পরে এসে নিয়ে যেতে। অথচ আমি বুধবারেই চাচ্ছিলাম পাসপোর্টের ফাইল জমা দিতে। চেয়ারম্যানের স্বাক্ষরের জন্য গ্রাম পুলিশ দিয়ে সনদ পাঠাতে হচ্ছে সিলেটে। বৃহস্পতিবার পেলেও ওইদিন আর ফাইল জমা সম্ভব নয়। এতে তার তিন কার্যদিবস পেছনে পড়তে হল।

 

বাগাডিগর গ্রামের দুবাই প্রবাসি আব্দুর রাজ্জাক সংক্ষিপ্ত ছুটিতে এসেছেন দেশে। পাসপোর্ট নবায়নের প্রয়োজনে নাগরিক সনদ নিতে এসে দেখেন ইউনিয়ন পরিষদে নেই চেয়ারম্যান। সচিব বলছেন দুই/তিন পরে এসে নিতে। তার অভিযোগ, একদিনের কাজ তিনদিনে করতে গিয়ে তিনি বেশ ক্ষতির সম্মুখিন হবেন।

ফ্রান্স প্রবাসি ডালিম উদ্দিন বলেন, ভূমির নামজারির জন্য নাম সংশোধনের প্রত্যয়ন নিতে এসে পড়েছেন বিড়ম্বনায়। একদিকে প্রবাসে যাওয়ার সময় ঘনিয়ে আসছে, অন্যদিকে সনদ নিতে ২/৩ দিন লাগায় ভূমি অফিসে প্রত্যয়ন জমা দিয়ে নামজারির কাজ সমাধান সম্ভব হবে কিনা এই শঙ্খায় ভুগছেন।

 

ইউনিয়ন পরিষদ থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার দুর্গম সীমান্তবর্তী বোবারথলের ইসলামপুর এলাকা থেকে নাগরিক সনদ নিতে আসা তোহাদিল ইসলাম জানান, আসা-যাওয়া বাবত পরিবহন ভাড়া লাগে ৩০০ টাকা। দুইদিন এসেও চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর নিতে পারেননি। এখন সচিব বলছেন গ্রাম পুলিশ পাঠিয়ে সিলেট থেকে চেয়ারম্যানের স্বাক্ষর এনে রাখবেন। পরের দিন এসে নিতে। এতে তার সময় ব্যয়ের সাথে হাজার টাকা অর্থ ব্যয়ও হচ্ছে।

 

আনছার আলী জানান, যথাসময়ে ট্রেডলাইসেন্স না পাওয়ায় ফার্মেসীর লাইসেন্স নবায়নের তারিখ অতিক্রান্ত হয়ে গেছে। এখন তাকে জরিমানা গূনে লাইসেন্স নবায়ন করতে হবে।

 

ভুক্তভোগিদের দাবি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান আব্দুল মান্নানের ব্যক্তিগত সমস্যা থাকলে তিনি ছুটি নিয়ে নিতে পারতেন। উপজেলা প্রশাসন অন্য ইউপি সদস্যকে ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব দিলে সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি লাঘব হতো।

 

ইউপি সচিব সিদ্ধার্থ শংকর দাস জানান, ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মান্নান সর্বশেষ ৩০ আগস্ট ইউনিয়ন পরিষদে এসেছিলেন। এরপর থেকে তিনি সিলেটে অবস্থান করছেন। অসুস্থতাজনিত কারণে প্রায় এক বছর ধরে অফিসে তিনি অনিয়মিত। অফিসিয়াল কাগজপত্র ও সেবাপ্রত্যাশীদের জরুরি কাগজপত্রে স্বাক্ষরের জন্য সপ্তাহে দুইদিন সিলেটে গ্রাম পুলিশ পাঠাচ্ছেন। এতে লোকজনের নানা কথা শুনতে হচ্ছে, অতিরিক্ত অর্থ ব্যয় হচ্ছে পরিষদের।

 

ইউপি চেয়ারম্যান (ভারপ্রাপ্ত) আব্দুল মান্নান জানান, সিলেটে থাকলেও সচিব তার কাছে নিয়মিত কাজগপত্র পাঠিয়ে দিচ্ছেন। সেখানে বসেই তিনি স্বাক্ষর দিয়ে ফেরত পাঠাচ্ছেন। তবে, আগামি সপ্তাহ থেকে নিয়মিত অফিস করবেন বলে জানালেন।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *