গোলাম দস্তগীর খান ছামিন:
সিলেটের গোলাপগঞ্জ উপজেলার ঢাকাদক্ষিণ ও লক্ষণাবন্দ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী এলাকায় অবস্থিত ঐতিহ্যবাহী কৈলাশ টিলা। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, আধ্যাত্মিক ইতিহাস ও লোককথার সঙ্গে নিবিড়ভাবে জড়িয়ে থাকা এ স্থানটি পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠার অপার সম্ভাবনা থাকলেও দীর্ঘদিন ধরে রয়েছে অবহেলিত। পরিকল্পিত উদ্যোগ ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো গড়ে তোলা হলে কৈলাশটিলা হয়ে উঠতে পারে গোলাপগঞ্জের অন্যতম আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য। স্থানীয়দের ভাষ্য, কৈলাশ টিলার সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে সিলেটের আধ্যাত্মিক ইতিহাসের নানা স্মৃতি।

লোকমুখে প্রচলিত রয়েছে, হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর সফরসঙ্গী ৩৬০ আউলিয়ার অন্যতম হযরত শাহ নূর (রহ.) এ টিলায় নির্জনে ধ্যান-সাধনায় সময় কাটাতেন। টিলার সবুজ প্রকৃতি, নিরিবিলি পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য স্থানটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য। তবে এসব ঐতিহাসিক জনশ্রুতির সত্যতা নিরূপণে প্রামাণ্য তথ্য ও গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে। ‘কই লাশ’ থেকে কৈলাশ—প্রচলিত লোককথা কৈলাশ টিলার নামকরণ নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে একটি লোককথা প্রচলিত আছে। প্রবীণদের মুখে প্রচলিত বর্ণনা অনুযায়ী, হযরত শাহ নূর (রহ.)-এর মৃত্যুর পর তাঁর জানাজায় অংশ নিতে আসা লোকজন কাফনের কাপড় ছাড়া মরদেহ দেখতে না পেয়ে বিস্মিত হন। এ সময় সিলেটি আঞ্চলিক ভাষায় কেউ কেউ ‘কই লাশ?’ বলে প্রশ্ন করেন। স্থানীয় জনশ্রুতি অনুসারে, এই কথার সূত্র ধরেই পরবর্তী সময়ে স্থানটির নাম ‘কৈলাশ’ হয়েছে বলে ধারণা করা হয়।

তবে এ নামকরণের ঐতিহাসিক ভিত্তি সম্পর্কে নিশ্চিত হতে আরও অনুসন্ধান প্রয়োজন।পরিকল্পিত উদ্যোগে উন্মোচিত হতে পারে পর্যটন সম্ভাবনা স্থানীয়দের মতে, যথাযথ পরিকল্পনা ও কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হলে কৈলাশ টিলা গোলাপগঞ্জের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে গড়ে উঠতে পারে। এ জন্য টিলার প্রাকৃতিক পরিবেশ ও ঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি পর্যটকদের যাতায়াত ব্যবস্থা, নিরাপত্তা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করা জরুরি।

তাঁরা কৈলাশ টিলা সরেজমিন পরিদর্শন, পর্যটন সম্ভাব্যতা যাচাই এবং স্থানীয় জনগণের মতামতের ভিত্তিতে পরিবেশবান্ধব উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। এ ক্ষেত্রে উপজেলা ও জেলা প্রশাসন, সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধি, পর্যটন কর্তৃপক্ষ এবং সরকারের দায়িত্বশীল দপ্তরগুলোর কার্যকর ভূমিকা প্রত্যাশা করছেন স্থানীয়রা।

তাঁদের মতে, টিলার প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও লোকঐতিহ্য সংরক্ষণের পাশাপাশি এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকা ইতিহাস নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে এলাকাটির ভূগর্ভস্থ গ্যাসসম্পদ নিয়ে প্রচলিত সম্ভাবনার বিষয়টিও যথাযথ কারিগরি অনুসন্ধানের মাধ্যমে যাচাই করা যেতে পারে।প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, ঐতিহ্য ও আধ্যাত্মিক জনশ্রুতির সমন্বয়ে কৈলাশ টিলা হয়ে উঠতে পারে গোলাপগঞ্জের একটি সম্ভাবনাময় পর্যটন গন্তব্য। তবে এ সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজন প্রামাণ্য ইতিহাস অনুসন্ধান, পরিবেশ সংরক্ষণ, পরিকল্পিত উন্নয়ন এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সমন্বিত উদ্যোগ।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *