
ঘরে ভাত থাকলে লবণ দিয়ে খেয়েও বাঁচা যায়”— আক্ষেপ আর বাস্তবতার মিশেলে কথাগুলো বলছিলেন সুনামগঞ্জের দিরাই উপজেলার চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের কৃষাণী পারুল বেগম (৪০)। অতিবৃষ্টির পানিতে হাওরে তলিয়ে গেছে তার পরিবারের তিন কেয়ার (বিঘা) জমির বোরোধান।
চরনারচর ইউনিয়নের পেরুয়া গ্রামের পারুল বেগম জানান, তার ছেলে সুজন মিয়া চার কেয়ার জমিতে ধান আবাদ করেছিলেন। কিন্তু টানা অতিবৃষ্টিতে তিন কেয়ার জমির ধান পানির নিচে চলে গেছে। পরিবারে ছেলের স্ত্রীসহ কয়েকজন সদস্য রয়েছেন। এমন সংকটময় সময়ে সিএনআরসি স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের অধীনে ৬ হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা পেয়ে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে তাদের পরিবারে।
তিনি বলেন, এই ৬ হাজার টাকা দিয়ে আমি দুই বস্তা চাল কিনেছি। এতে অন্তত দুই মাস চলবে। ঘরে ভাত থাকলে লবণ দিয়ে খেয়েও বাঁচা যায়।
একই ইউনিয়নের মানিকদা গ্রামের আরেক সুবিধাভোগী বিলকিছ বেগম বলেন, তাদের পরিবারে সাতজন সদস্য। ছয় কেয়ার জমিতে ধান চাষ করেছিলেন তারা। এর মধ্যে চার কেয়ার জমির ধান পানিতে তলিয়ে গেছে। বাকি দুই কেয়ারের ধান কেটে ঘরে তুললেও পানিতে নষ্ট হয়ে কালো হয়ে যাওয়ায় তা বিক্রি করতে পারছেন না।
তিনি বলেন, ঘরে চাল-ডাল কিছুই নেই। এই সময়ে এনজিওর দেওয়া টাকা পেয়ে আমাদের অনেক উপকার হয়েছে।
জানা গেছে, সম্প্রতি অধীনে স্টার্ট ফান্ড বাংলাদেশের আর্থিক সহায়তায় সুনামগঞ্জের দিরাই, শাল্লা এবং মৌলভীবাজারের রাজনগর উপজেলার মোট ১ হাজার ৫৬০টি পরিবারের মাঝে ৯৪ লাখ ৯১ হাজার ৬০০ টাকা বিতরণ করা হয়েছে। উপকারভোগীদের নিজস্ব বিকাশ নম্বরে সরাসরি এই অর্থ পাঠানো হয়।
প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, অতিবৃষ্টিতে ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত ও হতদরিদ্র পরিবারের মধ্যে এ সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এর মধ্যে দিরাই উপজেলার রফিনগর, চরনারচর, সরমঙ্গল ও তাড়াল ইউনিয়নের ৮৪৩টি পরিবার, শাল্লা উপজেলার আটগাঁও, হবিবপুর ও শাল্লা সদর ইউনিয়নের ৩৫৪টি পরিবার এবং রাজনগর উপজেলার ফতেপুর ও কামারচাক ইউনিয়নের ৩৬৩টি পরিবার সহায়তার আওতায় আসে।
মোট ১ হাজার ৫৬০টি পরিবারের মধ্যে বিতরণ করা অর্থ অনুযায়ী প্রতিটি পরিবার গড়ে প্রায় ৬ হাজার ৮৪ টাকা করে সহায়তা পেয়েছে।
ফিল্ড সুপারভাইজার তফাজ্জুল হোসেন,খোরশেদ সরদার বলেন, টানা চার দিনের অক্লান্ত পরিশ্রমের মাধ্যমে স্বচ্ছ ও দ্রুত প্রক্রিয়ায় উপকারভোগীদের হাতে সহায়তার অর্থ পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়েছে।
সিএনআরএসের উপজেলা কো-অর্ডিনেটর জসিম উদ্দিন তালুকদার বলেন, দরিদ্র ও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের মধ্যে এই সহায়তা প্রদান করা হয়েছে।